ভূঞাপুরে মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদন্ড

169

আদালত সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ গণধর্ষণ মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার সময় টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক খালেদা ইয়াসমীন এ রায় দেন। এ সময় প্রত্যেক আসামীকে এক লাখ টাকা করে অর্থদন্ডও দেয়া হয়।
ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- মধুপুর উপজেলার চারালজানী গ্রামের বদন চন্দ্র মণি ঋষির ছেলে সঞ্জিত ঋষি (২৮), একই উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের দিগেন চন্দ্র শীলের ছেলে গোপী চন্দ্র শীল (৩০), একই এলাকার সুনীল চন্দ্র শীলের ছেলে সাগর চন্দ্র শীল (৩৩), সুনীল মণি ঋষির ছেলে সুজন মণি ঋষি (২৮) ও মণিন্দ্র চন্দ্রের ছেলে রাজন চন্দ্র (২৬)। মামলার রায় ঘোষণার সময় আসামী সঞ্জিত ঋষি ও গোপী চন্দ্র শীল আদালতে উপস্থিত ছিল। বাকি তিন আসামি সাগর চন্দ্র, সুজন মনি ঋষি ও রাজন চন্দ্র জামিনে বের হয়ে আত্মগোপন করেছেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (বিশেষ পিপি) অ্যাডভোকেট একেএম নাসিমুল আকতার টিনিউজকে বলেন, বিগত ২০১২ সালে দন্ডিত আসামিদের মধ্যে সাগর চন্দ্র শীলের সঙ্গে মোবাইলে পরিচয় হয় ভূঞাপুর উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের ওই মাদরাসা ছাত্রীর। একই বছরের (১৫ জানুয়ারী) ওই ছাত্রী সকালে বাড়ি থেকে মাদরাসায় যাওয়ার পথে শালদাইর ব্রীজের কাছে পৌঁছলে সাগর কৌশলে একটি সিএনজিতে তাকে কালিহাতীর এলেঙ্গায় নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে মাদরাসা ছাত্রীকে অপহরণ করেন সাগর চন্দ্র ও তার সঙ্গীরা। মধুপুর উপজেলার চারালজানী গ্রামে তার বন্ধু রাজনের বাড়িতে গিয়ে উঠে। সেখানে তার চার বন্ধু ছাত্রীকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। সাগর হিন্দু বলে তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করে মেয়েটি। এ কারণে ওই রাতে সাগর তার বন্ধু রাজনের বাড়িতে দুইদিন আটকে রেখে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে। পরে (১৭ জানুয়ারি) রাতে তাকে বংশাই নদীর তীরে নিয়ে আবার তারা পাঁচজনে মিলে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে ফেলে যায়। পরে বিগত ২০১২ সালের (১৮ জানুয়ারি) ওই এলাকার বংশাই নদীর পাড়ে অর্ধ উলঙ্গ ও অজ্ঞান অবস্থায় মাদরাসা ছাত্রী পড়ে থাকে। এরপর সকালে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। পরে ওই ছাত্রীর জ্ঞান ফিরে এলে সে তার ভাইকে ফোন দেয়। ছাত্রীর ভাই মধুপুর থেকে আহত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে ভুঞাপুর থানায় নিয়ে আসে। পরে ধর্ষিতা ওই ছাত্রী বাদি হয়ে ৫ ধর্ষকের নামে ভূঞাপুর থানায় একই বছরের (১৯ জানুয়ারি) মামলা দায়ের করেন। পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ধর্ষিতার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট একেএম নাসিমুল আকতার টিনিউজকে আরও বলেন, বিগত ২০১২ সালের (১৯ জানুয়ারি) আসামি সুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সুজন তার জবানবন্দিতে সাগর, রাজন, সঞ্জিত ও গোপি চন্দ্র জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পুলিশ তদন্ত শেষে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিগত ২০১৫ সালের (২৯ অক্টোবর) আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এ মামলায় ম্যাজিস্ট্রট, চিকিৎসক, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মামলার বাদী ভিকটিমসহ মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে এই আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী ২০০৩ এর ধারা ৯(৩)/৩০ ধারায় এই রায় দিয়েছেন।
মামলায় বিবাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক ও গোলাম মোস্তফা মিঞা। বিবাদী পক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা মিঞা এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে টিনিউজকে বলেন, আমরা এ রায়ে ন্যায় বিচার পাইনি। আমরা উচ্চ আদালতে আবেদন করবো।
এদিকে দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, এ ঘটনার সময় পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করে আসামীদের গ্রেফতার করেছে। পুলিশের সঠিক পদক্ষেপের কারণে ধর্ষিতা আজ সঠিক বিচার পেয়েছে। এ রায় যুগান্তকারী একটি রায়। এতে করে ধর্ষকরা সাবধান হয়ে যাবে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ