মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা

69

এম কবির ॥
মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার (১৭ নভেম্বর) দিনব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাকে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়। মহান এই নেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে টাঙ্গাইলের সন্তোষে নানা কর্মসুচীর মধ্যদিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
জানা যায়, ১৮৮০ সালের (১২ ডিসেম্বর) সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে মওলানা ভাসানীর জন্ম। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তার জীবনের সিংহভাগই কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তার কৈশোর-যৌবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তার উদ্যোগে ১৯৫৭ সালে টাঙ্গাইলের কাগমারীতে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি সর্বদলীয় ওয়ার কাউন্সিলের উপদেষ্টা ছিলেন। স্বাধীনতার পর তার সর্বশেষ কীর্তি ছিল- ফারাক্কা লং মার্চ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন মওলানা ভাসানী। বঙ্গবন্ধুও তাকে শ্রদ্ধা করতেন পিতার মতো। শিক্ষা অনুরাগী ও গ্রাম-বাংলার নির্যাতিত মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন মহান এই নেতা।
বুধবার (১৭ নভেম্বর) সকাল থেকেই মওলানা ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে হাজারো মানুষের ঢল নামে। জেলা প্রশাসন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. এআরএম সোলায়মানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুকের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাহার আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌরসভার মেয়র সিরাজুল হক আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক এমএ রৌফসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, শামছুজ্জামান দুদু, গৌতম চক্রবর্তী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আহমেদ আজমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া জাতীয় পার্টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সদস্য এডভোকেট হাসনাত কাইয়ুমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনতা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রয়াত এই মহান নেতার মাজারে। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ক’দিন আগে থেকেই মওলানা ভাসানীর ভক্ত অনুসারী ও মুরিদানবৃন্দ সন্তোষে এসেছেন।
ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, জনগণের নেতা মজলুম নেতা মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা এখানে স্বরণ করতে আসেনি। আজকে তার কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি। আমাদের ব্যর্থতার জন্য আমরা এখানে এসেছি তোমার কাছ থেকে শক্তি নেয়ার জন্য। আমি আজকে আশা করেছিলাম প্রধানমন্ত্রী এখানে আসবেন। আপনি দুই সপ্তাহের জন্য বিশ্ব ভ্রমনে যেতে পারেন আর ১০ মিনিটের জন্য হেলিকপ্টারে করে এখানে এসে দোয়া চেয়ে নিতে পারেন। আপনার পিতা সব সময় বিপদের সময় মওলানা ভাসানীর পদতলে বসে থাকতেন। আজকে আপনারও সময় এসেছে ভাসানীর মাজারে এসে দোয়া নেয়ার। আপনি যে কত বড় বিপদে আছেন, তা আপনি বুঝতে পারছেন না। আপনার বাবার বিপদে সবসময় মওলানা ভাসানীই থাকতেন।

ব্রেকিং নিউজঃ