ভূঞাপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে হচ্ছে পাঠাগার সম্মেলন

101

স্টাফ রিপোর্টার।।
টাঙ্গাইলের ভ‚ঞাপুরে প্রত্যন্ত গ্রামে পাঠাগারের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা, লক্ষ্য উদ্দেশ্যে, দিক-নির্দেশনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তিনদিনব্যাপী পাঠাগার সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলনে প্রায় দুইশ পাঠাগারের চার শতাধিক সংগঠক সমবেত হয়েছেন। এরআগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাঠাগারের সংগঠকরা উপজেলার অর্জুনা গ্রামে তিনদিন থেকে পাঠাগারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।

 




ভ‚ঞাপুর উপজেলা সদর থেকে ৯ কিলোমিটার উত্তরে যমুনা নদীর তীরে অর্জুনা গ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই সম্মেলন। বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে অর্জুনা হাজী ইসমাইল খাঁ বেসরকারি কারিগরি কলেজ মাঠের পাশে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। কবি ও প্রবন্ধিক শংকর দাস এর উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তারা বলেন, বহুমাত্রিক দারিদ্রতা, চিন্তার দারিদ্রতার থেকে বের হয়ে আসতে হলে আমাদের বইয়ের কাছে যেতে হবে। বই পড়তে হবে এবং পাঠাগার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শুধু গ্রামে গ্রামে নয়, প্রতিটি বাড়িতেই পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে। মহা সূর্য্যের যে আলোর ঝলক তার নাম হচ্ছে পাঠাগার। পাঠাগার থেকেই আলো নিয়ে সমৃদ্ধ ও আলোকিত মানুষ হিসেবে আগামী প্রজন্ম গড়ে উঠবে। আলোকিত মানুষ হতে চাইলে বইয়ের সংস্পর্শে থাকতে হবে। তাই গ্রামে গ্রামে পাঠাগার আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে।

 




সম্মেলনের আহŸায়ক আবদুস ছাত্তার খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির। বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন, প্রকাশক খান মাহবুব, অধ্যাপক আফজাল রহমান, ভ‚ঞাপুর পৌরসভার মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ, এফবিসিসিআই’র পরিচালক আবু নাসের কথা সাহিত্যিক মার্জিয়া লিপি, কবি তাসলিমা জামান পান্না, কবি মিনাম আশরাফি প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব জুলিয়াস সিজার তালুকদার। উদ্বোধন শেষে অতিথিরা সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিত “প্রয়াগ” নামের একটি স্মরনিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।

সম্মেলন বৃহস্পতিবার উদ্বোধন হলেও, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন পাঠাগারের সংগঠকরা অজুর্না গ্রামে বুধবার বিকেল থেকে সম্মেলনস্থলে আসতে শুরু করেন। উদ্যোক্তরা জানান, সম্মেলনে দেশের সব অঞ্চল থেকেই প্রতিনিধিরা এসেছেন। বিকেল নাগাদ চারশতাধিক প্রতিনিধি যুক্ত হয়েছেন সম্মেলনে। তাবু টানিয়ে তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে হাজী ইসমাইল খাঁ বেসরকারি কারিগরি কলেজে।

 




গাইবান্ধার তুলসি ঘাট থেকে সম্মেলনে এসেছেন বিমল সরকার সাহিত্য সম্ভার ও পাঠাগারের সংগঠক শামীম সরকার। তিনি জানান, প্রত্যন্ত গ্রামে সারাদেশের পাঠাগার আন্দোলনে যুক্ত মানুষেরা মিলিত হয়েছে। পরস্পরের সঙ্গে তিনদিন পাঠাগারের সমস্যা সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। এতে পাঠাগার আন্দোলন জোরদার হবে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ি থেকে সম্মেলনে এসেছেন মিলন স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা আতিফ আসাদ। তিনি এবার পাঠাগার প্রতিষ্ঠার জন্য জয়বাংলা ইয়ূথ এওয়ার্ড লাভ করেছেন। তিনি জানান, এধরনের আয়োজন সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন পাঠাগারের সংগঠকদের উৎসাহিত করবে।

সম্মেলনের দ্বিতীয়দিন শুক্রবার “পাঠাগার বিষয়ক ৬টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিরাতেই সম্মেলনস্থলে গম্ভীরা, গাজির গান, ভাওয়াইয়া, লালন সংগীত ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন হবে। সম্মেলন উপলক্ষে সেখানে বই মেলা এবং গ্রামীণহস্ত শিল্প ও কারুশিল্পের মেলাও বসেছে।

 




ব্রেকিং নিউজঃ