ভালবাসা প্রকাশে খরচ বেড়েছে অনেকগুণ

170

হাসান সিকদার ॥
করোনার এই ভয়াবহ সময়ে ভালবাসা প্রকাশে বেড়েছে অনেক খরচ। মনের ভাব প্রকাশ ও ভালবাসা বিনিময়ের জন্য এবার খরচ করতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশী। আর ভালবাসা মানেই লাল গোলাপ। এটি আমাদের মনে একেবারে গেঁথে আছে। আবার যদি শান্তি, পবিত্রতার কথা আসে, তবে অবধারিত সাদা ফুলই বেছে নিই আমরা। অর্থাৎ এক-একটা অনুভূতি জানাতে এক একরকমের ফুল হাতে তুলে নেওয়াই রীতি আমাদের। আর এইভাবেই মুখে কথা না বলে ফুল দিয়েও ব্যক্ত করা যায় মনের কথা। তাহলে কি বলা যায়, ফুলেরও নিজস্ব ভাষা আছে?
হরেক রকমের ফুল দিয়ে নিজেকে সাজিয়ে ও রঙিন পোশাক পরে সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইলের সকল বয়সের নারী-পুরুষ বরণ করে নিয়েছেন ঋতুরাজ বসন্তকে। একই সাথে তারা পালন করেছেন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। দিবস দুটি উপলক্ষে জেলার সকল ফুলের দোকান, পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই ফুলের দোকানগুলোতে ভিড় জমান পছন্দের ফুল কিনতে। চড়া দামে কেউবা ফুল কিনছেন নিজেকে সাজাতে। কেউবা আবার ফুল কিনছেন প্রিয়জনকে উপহার দিতে। পহেলা ফাল্গুন বসন্ত উৎসব ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠানের।
ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবসও বেশকয়েক বছর থেকে আমাদের দেশে ঘটা করে উদযাপিত হয়ে আসছে। বিশেষত তরুণ প্রজন্ম এই দিনটি বেছে নিয়েছে তাদের মনের মানুষের কাছে প্রণয়ের কথা নিবেদনের জন্য। উপহার দেওয়া, একসঙ্গে বাইরে ঘুরে বেড়ানো, কোথাও খেতে যাওয়া, অতপর সেই পরম রোমাঞ্চকর মুহূর্ত, সেই চিরপুরাতন আবেগের চিরকালের নতুন কথাটি জানিয়ে দেওয়া “আমি তোমায় ভলোবাসি”। এই তো, ভালোবাসায় বন্দী হতে পারলে কে আর তা থেকে মুক্তি পেতে চায়। ভালোবাসার উপহারে মধ্যে প্রথম অবস্থান ফুলের। টাঙ্গাইল জেলায় এক দিনে সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রিও হয় এই ভালোবাসা দিবসে। আগে (১৩ ফেব্রুয়ারিতে) পয়লা ফাল্গুন এবং পরদিন (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভ্যালেন্টাইন ডে পড়ত। ফুল বিক্রেতারা টিনিউজকে জানালেন, বসন্ত উৎসব ও ভ্যালেন্টাইন ডেতে টাঙ্গাইল জেলায় প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়। এবার বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস এক সঙ্গে পড়ায় মোট বিক্রির পরিমাণ অনেক বেশী। এক দিনে বিক্রির দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে বসন্ত উৎসব ও ভ্যালেন্টাইন ডে ও অমর একুশে উপলক্ষে প্রায় ৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়। সারা দেশে গড়পড়তা সাড়ে সাত হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। বাৎসরিক ফুল বিক্রির পরিমাণ ১২শ’ থেকে ১৫শ’ কোটি টাকা। প্রায় ৩০ জাতের ফুলের চাষ হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, রজনীগন্ধা ও গ্লাডিওলাস। প্রায় ২০ হাজার চাষী ফুল চাষে যুক্ত। আর উৎপাদন থেকে বিক্রি অবধি ফুল বাণিজ্যে যুক্ত লোকসংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ। এবার ফুলের উৎপাদন বেশ কম হয়েছে। তাই খুচরা পর্যায়ে দাম পড়ছে চড়া। ভালো জাতের গোলাপ প্রতিটি ৪০ টাকার কমে কেনা যায়নি। কারণ পাইকারিতেই প্রতিটি ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা হিসাবে বিক্রি হচ্ছে।
এই যেমন প্রেমের মৌসুমে রাজত্ব করছে লাল গোলাপ। অর্থাৎ ভালবাসার কথা মুখে না বলতে পারলেও, শুধু একটা ফুলই সে কথা বলে দিতে পারে। একান্ত ভালবাসার মানুষকেই তাই লাল গোলাপ দেওয়া যায়। আবার এর সঙ্গে খ্রিস্ট ধর্মের অনুসঙ্গও জড়িয়ে আছে। ক্রুশবিদ্ধ যিশুর রক্তক্ষরণে গোলাপ হয়েছে লাল, এমন বিশ্বাসও আছে। গোলাপের কাঁটা হচ্ছে সেই ক্ষতের প্রতীক। বড়দিনে তাই লাল গোলাপ দিয়ে চারিদিক সাজানোর রীতি আছে।
আবার যদি প্রেমের গভীরতা থেকে সরে এসে বন্ধুত্বের গাঢ়তার কথা বলতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই সাহায্য করবে হলুদ গোলাপ বা হলুদ ফুল। পিঙ্ক বা গোলাপি রঙের ফুল আবার আনন্দের আয়োজন সম্পূর্ণ করে। কেউ একে বিশ্বাসের প্রতীক হিসাবে দেখে, কোথাও আবার একে দেখা হয় সৌভাগ্য বা সুস্বাস্থ্যের প্রতীক হিসাবে। আবার গোলাপি রংটিকে নারীদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার রীতিও আছে, গোলাপি ফুল সেই বার্তাও বহন করে।
সাদা ফুল আবার শোক, এবং শান্তির কথা বলে। আসলে কেউ যখন আমাদের চিরতরে ছেড়ে চলে যান, তখন আমরা আমাদের জীবন থেকেই তাকে হারিয়ে ফেলি। এই যে হারিয়ে ফেলা, এই কথাটুকু জানান দেয় সাদা ফুল। ফুলের ভাষার তাই মাহাত্ম্য দেখুন, আপনি যদি কাউকে মিস করেন, একটা সাদা গোলাপ কিন্তু সেই কথাটিই বলে দেবে। মুখের কথার মতোই প্রাচীন এই ফুলের ভাষা। অনেক শব্দে যা প্রকাশ করা যায় না, একটা ফুলই সে কথা জানিয়ে দেয়। ফুলের ভাষা জানা থাকলে তাই নিজেকেই হয়তো প্রকাশ করা যায় আর একটু ভালো করে।

ব্রেকিং নিউজঃ