ভূঞাপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে দু’টি মামলা

201

oniyom-durnitiস্টাফ রিপোর্টারঃ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাল মামুদ মিঞার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন তরফদার প্রধান শিক্ষক লাল মামুদ মিঞা ও করণিক নুরুল ইসলামকে আসামী করে টাঙ্গাইল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেছেন।
জানা যায়, বিগত ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন লাল মামুদ মিঞা। প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়ার পর থেকেই অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিগত ২০১৪ সালের ১০ জুন বিদ্যালয়ের ১৪টি মেহগনি গাছ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ও ওই বছরেরই ২৭ জুলাই আরও ৫টি মেহগনি গাছ ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা বিক্রি করেন। গাছ বিক্রির ওই টাকা প্রধান শিক্ষক লাল মামুদ মিঞা বিদ্যালয় ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করেন। এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১১০০ জন ছাত্রীর নিকট হতে ১০০ টাকা করে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আদায় করে তা ব্যাংকে জমা না করে নিজের পকেটে তোলেন। গত বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ বাবদ অতিরিক্ত আদায়কৃত ২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ প্রধান শিক্ষক লাল মামুদ মিঞার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজের জন্য ক্রয় করা ২০ হাজার টাকার ইট বালু নিজ বাসার কাজে ব্যবহার করেছেন। ৩০ হাজার টাকার সরকারি পুরাতন বই বিক্রি করে সে টাকাও ভরেছেন নিজের পকেটে। সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মেধাবী ছাত্রীদের বৃত্তি, উপবৃত্তি ও পিটিএ সদস্যদের টাকা প্রদান না করে স্বাক্ষর জাল করে সেই টাকা নিজে গ্রহন করেছেন। প্রধান শিক্ষক লাল মামুদ মিঞা এ বছরের ১৩ আগষ্ট একটি ভূয়া রেজুলেশন তৈরি করে ১ লাখ টাকা ও নিয়ম বহির্ভূত আরও ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। আর এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন তরফদার বাদী হয়ে গত ১৬ জুলাই প্রধান শিক্ষক লাল মামুদ মিঞা ও করণিক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রথম গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক লাল মামুদ মিঞাকে একমাত্র আসামী করে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন। গত ১৬ জুলাই দায়ের করা মামলায় প্রধান শিক্ষক ও করণিকের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে আদালত। আগামী ১৫ নভেম্বর তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অপর মামলায় জেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জেলা শিক্ষা অফিসার শফিউল্লাহ জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারি পরিদর্শক আসাদুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে ওই তদন্ত কমিটি তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাল মামুদ মিঞা বলেন, আমার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। বিদ্যালয়ের কোন টাকা আমি আত্মসাৎ করিনি। তদন্ত কমিটির নিকট তার প্রমান দিয়েছি।
ভুঞাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহিনুর ইসলাম বলেন, অর্থসাতের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে শুনেছি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে একটু সমস্যা রয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল্লাহ বলেন, মামলা ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রমানিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ