বাসাইল ও মির্জাপুরে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ভরাডুবি

106

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের বাসাইল ও মির্জাপুরে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। নির্বাচনে ১৩টি ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ৬টিতে বিজয়ী হয়েছে। অপরদিকে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৭টিতে বিজয়ী হয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছে প্রার্থী বাচাইয়ে ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করে অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ায় এ ফল বিপর্যয় হয়েছে। বুধবার (৫ জানুয়ারি) ভোট গণনা শেষে রাতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা এসব ফলাফল ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) জেলা নির্বাচন অফিস থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
বুধবার (৫ জানুয়ারি) বাসাইল উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ২টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২টিতে বিজয়ী হয়েছেন। যে দুটিতে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়েছে সেখানে যোগ্য ও ত্যাগী প্রার্থীকে মূল্যায়ন করা হয়নি। যে কারণে নৌকা প্রার্থীর পরাজিত হয়েছে।
হাবলা ইউনিয়ন- এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খোরশেদ (নৌকা) ১০ হাজার ৮১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী সৈয়দ নিজামুল ইসলাম (আনারস) পান ৯ হাজার ৩৫৭ ভোট। ফুলকী ইউনিয়ন- এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী সামছুল আলম (আনারস) ৫ হাজার ৯২৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম (মোটরসাইকেল) পান ৫ হাজার ৮শ’ ভোট। আর এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল করিম তালুকদার ৩ হাজার ৯১১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। কাউলজানী ইউনিয়ন- এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আতাউল গণি হাবিব (নৌকা) ৬ হাজার ৭৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকী (আনারস) পান ৬ হাজার ৪৮১ ভোট। কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন- এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামিম আল মামুন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পান ৫ হাজার ৫৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মামুন অর রশিদ খান ৩ হাজার ৯৩৭ ভোট পেয়েছেন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাকিব ৮৫১ ভোট পেয়ে ৬ষ্ঠ হয়েছে।
অপরদিকে মির্জাপুর উপজেলায়ও ইউপি নির্বাচেন আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে। ৮ ইউপি’র মধ্যে তিনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে। আর পরাজিত হয়েছে ৫টিতে। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ৫টিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
আনাইতারা ইউনিয়ন- এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু হেনা মোস্তফা কামাল (আনারস) ৫ হাজার ৭৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী বাবুল হোসেন বকশী পান ৪ হাজার ১৪৬ ভোট। উয়ার্শী ইউনিয়ন- এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহাবুব আলম মল্লিক (নৌকা) ৪ হাজার ৬১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান খান পান ৪ হাজার ২২০ ভোট। গোড়াই ইউনিয়ন- এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের হুমায়ূন কবীর (নৌকা) ১৪ হাজার ৮৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম পান ১৪ হাজার ৫৭৫ ভোট। জামুর্কী ইউনিয়ন- এ ইউনিয়নে বিএনপি স্বতন্ত্র প্রার্থী ডিএ মতিন (আনারস) ৫ হাজার ৬৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী আলী এজাজ খান চৌধুরী পান ৫ হাজার ২৩২ ভোট।
বানাইল ইউনিয়ন- এ ইউনিয়নে বিএনপি স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন সিদ্দিকী (ঘোড়া) ৭ হাজার ৬৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনিছুর রহমান পান ৪ হাজার ৪৬৫ ভোট। বাঁশতৈল ইউনিয়ন- এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হেলাল দেওয়ান (চশমা) ৮ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনিছুর রহমান পান ৫ হাজার ৯৮৮ ভোট। ভাতগ্রাম ইউনিয়ন- এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আজাহারুল ইসলাম আজহারুল ইসলাম ৮ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোবারক হোসেন সিদ্দিকী পান ৩ হাজার ৫০২ ভোট। মহেড়া ইউনিয়ন- এ আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিভাস সরকার নুপুর (নৌকা) ৫ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাদশা মিয়া পান ৫ হাজার ৭৫১ ভোট।
ঘাটাইল উপজেলায় জামুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম খান হেষ্টিংস (নৌকা) বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পান ১১ হাজার ২শ’ ভোট৷ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী ইখলাক হোসেন খান শামীম পান ৬ হাজার ৮১১ ভোট।
এর আগে বুধবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে টাঙ্গাইলে ৩টি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ