বাসাইলে বিদ্যালয়ের বন্যার পানি ॥ বাড়িতে চলছে পাঠদান

101

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের বাসাইলে রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার পানি থাকায় বাড়িতে নেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিকল্প প্রদ্ধতিতে এ পাঠদানের ব্যবস্থা করে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা টিনিউজকে জানায়, বিগত ২০১৪ সালে এ বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। সারাদেশে বিদ্যালয় বিহীন এলাকায় ১৫টি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। তার মধ্যে বাসাইল উপজেলায় রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও স্থাপন করা হয়। এই এলাকা নিচু হওয়ায় বিদ্যালয় স্থাপন হওয়ার পর থেকেই বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। তখন থেকেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। অল্প বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠে ও আশাপাশে পানি জমে।
ওই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা টিনিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন পরে বিদ্যালয় খুলেছে। কিন্তু আমাদের বিদ্যালয়ে বন্যার পানি থাকায় শ্রেণী কক্ষে ক্লাস করতে পারেনি। আমরা বিদ্যালয়ের পাশেই একটি বাড়িতে ক্লাস করছি।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা আক্তার পপি টিনিউজকে বলেন, এ এলাকা অত্যন্ত নিচু, বন্যা কবলিত ও দুর্গম। তাই এখানে দীর্ঘ সময় বন্যার পানি থাকে। এখনো শ্রেণী কক্ষের ভিতরে ৩ ফিট পানি রয়েছে। যার ফলে বিদ্যালয়ের পাশেই একটি বাড়িতে (জমিদাতা) বিকল্প প্রদ্ধতিতে পাঠদান করানো হচ্ছে। প্রথমদিন ৫ম শ্রেণীর ৮ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬ জন শিক্ষার্থী এসেছেন। তিনি টিনিউজকে আরো বলেন, স্কুলে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে ভালো কোন রাস্তা নেই। রাস্তাগুলো ভূমির সমানতরাল। যার কারণে পানি বেশি থাকে। সেপ্টেম্বর মাস জুড়েই বিদ্যালয়ে পানি থাকবে। প্রতিবছরই আমাদের এ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এর ফলে বিদ্যালয়ের আসবাসপত্র, কাগজপত্র পানিতে ভিজে যায়। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোন সূরহা হয়নি। অনেক শিক্ষার্থী নৌকা ছাড়া আসতে পারে না।
টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিস জানায়, জেলার ১৬২৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে। এছাড়া কিন্ডার রয়েছে ৬৯৮টি এবং অন্যন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২০৬টি। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৯৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আজিজ টিনিউজকে বলেন, ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণী কক্ষে পানি থাকায় প্রথমদিন পাঠদান নিয়ে সংশয়ে ছিলাম। কিন্ত সকালে ১৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে পানি নেমে যাওয়ায় বিদ্যালয়েই ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে। অপরদিকে বাসাইল উপজেলায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি থাকায় বিকল্প প্রদ্ধতিতে বাড়িতে পাঠদান করানো হচ্ছে। বাকি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই পাঠদান করানো হচ্ছে।

 

 

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ