ভূঞাপুরে আ.লীগের দুই বিদ্রোহী ॥ বিএনপিতে স্বস্তি

105

wvZzভূঞাপুর সংবাদদাতাঃ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌর নির্বাচনে নৌকার তলা ফুটো করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী। তারা দল মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূঞাপুর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র মাসুদুল হক মাসুদের নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ‘জগ’ প্রতীক নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-আহ্বায়ক আজাহারুল ইসলাম ও “মোবাইল” প্রতীক নিয়ে মাসুদুল হক মাসুদের আপন ভাতিজা পৌর  আওয়ামী লীগের সভাপতি তারিকুল ইসলাম চঞ্চল।
ভূঞাপুর পৌর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শ্রেণীর নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাসুদুল হক মাসুদ মেয়র থাকাকালে দলীয় নেতাকর্মীদের কোন মূল্যায়ন করেননি, এলাকার উন্নয়নে কোন কাঙ্খিত ভূমিকাও রাখতে পারেননি। এ বিষয়গুলো ভূঞাপুরের সব মহলেই বেশ জোরেশোরেই আলোচনায় আছে। ফলে এবার তার পক্ষে জনজোয়ার নেই। এ কারনে ভূঞাপুর পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র আমিনুল ইসলাম তালুকদার বিদ্যুত, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-আহ্বায়ক আজাহারুল ইসলাম ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি তারিকুল ইসলামক চঞ্চল মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পান বর্তমান মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ। আর এ কারণেই মাসুদুল হক মাসুদের নৌকার তলা ফুটো করতে তারা উঠে পড়ে লেগেছেন।
ভূঞাপুর পৌর শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হোটেল-রেস্তোরা, দোকান ও চা স্টলে এখন পৌর নির্বাচন নিয়ে আলোচনা। বিশেষ করে মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা বেশী। চার মেয়র প্রার্থীর মধ্যে এবার সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট আব্দুল খালেক মন্ডল। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে তিনি অনায়াশেই নির্বাচিত হবেন এমন কথা ঘুরে ফিরেই আসছে ভোটারদের মুখে। কারণ চার মেয়র প্রার্থীর তিন জনই আওয়ামী লীগের। শুধু ভোটার নয় ভূঞাপুর পৌর শহরে আসা বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও সূধীজনদের সাথে কথা বলে এমন আভাসই পাওয়া যায়। তবে ভোটারদের আশঙ্কা ভোটকেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মারলে তাদের ধারণা পাল্টে যেতে পারে। আব্দুল খালেক মন্ডল ইতিপূর্বে ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভূঞাপুর পৌরসভার প্রশাসক ও মেয়র ছিলেন। সততা ও দক্ষতার সাথে এসব দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দীর্ঘদিন উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারের নির্বাচনের মাঠে বেশ জোরেশোরেই আছেন তিনি। তাই ভোটাররা মনে করেন তিনিই বিজয়ী হবেন।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আজাহারুল ইসলাম আলোচনায় আছেন পারিবারিক প্রভাবের কারণে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, তার বড় ভাই আজিজুল হক আজীজ ভূঞাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার। সম্পৃৃক্ত আছেন আওয়ামী লীগের  রাজনীতির সঙ্গে। আরেক বড় ভাই মিনহাজ উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-আহবায়ক। এছাড়া সমাজ সেবামূলক কাজের কারণে পৌর শহরে তার সুনাম রয়েছে। এ কারণে তিনিও শক্তিশালী মেয়র প্রার্থী।
আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র মাসুদুল হক মাসুদের আপন ভাতিজা তারিকুল ইসলাম চঞ্চল তরুনদের কাছে জনপ্রিয়। এই নেতা নির্বাচনের জন্য দীর্ঘ সময় প্র¯ু‘তি নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। তিনি বলেন বাবা-মা ও পৌরবাসীর দোয়া নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। ভোট ডাকাতি না হলে নির্বাচনে বিজয়ী হবো।
উল্লেখ্য, ভূঞাপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৪জন, সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৮জন ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।

ব্রেকিং নিউজঃ