ভরা মৌসুমে টাঙ্গাইলের বাজারে মাছের দাম চড়া ॥ ক্রেতারা হতাশ

71

জাহিদ হাসান ॥
গত একবছর ধরে বাজার দর মানেই সব পণ্যের বাড়তি দামের খবর। ক্রেতাদের মধ্যে দ্রব্যমূল্যের দামে হতাশা, আর বিক্রেতাদের সঙ্গে বিতন্ডা। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে নাভিশ্বাস নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের।

এদিকে শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের পাক বাজার, ছয়আনী বাজার, সিটি বাজার, গোডাউন ব্রিজ বাজার ঘুরে দেখা দেছে, বাজারে মাছের দাম বেড়েই চলেছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। তবে এই দাম গেল সপ্তাহের তুলনায় কম হলেও সার্বিক ভাবে দাম এখনও বেশিই রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন- বিভিন্ন জেলায় নদনদী ও খাল-বিলে পানি বৃদ্ধির কারণে চাষের মাছ নদীতে মিশে যাচ্ছে, ফলে জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়ছে বেশি। এজন্য মাছের দাম বাজারে কিছুটা কম। মাছ বিক্রেতারা বলছেন- পরিবহন খরচ বেড়েছে, ঘাট খরচ বেড়েছে। সবকিছুর খরচ কেবল বাড়ছেই।

 

এদিকে ব্যবসায়ীরা এমন যুক্তি দিলেও বাজারগুলোতে মাছের দাম বেশি বলেই ক্রেতারা বলছেন। বাজারে মাছের দাম নিয়ে ক্রেতারা খুব একটা খুশি না। ব্যবসায়ীরা দাম ১০০ টাকা বাড়িয়ে ১০ টাকা কমিয়ে দেয়। এতে আমাদের কোন লাভ হয় না। সবমিলিয়ে মাছের বাজারে আসা ক্রেতারা বেশী দামেই মাছ কিনে যাচ্ছেন। শাহিনা আক্তার নামে এক ক্রেতা বলেন, বাজারে এসে দেখি মাছের চেয়ে ব্রয়লার মুরগির দাম কম। তাই মাছ কম করে নিয়ে ব্রয়লার মুরগি বেশি কিনেছি। সবকিছুর দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে সামনে কিভাবে চলব সেটা চিন্তা করলেই মাথা ঘুরায়।

গরিবের মাছ বলে পরিচিত পাঙ্গাস মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৮০ টাকায়। প্রয়োজনীয় মাছের দাম কিছুটা কমলেও বিলাসের মাছ ইলিশের দাম বাড়ছেই। কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম চাওয়া হচ্ছে। তবে আকারে ছোট ইলিশ হাজারের কমেও পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া রুই, কাতল ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে মৃগেল, তেলাপিয়া ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। চিংড়ি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, শোল মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, কই ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, শিং ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, মাগুর ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে কাইকা মাছের কেজি ৫০০ টাকা, আইড় ৪০০ তেকে ৭০০ টাকা, পাবদা ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিতল ৮০০ থেকে ৬০০ টাকা, কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা, দেশি শিং ৫০০ টাকার বেশি, শোল ৫০০ টাকা, দেশি মাগুর ৬৫০ টাকা এবং টাকি মাছ ৪৫০ টাকা।

ব্রেকিং নিউজঃ