ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই কার্পেটিং

114

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই কার্পেটিং করে সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজ শেষ করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বিশেষ করে রাতের বেলায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক বর্ধিতকরণের কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। সড়কটির বর্ধিতকরণ কাজে সরানো হয়নি বিদ্যুতের খুঁটিগুলো। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের মাঝখানে খুঁটি রেখেই কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করেছে। এতে ভূঞাপুর উপজেলার ধুবলিয়া মোড় থেকে বেতুয়া পলশিয়া পর্যন্ত সড়কের কয়েক জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে সড়কের ওপর। খুঁটিগুলো এখন পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে। প্রতিনিয়ত শীতের কুয়াশায় খুঁটিগুলোর সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়া ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে পৌরসভা পর্যন্ত সড়কের ওপরও খুঁটি রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে খুঁটিগুলোতে লাল কাপড় বেঁধে রেখেছে স্থানীয়রা। প্রায় ২৯ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্নস্থানে বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে যা সড়ক থেকে অপসারণ করা হয়নি।
জানা গেছে, ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক বর্ধিতকরণের কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। প্রায় ২৯ কিলোমিটার সড়কের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা বিল্ডার্স। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা বিল্ডার্সের কাছ থেকে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ কিনে নিয়ে সাব ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে টাঙ্গাইলের দু’জন এবং জামালপুরের একজন ঠিকাদার। তবে প্রথম থেকেই ওই সড়ক সম্প্রসারণের কাজ নি¤œমানের অভিযোগসহ উন্নয়ন কাজে ভোগান্তির শিকার স্থানীয়রা। এতে সড়কের পাশ দিয়ে থাকা পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবির খুঁটিগুলো না সরিয়ে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ করছে সওজ বিভাগ। এতে ঝুঁকি নিয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল করছে। ফলে প্রতিনিয়ত রাতে এবং সকালে ঘন কুয়াশার কারণে বিদ্যুতের খুঁটিতে লেগে ছোট ছোট যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আহত হচ্ছে অনেক মানুষ। উপজেলার বেতুয়া হতে তারাকান্দি পর্যন্ত সড়কের শতাধিক এমন বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে সড়কের ওপর।
এদিকে বিভিন্নস্থানে সড়কের কাজ শেষ হলেও সরানো হয়নি খুঁটি। ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কে কাজ করা সাব-ঠিকাদার সুমন ও জনি টিনিউজকে জানান, বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিল পরিশোধ করেছে সওজ। তাদের বারবার খুঁটি সরাতে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। তারপরও বিদ্যুৎ অফিস সেগুলো অপসারণের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই সড়কের ওপর খুঁটি রেখে কাজ শেষ করতে হয়েছে।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ভূঞাপুর অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম টিনিউজকে জানান, সড়কের ওপর খুঁটিগুলো খুব দ্রুতই সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ভূঞাপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ (পিডিবি) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, অনেকগুলো খুঁটি সড়কের ওপর রয়ে গেছে। সেগুলো অপসারণ করে কোথায় স্থাপন করা হবে সেই জায়গা নির্ধারণ করে দিতে হবে সওজ কর্তৃপক্ষের। কারণ ব্যক্তি মালিকানা জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করা যাবে না। সওজের জায়গায় খুঁটি স্থাপন করতে হবে। এই কারণে খুঁটি অপসারণ সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ওই কর্তৃপক্ষই অপসারণ করবে, পিডিবি নয়। দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠান।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিউল হোসেন টিনিউজকে বলেন, সড়ক সম্প্রসারণের আগেই পিডিবিকে বিদ্যুতের খুঁটি অপাসরণের জন্য লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে পিডিবি কর্তৃপক্ষ সার্ভে করে খুঁটি অপসারণের জন্য যে টাকা চেয়েছিল তা পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে যেগুলো অপসারণ করা হচ্ছে না। বিষয়টি পিডিবি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যেহেতু পিডিবিকে টাকা দেওয়া হয়েছে। সেহেতু তারাই পল্লী বিদ্যুতের সঙ্গে সমন্বয় করে খুঁটি অপসারণের কাজ করবে। সম্প্রতি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সড়ক থেকে খুঁটি সরাতে আলাদা টাকা দাবি করছে। সড়কের ওপর খুঁটি থাকায় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ