বাসাইল সদর ইউনিয়ন বিলুপ্ত হচ্ছে ॥ এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

149

বাসাইলস্টাফ রিপোর্টারঃ
টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল সদর ইউনিয়ন বিলুপ্ত ঘোষণা করে এ ইউনিয়নের নাইকানীবাড়ী, মিরিকপুর ও  হান্দুলী পাড়া ওর্য়াডকে কাউলজানী ইউনিয়নে, রাশড়া কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সাথে সংযুক্তকরণের নোটিশ প্রকাশিত হয়েছে। নোটিশ প্রকাশের পনের কার্যদিবসের মধ্যে সকল পর্যায়ের লোকজনের আপত্তি ও মতামত সহকারী কমিশনার ভূমির কার্যালয়ে মৌখিক অথবা লিখিত আকারে জানানোর কথা বলা হয়েছে। চলতি মাসের ৫ নভেম্বর এ সংক্রান্ত নোটিশ বাসাইল সদর, কাউলজানী ও কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের জনাকীর্ণ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাঁটিয়ে দেয়া হয়। এ খবরে বাসাইলে ইউনিয়নের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসুচি পালন করছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, বিগত ২০১১ সালে মার্চে বাসাইল সদর ইউনিয়নের ৬টি ওয়ার্ড নিয়ে পৌরসভা গঠনের গেজেট প্রকাশের পর থেকে শুধুমাত্র ৭নং ওয়ার্ড মিরিকপুর হান্দুলিপাড়া, ৮নং ওয়ার্ড নাইকানীবাড়ী ও ৯নং ওয়ার্ড রাশড়া নিয়ে বাসাইল সদর ইউনিয়নের কার্যক্রম চলে আসছিল। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকা নিয়ে নতুন ইউনিয়ন গঠনের একাধিকবার নানামুখী চেষ্টা করা হলেও ইউনিয়ন গঠনের জন্য ন্যূনতম বিশ হাজার জনসংখ্যা অধ্যূষিতসহ ২০ বর্গ কিলোমিটার ভূমি না থাকার কারণে নতুন ইউনিয়ন গঠন সম্ভব হয়নি। ফলে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ এর ১০১ ধারা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার বিভাগের ২৫ আগস্ট ২০০২ তারিখের প্রজেক্ট-৩/১ইউপি-২/৯৮/৭১১ স্মারকে জারীকৃত আদেশের প্রেক্ষিতে উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার টাঙ্গাইল এর স্মারক নির্দেশ মোতাবেক সদর ইউনিয়নের  মিরিকপুর, হান্দুলি পাড়া মৌজাকে পার্শ্ববতী কাউলজানী ও রাশড়াকে কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব সংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করে। এতে হান্দুলি পাড়া ও নাইকানী বাড়ীকে কাউলজানী ইউনিয়নের ৮নং, মিরিকপুরকে ৯নং ওয়ার্ড করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড রাশড়াকে কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ঢংপাড়ার সঙ্গে যুক্ত করে ২নং ওর্য়াড গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কাউলজানী ইউনিয়নে নুতন এলাকা যুক্ত হওয়ায় ঐ ইউনিয়নের ওয়ার্ডে পরিবর্তন এসেছে। কাউলজানী ইউনিয়নের ১নং ও ৪নং ওয়ার্ডকে পুর্নগঠন করে একটি ওয়ার্ড বিলুপ্ত, সুন্না এলাকার ৮নং ও ৯নং দুটি ওয়ার্ডকে একটিতে রুপান্তরিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ভোটারের সংখ্যার দিক থেকে এ ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় এলাকা হচ্ছে প্রস্তাবিত সুন্না ৭নং ওর্য়াড যার ভোটার সংখ্যা হবে ৩ হাজার ৪শ’ ৬৯ জন। আর সবচেয়ে কম ভোটার হবে প্রস্তাবিত ৯নং ওয়ার্ডের মিরিকপুর গ্রাম যার ভোটার সংখ্যা দেড় হাজারের কম। সরকারি এ নির্দেশ বাস্তবায়িত হলে বাড়তি এলাকার সংযোগে কাউলজানি ইউনিয়নের ভৌগলিক অবস্থান বেড়ে যাবে। আগে এ ইউনিয়নের আয়তন ছিল ২১.৬২ বর্গকিলোমিটার যা হবে ২৯.২১ বর্গকিলোমিটার। নতুন ভোটার সংখ্যা হবে ২২ হাজার ৯৯জন। অনুরুপ কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের আয়তন ও ভোটার বেড়ে গিয়ে হবে ৩২.২৪ ও ২০ হাজার ৩১৩ জন। এদিকে একটি ওয়ার্ড কমে যাওয়ায় সবোর্চ্চ ভোটার অধ্যুষিত সুন্নার লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিশিষ্ট আইনজীবী এ্যাডভোকেট আলী আহমদ বলেন, বৃহৎ একটি গ্রামের সাড়ে ৩ হাজার ভোটার যারা দুটি ওয়ার্র্ডে বিভক্ত ছিল তা একটিতে পরিণত করায় এলাকার মানুষ বৈষম্যের শিকার হবে। সদর ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ড পার্শ¦বর্তী দু’ইউনিয়নে সংযোগ প্রক্রিয়া ও ওয়ার্ড পুনর্গঠন সম্পর্কে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাসাইল নাজমুল আহসান বলেন, ভৌগলিক অবস্থান বিবেচনা ও জনগণের সুবিধা মাথায় রেখে দু’ইউনিয়নের ওয়ার্ড পুনর্গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কারো কোন আপত্তি বা মতামত থাকলে তা নির্ধারিত সময়ে  মৌখিক কিংবা লিখিত আকারে জানানোর কথা বলা হয়েছে।
এদিকে বাসাইলে ইউনিয়নের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসুচি পালন করছে এলাকাবাসী। বাসাইল উপজেলার মিরিকপুর, নাইকানী বাড়ী, হান্ধুলী পাড়া, নয়াপাড়া, রাশড়া ও সখীপুর উপজেলার চাকদহ এলাকার পাঁচ শতাধিক মানুষ এতে অংশ নেয়।

ব্রেকিং নিউজঃ