ভাসানীর মাজারে বিএনপি’র একাধিক গ্রুপের মারামারি ॥ ভাসানী ভক্তদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ

115

ANGAIL_VASANI_MITTU_BARSHIKI_POLICE_LATI_CHARGE_PIC__3-17-11-15জাহিদ হাসানঃ

মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুর ৩৯ বছরে এবারই প্রথম তার মাজার প্রাঙ্গনে ন্যাক্কারজনক ঘঁটনা ঘটিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ নভেস্বর) দুপুরে মাজারে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির একাধিক গ্রুপের মধ্যে কেন্দ্রীয় ও জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ব্যাপক মারামারির ঘটনা ঘটে। এময় বিএনপি নেতা-কর্মীরা শ্রদ্ধাঞ্জলীর জন্য আনা ফুলের তোরা ভাংচুর করে ও মওলানা ভাসানীর ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেষ্টুন ছিড়ে ফেলে। এসময়
মওলানা ভাসানীর মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী দিতে আসা জনতার জনতার মাঝে ব্যাপক আতংক ছড়িয়ে পরে। বিএনপি মারামারির ঘটনায় বেশ কয়েকজন ভাসানী ভক্ত আহতও হন। পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এদিকে, মওলানা ভাসানীর মাজরে এধরনের ঘটনা ঘটানোর জন্য বিএনপির প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন্ মওলানা ভাসানীর ভক্তরা। ভাসানী ভক্তরা বলেন, বিএনপির দাবী কওে তারা ভাসানীর আদর্শে উজ্জীবিত। বিএনপি যদি ভাসানীর আদর্শ মানতো তাহলে আজ তারা ভাসানীর মাজারে ন্যাক্কারজনক এ ঘটনা ঘটানোর সাহস পেতোনা।
ভাসানীর মাজারে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা প্রকাশ করে ঢাকায় ফিরে গেছেন।
জানা গেছে, মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর স্মরণসভার আয়োজন করে টাঙ্গাইল বিএনপি। কিন্তু অনেকদিন থেকেই শহর বিএনপি’র দু’টি গ্রুপ ছাড়াও জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর একাধিক গ্রুপ বিদ্যমান রয়েছে। জেলা বা কেন্দ্রীয় নেতারা গ্রুপগুলো এক করতে বা দলীয় কোন্দল বন্ধ করতে পারেনি। কোন্দল থামাতে না পেরে অবশেষে স্মরণ সভা আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই একাধিক গ্রুপের নেতাকর্মীরা ভাসানির মাজার প্রাঙ্গণে আসতে থাকেন। বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) মাহমুদুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম তোফা মাজার প্রাঙ্গণে এসে অপেক্ষা করতে থাকেন কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য। দুপুরে কেন্দ্রীয় নেতারা এসে উপস্থিত হন। এদের মধ্যে ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ। সবাই মিলে মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য যাওয়ার সময় একাধিক গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের পুষ্পস্তবক ভেঙ্গে ফেলে এবং পালআপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। পরে উত্তেজিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক মারামারি ও কিলঘুষির ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ দ্রুত মাজারের ভেতরে চলে যান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপস্থিত পুলিশ লাঠিচার্জ করে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ব্রেকিং নিউজঃ