ভূঞাপুরে সংখ্যালঘুর বাড়িতে আগুন ॥ ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

102

ap333ভূঞাপুর সংবাদদাতাঃ
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার হিন্দু অধ্যুষিত ফলদা ইউনিয়নের ফলদা গ্রামের স্মরণ দত্তের বাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা গেছে, ফলদা হিন্দু সম্প্রদায়ের ৯দিনব্যাপি সার্বজনীন কালিপূজা মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়। এ উপলক্ষ্যে এলাকার সকল হিন্দুসম্প্রদায় ফলদা কেন্দ্রীয় কালি মন্দির প্রাঙ্গনে সমবেত হয়। কালিপূজা চলাকালীন সময়ে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে আগুনের চিৎকার শুনে লোকজন গিয়ে দেখে পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি স্মরণ দত্তের বসত ঘরে আগুনে জ্বলছে। দ্রুত খবর পেয়ে ভূঞাপুর ফায়ার সার্ভিসে কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ঘরের সব আসবাবপত্র, স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকাসহ পুরো ঘরটি পুড়ে যায়।

347852স্মরণ দত্ত জানান, তার বাড়ির সকল সদস্যরা কালিপূজা উপলক্ষে ঘর তালাবদ্ধ করে কালিমন্দিরে ছিলেন। খালিবাড়িতে কে বা কারা অগ্নিসংযোগ করেছেন বলে তিনি জানান। কারণ ইতোপূর্বে কেন্দ্রীয় কালি মন্দির, ঘোষবাড়ি কালি মন্দির, সাবেক চেয়ারম্যান মৃত শ্যাম শংকর দত্তের বাড়িসহ ৮বার অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে কোন উল্লেখযোগ্য তদন্ত করে অপরাধী সনাক্ত না করার কারণে তারই ধারাবাহিকতায় নবমবারের মত এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটানো হয় বলে স্থানীয়রা জানান। রাতেই ভূঞাপুর পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বুধবার সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল আওয়াল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসলাম উদ্দীন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিরঞ্জন কুমার সরকার, ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফজলুল কবীর, গোপালপুর পৌর মেয়র রকিবুল হক ছানাসহ ভূঞাপুর ও গোপালপুরের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান স্মরণ দত্তকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ১ লাখ টাকা প্রদান করেন। তিনি সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা মন্দির ও আশপাশে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন ও নিয়মিত পাহারার ব্যবস্থার জন্য তিনি প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। তিনি ৯ দিনব্যাপি কালিপূজা চালিয়ে যাওয়ার জন্যও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

ব্রেকিং নিউজঃ