মধুপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ওয়ানগালা উৎসব

51

স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইলের মধুপুরে রোববার (২১ নভেম্বর) গারোদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ওয়ানগালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবছর হেমন্তের শুরুতে ফসল ঘরে তোলার পর দেবতার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও মনোবাসনার জন্য এ উৎসব পালন করা হয়। এর আগে নতুন খাদ্যশস্য ভোজন নিষেধ থাকে এ সম্প্রদায়ের জন্যে। উৎসবকে কেন্দ্র করে গারো সম্প্রদায়ের প্রতিটি ঘর-বাড়ি ও স্থাপনা সাজানো হয় আর্কষনীয় রুপে।
টাঙ্গাইলের মধুপুরে বনে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নতুন ফসল ঘরে তুলতে নানা উৎসবের মাধ্যমে দেবতা ‘মিসি সালজং’কে উৎসর্গ করে পালিত হলো গারো সম্প্রদায়ের ওয়ানগালা উৎসব বা গারো নবান্ন উৎসব। আসছে বছরে যেন ফসল ভালো হয়, সন্তান ও পরিজনরা ভালো থাকে, দেশের যেন মঙ্গল হয়, এই কামনায় টাঙ্গাইলের মধুপুরের পীরগাছা সেন্ট পৌলস হাই স্কুল মাঠে রোববার (২১ নভেম্বর) সারাদিন ব্যাপি ‘গারো’ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব- ওয়ানগালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেবতাকে উৎসর্গ করলে পরবর্তী বছরে ফসল ভালো হয়। উৎসবকে কেন্দ্র করে গারো সম্প্রদায়ের প্রতিটি সদস্য সকালে স্নান করে শুদ্ধ কাপড় পড়ে হাজির হন অনুষ্ঠানস্থলে। একেঅপরের মঙ্গল কামনায় পরিয়ে দেয়া হয় তিলকের ফোটা। দিনব্যাপী পালিত হয় নানা আচার অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠান এক মিলন মেলায় পরিণতি হয়েছে বলে জানান গারো সম্প্রদায়ের লোকজন।

‘মিসি সালজং’ বা শস্য দেবতার ওপর নির্ভর করে ফসলের ভালো ফলন। নতুন ফল ও ফসল ঘরে উঠবে, তার আগে কৃতজ্ঞতা জানাতেই হবে শস্যদেবতার প্রতি। গত বছর করোনা প্রকোপের কারনে সীমিত পরিসরে এ উৎসব হলেও, এবছর করোনা প্রকোপ অনেকটাই কম থাকায় জমকালো আয়োজনে পালিত হয়েছে ওয়ানগালা উৎসব, এমনটাই জানিয়েছেন মধুপুরের পীরগাছা ধর্মপল্লী’র পাল পুরোহীত লরেন্স রিবেরু সিএসসি।সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত শস্যদেবতাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ও নতুন ফসল খাওয়ার অনুমতির জন্য নেচে-গেয়ে উদযাপন করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসব। একইসঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল কামনা করা হয়েছে শস্যদেবতার কাছে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ