বাসাইলে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ॥ ককটেল বিস্ফোরণ ॥ পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপ

92

Tangail Pic- 24-12-15এনায়েত করিম বিজয়, বাসাইলঃ
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির পরিচিতি ও বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নতুন কমিটির দায়িত্ববন্টন ও টাঙ্গাইল সদর সখীপুর পৌর নির্বাচনে কার্যক্রম পরিচালনার এজেন্ডা এনে উপজেলা আওয়ামী লীগের মিটিং শুরু হয়। এ সময় স্থানীয় এমপি অনুপম শাজাহান জয়ের গ্রুপের নেতাকর্মীরা উপজেলা কমিটি বাতিল ও বর্ধিত সভা বন্ধ করার দাবীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসে প্রবেশের সময় মালেক গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষ শুরু হয়। এরপর দফায় দফায় বেশকয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ হয় এবং দুই গ্রুপের মধ্যে লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে উভয়পক্ষের সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির পরিচিতি ও বর্ধিত সভা পন্ড হয়ে যায়।
জানা যায়, স্থানীয় এমপি অনুপম শাহজাহান জয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক জিএম এবং গত উপ-নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মালেক গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাধে। দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত সংসদ নির্বাচনে অনুপম শাহজাহান জয় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত না হওয়ায় আব্দুল মালেক মিঞা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে অনুপম শাহজাহানের কাছে পরাজিত হন।  এরপর থেকেই বাসাইল উপজেলায় আওয়ামী লীগের গ্রুপিংয়ে সুত্রপাত হয়।
জানা যায়, গত দুই মাস আগে বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি হয়। এতে সভাপতি হয় মালেক গ্রুপের অনুসারী কাজী অলিদ ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন হাজী মতিয়ার রহমান গাউছ। নতুন এই কমিটি নির্বাচিত হওয়ায় পর দলের ত্যাগী নেতারা পদবঞ্চিত হয়ে পড়েন। পদবঞ্চিত এই নেতাকর্মীরা উক্ত কমিটি বাতিলের দাবী করে আসছে।
এ ব্যাপারে এমপি গ্রুপের আব্দুর রহিম আহমেদ, সেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক সাইদুর রহমান ও তাঁতী লীগের আহবায়ক বদিউজ্জামান বিদ্যুত জানান, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগকে অবহিত না করে ব্যাক ডেটে দফায় দফায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি পরিবর্তন করে মনগড়া কমিটি গঠন করে। এ কমিটি বাতিলের দাবীতে আমরা প্রস্তাব নিয়ে দলীয় অফিসে প্রবেশ করতে গেলে আমাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। আব্দুল মালেক গ্রুপের কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির শান্তিপূর্ণ বর্ধিত সভায় রহিম আহমেদ ও রুনূর নেতৃত্বে তথাকথিত একটি গ্রুপ অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়ে মিটিং বাঞ্চালের অপচেষ্টা করে। এ সময় নেতাকর্মীরা প্রতিহত করতে গেলে বিচ্ছিন্নভাবে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার আহম্মদ বলেন, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করা হয়। নাশকতা এড়াতে আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাসাইলে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ব্রেকিং নিউজঃ