ভূঞাপুরে স্কুলের সরকারি টয়লেট ও বাউন্ডারী ভেঙে মার্কেট নির্মাণ!

163

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মার্কেট নির্মাণ করতে ভেঙে হচ্ছে সরকারিভাবে নির্মিত কয়েকটি টয়লেট। এছাড়াও নেয়া হয়েছে সরকারি অর্থে সদ্য নির্মিত ১০ লাখ টাকার নিরাপত্তা বেষ্টনি (বাউন্ডারী) ভেঙে ফেলার উদ্যোগ। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নাম ভাঙিয়ে বিদ্যালয়ের প্রশ্রাবখানাসহ দশটি টয়লেট ও বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙে মার্কেটের ১৩ কক্ষ তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক লাল মাহমুদ মিয়ার বিরুদ্ধে। অনুমতি ছাড়া সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনা ভেঙে বাণিজ্যিক অবকাঠামো নির্মাণের বিধান নেই জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযোগে জানা গেছে, ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি গেট ও নিরাপত্তা বেষ্টনি (বাউন্ডারী) নির্মাণের জন্য ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ দেয় জেলা পরিষদ। পরে এর কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজেশ এন্টারপ্রাইজ। পরে রাজেশ এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে সাব ঠিকাদার হিসেবে বাউন্ডারী ওয়ালের কাজ করেন বিদ্যালয়ের কোয়াব সদস্য খন্দকার আহম্মদ শাহ মোয়াজ্জিন। তবে ওই বাউন্ডারী ওয়াল ও গেট নির্মাণেও রয়েছে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ। প্রায় ৭ মাস আগে ওই বাউন্ডারীর কাজ শেষ করা হয়। একইভাবে করোনায় বন্ধ থাকার সুযোগে নিরাপত্তা বেষ্টনি বাউন্ডারীর ভিতরে রাতারাতি তৈরি করা হয়েছে শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বহিরাগতদের জন্য ১৩ টি বাণিজ্যিক স্থাপনা। যা চালু করতে ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে ছাত্রীদের পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য প্রকল্পের নির্মিত টয়লেটগুলো। মার্কেট চালুর জন্য ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়ায় রয়েছে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাউন্ডারী। এতে বিদ্যালয় খোলার পর ছাত্রীদের পয়ঃনিষ্কাশনের অসুবিধাসহ বখাটেদের উৎপাত বেড়ে যাবার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
রব্বানী নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি টিনিউজকে জানান, কয়েকমাস আগে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারী নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন ভিতরে দেখছি মার্কেট নির্মাণ হচ্ছে। মার্কেটের জন্য এবার বাউন্ডারীটি ভেঙে ফেলা হবে। তাদের অভিযোগ, করোনাকালে যখন স্থবির শিক্ষা ব্যবস্থা আর সেই সুযোগ আর জেনে বুঝেই অপচয় করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় এই অর্থ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টাকা উর্পাজনের জন্য সরকারিভাবে নির্মিত স্থাপনা ভেঙে বিদ্যালয়ে মার্কেট নির্মাণ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য টিনিউজকে জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার একক ক্ষমতাবলে আর প্রশাসনের কোন অনুমতি না নিয়েই বিদ্যালয়ের ভিতর মার্কেট নির্মাণ করছেন। প্রধান শিক্ষকের নামেও দোকান বরাদ্দ রয়েছে। মার্কেট নির্মাণের জন্য টয়লেট ভাঙা হয়েছে। এরপর বাউন্ডারী ভাঙা হবে। এতে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘিœত হওয়ার পাশাপাশি বহিরাগতদের উৎপাত বেড়ে যাবে।
ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাল মাহমুদ মিয়া টিনিউজকে জানান, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য টয়লেট ও বাউন্ডারীসহ যেসব স্থাপনা রয়েছে। সেগুলো ভাঙার জন্য ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি রয়েছে। মার্কেটের দোকানগুলো বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও বহিরাগতদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যারা দোকান বরাদ্দ নিয়েছে তাদের টাকা দিয়েই মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। পরবর্তিতে সেই টাকা জামানত হিসেবে থাকবে।
ভূঞাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম টিনিউজকে জানান, বিদ্যালয়ে ২০১২-১৩ অর্থ বছরে সেকায়েপ প্রকল্পে ছাত্রীদের জন্য টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকমাস আগেই সরকারি টাকা ব্যায়ে সেখানে বাউন্ডারী নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন অনুমতি ছাড়াই সেগুলো ভেঙে মার্কেট নির্মাণ করছে বলে শুনেছি। করোনাকালীন বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয় না। এরই সুযোগ নিয়ে সরকারি স্থাপনা ভেঙে মাকের্ট নির্মাণ করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান টিনিউজকে জানান, বিদ্যালয়ের সরকারি স্থাপনা বা ছাত্রীদের জন্য নির্মিত টয়লেট ভাঙার জন্য কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। যদি স্থাপনা ভেঙে মার্কেট নির্মাণ করা হয়। তাহলে ওই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ