ভোটের আগে ভাই-ভাই, ভোটের পরে নাই-নাই

73

1আব্দুল্লাহ আল মাসুদঃ
“ভোটের আগে ভাই-ভাই, ভোটের পরে নাই-নাই, হিন্দু-মুসলিম ভাই-ভাই মাদকমুক্ত সমাজ চাই।” এমন মন্তব্য করে ভোটার জিল্লুর রহমান বলেন, প্রতিবার ভোট এলে আমাদের অনেক কদর বাড়ে। কিন্তু ভোটের পর আর কোন খবর থাকে না। তারপরও ভোট অনেক আনন্দের। এবার প্রার্থীকে বুঝেই যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিব। পৌরসভা নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ততই জমে উঠছে। এখন রীতিমত ভোটজ¦রে আক্রান্ত পৌর এলাকাগুলোর পাড়া-মহল্লা আর মোড়ের বাজার ও চা’র স্টলগুলো। সবখানেই এখন ভোটের হাওয়া। বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি, শ্লোগান ও ওয়াদা করে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছে। নির্বাচনী এলাকায় ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের সাদা-কালো বাহারি সাইজের পোস্টারে। সেই সাথে মাইকের প্রচারনা।
টাঙ্গাইলের ৮টি পৌরসভার সবখানের চিত্র এখন এমনই। পৌরসভা নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীরাও এখন তৎপর হয়ে উঠেছে। প্রতীক বরাদ্দের পর আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি(এ), জেপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিশের ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীরা ভোরের ঘণ কুয়াশা ও রাতের কনকনে শীত উপেক্ষা করে বাড়ি বাড়ি, মহল্লায় মহল্লায় গিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছে।
মামলা-হামলার ভয়ে ঝিমিয়ে পড়া বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ সময় তারা নানা কারণে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ছিলেন না। চায়ের টেবিলের রাজনৈতিক আলোচনাও ছিল সীমিত। পৌরসভায় মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় তারা এখন পুরোদমে মাঠে নেমেছেন। তারা মাঠে যাওয়ায় সমর্থকদের মাঝেও প্রাণ ফিরে এসেছে। রাজনীতিতে শাসক দল আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরাও দলীয় প্রার্থীর প্রতীক নৌকা হওয়ায় ঘরে বসে না থেকে ভোটের মাঠে তৎপর হয়ে উঠেছেন। তাদের কথা দলীয় প্রতীকধারী অর্থাৎ নৌকা পরাজিত হবে এটা তারা কোনভাবেই মেনে নিতে পারবেন না। স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ থাকলেও দলীয় প্রতীকের কারণেই তারা মাঠে নেমেছেন বলে জানান। প্রার্থীদের পাশাপাশি তাদের কর্মীসমর্থকদের নেই চোখে ঘুম। তাই প্রার্থী ও সমর্থকদের হাতে হাতে এখন নির্বাচনী লিফলেট। সবাই ভোটের মাঠে সবশক্তি নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন।
এবার প্রার্থীরা দিচ্ছেন নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। সারাদিন ভোটের প্রচার-প্রচারণা শেষে গভীর রাতে পরের দিনের কর্মপন্থা নির্ধারণ করছেন। সকাল হলেই চলছে চায়ের কাপে ভোটাদের হিসাব নিকাশ। প্রচার পাগল মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। কেউ কেউ নিজেদের প্রার্থীর প্রচার চালাতে নিচ্ছেন নানা রকমের কৌশল। কেউ ভ্যান, সাইকেল, রিক্সার হাতলে পছন্দের প্রার্থীর সাদাকালো পোস্টার ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন শহরের অলিতে গলিতে। কেউবা মোটর সাইকেলের পেছনের রেজিস্ট্রেশন প্লেট ঢেকে ফেলেছেন পছন্দের প্রার্থীর স্টিকার দিয়ে। সমর্থকরা তাদের প্রার্থীদের নিয়ে যে যেমন করে পারছে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের জানান, দলীয়ভাবে নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীদের জয়যুক্ত করতে সবাই একত্রে কাজ করছেন। কখনও মাঠে আবার কখনও দূর থেকে প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের উৎসাহ যোগাচ্ছেন। আট পৌরসভায়ই এবার দলীয় প্রার্থীদের জয়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে ভোটারার নৌকা মার্কায় ভোট দিবে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম তোফা জানান, নির্বাচন সুষ্ট হলে এবং ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে পারলে আমাদের প্রার্থীরা জয়লাভ করবে। সরকারের উচিত সুষ্ট নির্বাচনের স্বার্থে সেনাবাহিনী নামানো দরকার।

ব্রেকিং নিউজঃ