বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সম্মাননা পেলেন ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ প্রতিভা মৎসুদ্দি

40

স্টাফ রিপোর্টার ॥
মেধা ও মননে উজ্জ্বল নেতৃত্বের অন্য নাম ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ প্রতিভা মৎসুদ্দি। তিনি ছাত্র জীবন থেকে কর্ম জীবন, সামাজিক জীবন থেকে রাজনৈতিক জীবন আলো হাতে চলেছেন আঁধার জয়ের প্রত্যয় নিয়ে। প্রতিরোধ চেতনায় তিনি উদ্দীপ্ত, শিক্ষা প্রসারের ব্রতে নিবেদিত।

প্রতিভা মুৎসুদ্দি কৈশোরে ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্তির মধ্য দিয়ে গ্রহণ করেন জীবনের দীক্ষা। নানা বাধা উজিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে নারী শিক্ষা প্রসারে নিজেকে নিবেদন করেছেন পরিপূর্ণ ভাবে। তিনি এদেশে বাঙালি বৌদ্ধ মহিলাদের সমাজকর্মে উৎসাহ দিতে সবসময়ই সচেষ্ট থেকেছেন। ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ (মহিলা) এর প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী ছিলেন।

সেই সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা শুদ্ধানন্দ অডিটরিয়াম ধর্মরাজিক কমপ্লেক্সে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অধ্যক্ষ প্রতিভা মুৎসুদ্দি অসুস্থ থাকায় তাঁর পক্ষে সম্মাননা পদক গ্রহণ করেন ভারতেশ্বরী হোমসের বর্তমান অধ্যক্ষ মিস ত্রয়ী বড়–য়া। এ সময় প্রতিভা মুৎসুদ্দি সম্পর্কে তিনি বক্তব্য রাখেন।

শিক্ষাবিদ হিসেবে ভারতেশ্বরী হোমসের সাবেক অধ্যক্ষ মনিকা দেবী বড়–য়া, উদ্যোক্তা শিখা বড়–য়াকেও সম্মাননা দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ও ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত বুদ্ধপ্রিয় মহাথের সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুননেসা ইন্দিরা এমপি।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি। এতে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা দক্ষিণ সিটির কাউন্সিলর লায়ন চিত্ত রঞ্জন দাস, ভারতেশ্বরী হোমসের পক্ষে শিক্ষক মিস পূরবী সাহা, মিস পাইসানু মারমা বক্তৃতা করেন।

ভারতেশ্বরী হোমসের সাবেক অধ্যক্ষ প্রতিভা মুৎসুদ্দি শিক্ষা ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য ২০০২ সালে একুশে পদক, ২০০৬ সালে ‘বিশুদ্ধানন্দ স্বর্ণপদক’, ২০১৭ সালে বাংলা একাডেমির ফেলোশিপ লাভ করেন। এ ছাড়া আরও বহু পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমস ২০২০ সালে সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ করে।

সভায় বক্তারা বলেন, ভাষাসৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি শুধু নামে নন, কর্মেও প্রতিভার স্বাক্ষও রেখেছেন। ছাত্রজীবন থেকে কর্ম জীবন, সামাজিক জীবন থেকে রাজনৈতিক জীবন, প্রতিভা মুৎসুদ্দি আলো হাতে চলেছেন আঁধার জয়ের প্রত্যয় নিয়ে। প্রতিরোধ চেতনায় তিনি উদ্দীপ্ত, শিক্ষা প্রসারের ব্রতে নিবেদিত। প্রতিভা মুৎসুদ্দি কৈশোরে ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্তির মধ্য দিয়ে গ্রহণ করেন জীবনের দীক্ষা, তারপর নানা বাধা ডিঙিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে নারীশিক্ষা প্রসারে নিজেকে নিবেদন করেছেন পরিপূর্ণভাবে। তিনি এ দেশে বাঙালি বৌদ্ধ মহিলাদের সমাজকর্মে উৎসাহ দিতে সব সময়ই সচেষ্ট থেকেছেন। কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গলের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার স্নেহ ও সাহচর্য প্রতিভা মুৎসুদ্দির নিরন্তর প্রেরণার উৎস। শিক্ষা সংস্কৃতি মানব কল্যাণের চেতনা স্নাত পূর্ণ মানব গড়ার সাধনায় প্রতিভা মুৎসুদ্দি আদর্শের বাতিঘর।

ব্রেকিং নিউজঃ