বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় মুক্তির জামিন ১৬ বারের মতো নামঞ্জুর

292

আদালত সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২৫ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
সহিদুর রহমান খান মুক্তি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ছোট ভাই এবং ওই আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় বর্তমান সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে। প্রায় ১১ মাস ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান টিনিউজকে জানান, টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সহিদুর রহমান খান মুক্তির আইনজীবীরা তাঁর জামিন আবেদন করেছিলেন। সোমবার (২৫ অক্টোবর) আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানিকালে আইনজীবীরা যেকোনো শর্তে মুক্তির জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মাসুদ পারভেজ আবেদন নামঞ্জুর করেন। এ নিয়ে ১৬ বারের মতো তাঁর জামিন আবেদন আদালত নামঞ্জুর করলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় ছয় বছর পলাতক থাকার পর গত বছরের (২ ডিসেম্বর) সহিদুর রহমান খান মুক্তি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। তারপর থেকে তিনি টাঙ্গাইল কারাগারে আছেন। গত (১৮ আগস্ট) কারাগারে অসুস্থ হওয়ার পর তাঁকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে তাঁকে আবার টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিগত ২০১৩ সালের (১৮ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তাঁর কলেজপাড়া বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার তিনদিন পর তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে আনিসুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী নামের দু’জনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে ওই দু’জন হত্যার সঙ্গে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তাঁর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তাঁর অন্য দুই ভাই এখনো পলাতক রয়েছেন।

 

ব্রেকিং নিউজঃ