বাসাইলের বাসুলিয়ায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচে জনতার ঢল

134

হাসান সিকদার ॥
আবহমান বাঙালী জাতির ঐতিহ্য ও শতবর্ষের প্রাচীন সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। নদী মাতৃক এ দেশের গ্রামীণ লোক সাংস্কৃতির সেই ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও বিল-হাওড়ে আয়োজন করা হয় নৌকা বাইচের। এরই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দিগন্ত বিস্তৃত জলভরা দৃষ্টিনন্দন বাসুলিয়ায় উৎসব মূখর পরিবেশে এবারো অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। থৈথৈ জলে, ঢাক-ঢোলের তালে তালে গ্রাম বাংলার গান আর মাঝি-মাল্লার বৈঠার ছন্দ মাতিয়ে তোলে বাসুলিয়ার শান্ত জলের ঢেউকে। আর সেই তালে তাল মেলাতে বিশাল বিস্তৃত বাসুলিয়া খ্যাত চাপড়া বিলের বুকে নামে হাজারো জনতার ঢল।
প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ণীল এ নৌকা বাইচের আয়োজন করে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক মিয়া স্মৃতি সংসদ। শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দৃষ্টিনন্দন ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাসুলিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো গ্রাম-বাংলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। এ নৌকাবাইচ দেখতে শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিনোদনপ্রেমী দর্শণার্থীদের ঢল নামে বাসাইলের বাসুলিয়ায়। জেলার অন্যতম বিনোদনমূলক এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে জলপথে নৌকা আর সড়কপথে যানবাহনে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের উপস্থিতিও ছিলো চোখে পড়ার মতো। তবে দর্শনার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি ছিল না কোন স্বাস্থ্য সচেতনতা।
প্রতিযোগিতায় নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, পাবনা ও টাঙ্গাইলের কয়েকটি উপজেলা থেকে আল্লাহ ভরসা, মায়ের দোয়া, সোনারতরী, ফুলেরতরী, আদর্শতরী, ময়ূরপঙ্খী, পঙ্খীরাজ, জলপরিসহ বাহারী নাম ও রঙের ডিঙি, কুশা, সিপাই, খেল্লা, অলংগাসহ কয়েক ক্যাটগরির প্রায় অর্ধশত নৌকা অংশগ্রহণ করে। ছোট, বড় ও মাঝারী নৌকা পৃথক পৃথক কয়েকটি রাউন্ডে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত রাউন্ডে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের ‘সোনার তরী’ নৌকাটি চ্যাম্পিয়ন হয়। রানার্সআপ হয় দেলদুয়ার উপজেলার ‘হিরার তরী’। পরে অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপসহ অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকটি নৌকাকেই আকর্ষনীয় পুরষ্কার দেওয়া হয়।
বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় এমপি অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি। বরেন্য অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল, সমবায় অধিদপ্তরের মহা পরিচালক ড. হারুন অর রশিদ বিশ্বাস, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব একেএম মোখলেছুর রহমান, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়। প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কিডনী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুস সামাদ, স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আমিন শরীফ সুপন।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর হোসেনের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না, সখিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিত্রা শিকারী, বাসাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিয়ান নুরেন, বাসাইল পৌরসভার মেয়র আব্দুর রহিম আহমেদ, সখিপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত সিকদার, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ, এটিএম গ্রুপের এমডি দিলিপ কুমার সাহা প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নৌকা বাইচ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব সোহানুর রহমান সোহেল।

ব্রেকিং নিউজঃ