বাসাইলে একই স্থানে বিএনপি ও যুব সমাজের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

82

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের বাসাইলে একই স্থানে বিএনপি ও যুব সমাজের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কেউ কাউকে মাঠ ছেড়ে দিতে রাজি নয়। ফলে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের শঙ্কা রয়েছে। বুধবার (১৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার কাউলজানী হাইস্কুল মাঠে একই সময়ে এই খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয়রা টিনিউজকে জানান, উপজেলার কাউলজানী যুব সমাজের উদ্যোগে নওশেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৭ দিনব্যাপী (১৩ থেকে ১৯ জুলাই) পর্যন্ত ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গত (৭ জুলাই) থেকে তারা মাইকিং করে আসছে। এরমধ্যে হঠাৎ করে ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ‘মানিক ভূূইয়া স্মৃতি স্মরণে’ বুধবার (১৩ জুলাই) একই মাঠে ফুটবল খেলার ঘোষণা দেন। এর আগে গত (৮ জুলাই) যুব সমাজের মাইকিংয়ে বাধা প্রদান করে বিএনপির লোকজন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কাউলজানীতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এদিকে, যুব সমাজ কর্তৃক আয়োজিত ফুটবল খেলায় ইউনিয়ন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন। আর বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত খেলায় কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

যুব সমাজের পক্ষে ছাত্রলীগ কর্মী দুর্জয় মিয়া টিনিউজকে বলেন, আমরা যুব সমাজের উদ্যোগে ৭ দিন ব্যাপী (১৩ থেকে ১৯ জুলাই) পর্যন্ত ফুটবল খেলার আয়োজন করেছি। এ উপলক্ষে আমরা গত (৭ জুলাই) থেকে মাইকিং করে আসছি। প্রথমদিনে কাউলজানীর সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে খেলা হবে। এরমধ্যে গত (৮ জুলাই) বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের মাইকিংয়ে বাধা প্রদান করে। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের বিরুদ্ধে গিয়ে একই মাঠে খেলার ঘোষণা দিয়ে তারা মাইকিং শুরু করেছে। কিন্তু আমরা (১৩ থেকে ১৯ জুলাই) পর্যন্ত মাঠ ছাড়বো না। যে কোনও মূল্যে আমাদের খেলা চালিয়ে যাবো।

কাউলজানী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ফেরদৌস মেম্বার টিনিউজকে বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ রঞ্জু ব্যক্তিগতভাবে এই খেলার আয়োজন করেছে। আমরা বিষয়টি পরে জেনেছি। যেহেতু আমাদের নেতা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে উপস্থিত থাকবেন এজন্য আমরা সেখানে যাবো। শুনতেছি যুব সমাজ মাঠ ছাড়বে না। একই মাঠে দুই গ্রুপের খেলাকে কেন্দ্র করে বড় ধরণের ঝামেলা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

নওশেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছানোয়ার হোসেন টিনিউজকে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা আমার কাছ থেকে মাঠের জন্য অনুমতি নিয়েছে। কিন্তু যুব সমাজের পক্ষে কেউ আমার কাছে আসেনি। তবে স্কুলের সাবেক এক ছাত্র আজকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে। দুই গ্রুপের একই সময়ে খেলা থাকলে তো ঝামেলা হতেই পারে। বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল গনি হাবিব টিনিউজকে বলেন, একই মাঠে বিএনপি ও যুব সমাজ খেলার আয়োজন করেছে। দুইপক্ষ মুখোমুখী অবস্থান নিলে দুঘর্টনার শঙ্কা থাকে। বিষয়টি নিয়ে থানায় কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাউলজানী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ রঞ্জু টিনিউজকে বলেন, খেলাটি বিএনপির উদ্যোগে দেয়া হয়নি। এটা যুব সমাজের ব্যানারে মরহুম মানিক ভূইয়া স্মৃতি স্মরণে প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। মূলত মরহুম মানিক ভূইয়ার শুভাকাঙ্খিরাই এই খেলার আয়োজন করেছে। আমাদের নেতা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানকে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়েছে। আমরা বিএনপির নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে থাকবো। এজন্য অনেকে মনে করছেন এই খেলার আয়োজন বিএনপি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুব সমাজের মাইকিংয়ে বাধা প্রদান করা হয়নি। যুব সমাজের ৭ দিন ব্যাপী খেলার বিষয়টি জানা ছিল না।

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান টিনিউজকে বলেন, বিষয়টি শুনেছি। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি টিনিউজকে বলেন, সেখানে দুই গ্রুপের খেলাটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ