ভূঞাপুরে ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

89

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অনুমোদনহীন বেসরকারি একটি ক্লিনিকে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মাসহ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে টাঙ্গাইল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ওই কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় অনুমোদনহীন ক্লিনিককে সিলগালা করেছে গঠিত তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার (টিএইচও) নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি ভূঞাপুর বাজারে অবস্থিত মা ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করেন। এরআগে বুধবার (২৫ মে) রাতে অপারেশন টেবিলে অস্ত্রপ্রচারকালে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে। প্রতিষ্ঠান সিলগালাকালে উপস্থিত ছিলেন ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান, তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু কনসালটেন্ট ডা. অনামিকা সাহা, মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত সাঈদা ও ডা. খাদেমুল ইসলাম।
বুধবার (২৫ মে) রাতে ভূঞাপুর উপজেলা পৌর শহরের কাঁচা বাজারে মা ক্লিনিক এন্ড হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার (ওটিতে) ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় লাইলী বেগমসহ (৩০) নবজাতক মারা যায় বলে দাবি করেছে স্বজনরা। এ ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ক্লিনিকের মালিক, কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সরা মরদেহ রেখে পালিয়ে যায়। লাইলী উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ি গ্রামের আতোয়ার হোসেনের স্ত্রী।
এ ঘটনায় ভূঞাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আল মামুন বলেন, রোগীকে মা ক্লিনিকে আনার পর তার উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। এ সময় অপারেশনের আগেই রোগীর বমি শুরু হয়। একপর্যায়ে সে মারা যায়।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, বুধবার (২৬ মে) রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ওই ক্লিনিকে পুলিশ পাঠানো হয়। তার আগেই ক্লিনিকের মালিক রফিকুল ইসলাম, চিকিৎসক ও নার্সরা পালিয়ে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে রাতেই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান বলেন, প্রসূতি নারী ও নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় সরকারি হাসপাতালের কোন চিকিৎসক জড়িত থাকলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন ডা. ফজল আবুল মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন খান বলেন, ঘটনা তদন্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনী কনসালট্যান্ট ডা. ফারহানা পারভীনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ওই ক্লিনিক পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, বুধবার (২৫ মে) বিকেলে লাইলী বেগমের প্রসব যন্ত্রণা হলে তার স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্মরত মেডিকেল অফিসার ডা. রুপক রোগীর শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এরপর সেখানে থাকা ক্লিনিকের দালাল শামছু রোগীর স্বজনদের কম টাকায় সিজার করানোর কথা বলে মা ক্লিনিক এন্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। বুধবার (২৫ মে) রাত ৮টার দিকে রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। ওই ক্লিনিকের সার্জারি চিকিৎসক ও ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এনামুল হক সোহেল ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ডা. আল মামুন অস্ত্রপচার শুরু করেন। পরে বুধবার (২৫ মে) রাত ১০ টার দিকে রোগী অপারেশন টেবিলেই মারা যায় বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।
এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্বজনদের না জানিয়ে রোগীর মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে টাঙ্গাইলে পাঠিয়ে দেয়ার সময় স্বজন ও স্থানীয়রা বাঁধা দেয়। পরে কৌশলে ক্লিনিক মালিক রফিকুল ইসলাম, কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেন।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ