বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় ২৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন

367

আদালত সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। ওই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নাম শিউলী রানী দাস। তিনি এই মামলার এক সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেছিলেন। প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাসুদ পারভেজের আদালতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিউলী রানী দাস সাক্ষ্য দেন।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মনিরুল ইসলাম খান টিনিউজকে জানান, সাক্ষ্য প্রদানকালে শিউলী রানী দাস আদালতকে জানান, তিনি এই মামলার সাক্ষী আব্দুল ওয়াহেদের জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করেছেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা টাঙ্গাইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু ওবায়দা তার দেওয়া সাক্ষীর জেরার জন্য আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেননি। পরবর্তী তারিখে জেরা করবেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন।

 

সাক্ষ্য গ্রহণকালে কারাগারে থাকা এই মামলার আসামি টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি এবং জামিনে থাকা আসামি সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম টিনিউজকে জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার মোট ৩৩ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ২৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

জানা যায়, বিগত ২০১৩ সালের (১৮ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বিগত ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুই জনকে গ্রেফতার করে। আদালতে এ দু’জনের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে হত্যার সঙ্গে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান।

 

বিগত ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার অপর তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আমানুর রহমান খান রানা বিগত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

এদিকে দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর বিগত ২০২০ সালের (২ ডিসেম্বর) সহিদুর রহমান খান মুক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ গত (১০ ফেব্রুয়ারি) সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে জামিন দেন। কিন্তু (২৮ ফেব্রুয়ারি) তার অন্তর্র্বতীকালীন জামিন বাতিল করা হয়। এরপর মুক্তি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

পরে বিগত ২০২১ সালের (২৭ এপ্রিল) ওই মামলায় সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে আপিল বিভাগ রুলটি নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে সময় বেধে দেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে রুলটি খারিজ করলেন হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, এই হত্যা মামলার আসামি আমানুর রহমান খান রানা ও সহিদুর রহমান খান মুক্তির বাবা আতাউর রহমান খান টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে বর্তমান আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য।

ব্রেকিং নিউজঃ