বুধবার শুরু দুগোর্ৎসব ॥ টাঙ্গাইলে মণ্ডপগুলোতে সাজসজ্জার প্রস্তুতি

75

নোমান আব্দুল্লাহ/ বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী ॥
দরজায় কড়া নাড়ছে শারদীয় দুগোর্ৎসব। আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) পঞ্চমীর মধ্যে দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হবে। সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে দুর্গা পুজা আয়োজনের ব্যাপক প্রস্তুতি।
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতিমধ্যে প্রতিমা তৈরিতে কাজ শেষ। এখন প্রতিমাকে রং তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলার কাজ করছেন। একই সাথে চলছে মণ্ডপগুলোতে সাজসজ্জার কাজ। তাই তাদের এখন দম ফেলার সময় নেই তাদের। করোনার কারণে এবার কাজের চাপ অনেকটাই কম বলে জানিয়েছেন প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা। অপরদিকে প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েত থাকবে বলে পুলিশ জানায়।
সরেজমিনে টাঙ্গাইলের কয়েকটি মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন একটু একটু করে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তুলছেন কারিগররা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সবকিছু শেষ করতে শিল্পীরা কাজ করছেন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। ইতোমধ্যে সব মন্দিরে প্রতিমা তৈরির মূল উপাদান মাটি ও খড় দিয়ে তৈরি করা হয়ে গেছে প্রতিমার কাঠামো। এখন চলছে মন্দিরের প্রতিমায় রং তুলির আঁচড়। শিল্পীদের নিপুন হাতের ছোয়ায় পরিস্ফুটিত হচ্ছেন দেবী দুর্গা ও তার ছেলে-মেয়ে লক্ষী, স্বরস্বতী, গনেশ ও কার্তিক। অনেকেই দেবী দুর্গার সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্ভবন করছেন। প্রতিমা দেখতে অনেকেই মণ্ডপগুলোতে ভীড় করছেন।
প্রতিমা শিল্পীরা টিনিউজকে বলেন, অন্য বছর তারা বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে প্রতিমা তৈরি করলেও করোনার কারণে এবারের চিত্র ভিন্ন। তারা নিজ নিজ বাড়িতেই তৈরী করছেন প্রতিমা। পুজা শুরুর আগের দিন তৈরিকৃত প্রতিমা পৌঁছে দেয়া হবে মন্দিরগুলোতে। অন্য বছরের তুলনায় এবার প্রতিমার চাহিদা ও দাম কম বলে জানালেন প্রতিমা তৈরীর শিল্পীরা। লাভ-লোকসান যাই হোক বংশগত পেশার প্রতি সম্মান জানিয়েই তারা আনন্দের সাথে প্রতিমা তৈরী করছেন।
টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলায় এবার ১ হাজার ৩১টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সদর উপজেলায় ১৮৭টি, ধনবাড়ী উপজেলায় ২১টি, মধুপুর উপজেলায় ৪৮টি, ভূঞাপুর উপজেলায় ৩৭টি, গোপালপুর উপজেলায় ৪১টি, ঘাটাইল উপজেলায় ৪৪টি, কালিহাতী উপজেলায় ১৩৪টি, দেলদুয়ার উপজেলায় ১২১টি, নাগরপুর উপজেলায় ১২০টি, মির্জাপুর উপজেলায় ২০৯টি, বাসাইল উপজেলায় ৪০টি, সখীপুর উপজেলায় ২৯টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজার আয়োজন করা হবে। তবে সামনে এর সংখ্যা বাড়তে পারে। এবার দেবী ঘটকে আগমন আর গমন করবেন ঘটকেই। জেলায় উল্লেখযোগ্য মণ্ডপগুলো হলো- বড় কালীবাড়ী, আদালতপাড়া, করটিয়া, বাজিতপুর, পাথরাইল, করাতিপাড়া, চণ্ডি ইত্যাদি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার ঝন্টু টিনিউজকে বলেন, মণ্ডপের সংখ্যা দু’একটি বাড়তে পারে। প্রতিটি পুজা মন্দিরে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা হবে। দর্শনার্থীসহ সকলের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ এবং আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেবন। এছাড়া পুলিশের পাশাপাশি আমাদের লোকজনও কাজ করবেন। এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে আলোকসজ্জ্বা সল্প পরিষরে করা হয়েছে। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মন্ডপে মন্ডপে অঞ্জলি প্রদান ও প্রতিমা দেখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও সরকারের পক্ষ প্রতিটি মণ্ডপের জন্য চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আশা করছি অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও পূজা সুষ্ঠু এবং সুন্দর হবে। করোনার কারণে এবার কমেছে মণ্ডপের সংখ্যা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) এবং জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট শাহিনুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে পর্যাপ্ত সংখ্যাক আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর সদস্য মোতায়েত থাকবে। প্রতিটি মণ্ডপেই হুন্ডাটিম থাকবে। অপরদিকে মোবাইল টিম, সাদা পোশাকে পুলিশও কাজ করবে। এছাড়া পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যও দায়িত্ব পালন করবেন। আশা করছি কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে পূর্জা অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।

 

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ