ভূঞাপুরে ব্রীজে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ ॥ জমিতে জলাবদ্ধতা

81

নাসির উদ্দিন, ভূঞাপুর ॥
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের নিকরাইলে সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের পায়তারায় মেতে উঠেছে একটি মহল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছে।
সরেজমিনে এবং ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের নিকরাইল বাজার সংলগ্ন খাল হতে ধলেশ্বরী নদী পর্যন্ত সরকারি খালটি এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যাপক ভূমিকা রাখে। কিন্তু গত এপ্রিল মাসে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের অর্ন্তভুক্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের শাকিল বাহামভুক্ত স্বজনরা মাছ চাষের জন্য নিকরাইল বাজার সংলগ্ন ব্রীজের নিচে বাঁধ দিয়ে খালটি বন্ধ করে দেয়। এতে খালের উজানের দিকে প্রায় ১৫শ একর তিন ফসলি আবাদি জমিতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সম্প্রতি রোপা আমন রোপন করতে পারছে না চাষিরা।
এদিকে, এসব ফসলি জমিতে রোপা আমন চাষের জন্য এবং জলাবদ্ধতা নিরশনের জন্য খালের বাঁধ কেটে দেয়াকে কেন্দ্র করে শনিবার (৯ অক্টোবর) এলাকাবাসী এবং ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের স্বজনদের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহতরা হলেন- নিকরাইল গ্রামের জুরান আলী ছেলে হামিদুল, সোহেল রানা ও শহিদুল।
অন্যদিকে, এলাকার ভুক্তভোগীরা স্থানীয়ভাবে দফায় দফায় বৈঠক করে সুরহা না পেয়ে গত (৩ মে) ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর খালের উপর ব্রীজের মুখটি কেটে দেওয়ার জন্য একটি লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু এতেও কোন ফল না পেয়ে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব বরাবর দুই শতাধিক ভুক্তভোগীদের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত (২ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়। চিঠিতে (১৩ সেপ্টেম্বর) উভয় পক্ষদ্বয়কে নিয়ে তদন্তের দিন নির্ধারিত ছিল। সেখানে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে তদন্ত হলেও ভুক্তভোগীরা কোন ফল পায়নি বলে অভিযোগ করেন।
অপরদিকে, ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের স্বজনরা খালের উপর ব্রীজের মুখ থেকে প্রায় ২শ মিটার দূরে পাকা রাস্তা কেটে আবাদি জমির উপর দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করে। এতে স্থানীয়রা বাধা দিলে দফায় দফায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ফলে যেকোন মুহুর্তে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে। ভুক্তভোগী জুরান আলীর ছেলে হামিদুল টিনিউজকে জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি খালের উপর ব্রীজের মুখ মাটি দিয়ে ভরাট করে জোর করে আমাদের জমির উপর দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কথা শুনে আমার বাবা স্ট্রোক করে বর্তমান জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমরা খাল খননে বাঁধা দিলে ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের স্বজন একেএম ইকবাল, আব্দুর রশিদ, ইকরাম উদ্দিন, তন্ময় প্রধান ও আসাদুল ইসলাম মিন্টুসহ বেশকিছু লোকজন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করলে আমরা গুরুতর আহত হই।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুল ওহাব টিনিউজকে জানান, সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান টিনিউজকে জানান, ঘটনাটি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ