রবিবার, সেপ্টেম্বর 27, 2020
Home টাঙ্গাইল বর্ষায়ও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ টাঙ্গাইলবাসী

বর্ষায়ও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ টাঙ্গাইলবাসী

জাহিদ হাসান ॥
হাতেকলমে এবার বর্ষা এসেছিল জুনের প্রথম দিকেই। বর্ষায় প্রথম থেকেই টাঙ্গাইলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হলেও ধারাবাহিকতা এখন আর নেই। তবে এখন টাঙ্গাইলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম। বৃষ্টির বদলে ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ শহরবাসীর জীবন। গরম থেকে মুক্তি যেন মিলছেই না ঘোর এই বর্ষাতেও।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু যেভাবে সক্রিয় হওয়ার কথা সেভাবে হচ্ছে না। ফলে বাতাসে লঘুচাপের প্রভাব বাড়ছে। এ কারণেই মূলত টাঙ্গাইলে এবার বর্ষার শুরুতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেক কম। উল্টো বাড়ছে গরমের মাত্রা। ভরা বর্ষায় বৃষ্টি না থাকার কারণে ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে এবার মুক্তিই পাচ্ছেন না শহরবাসী। তারা জানান, বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে ভ্যাপসা গরম আর প্রচন্ড রোদের ধারাবাহিকতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এবার (৭ জুন) থেকে বর্ষা বা মৌসুমি বায়ু দেশের ভেতরে প্রবেশ করে। বর্ষা আসার আগ থেকে টাঙ্গাইলে প্রাক বর্ষায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় আমফান চলে যাওয়ার পর থেকে বৃষ্টির ধারাবাহিকতা শুরু হয়। বর্ষার আগমনের পর পর এই ধারা কিছুদিন অব্যাহত ছিল। আবহাওয়া অফিস জানায়, মাঝে মধ্যে মৌসুমি বায়ু দেশের উত্তরের দিকে বেশ সক্রিয় হয়ে পড়ছে। ঝরছে ভারি বৃষ্টি।
আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদরা টিনিউজকে বলেন, দেশে সেন্ট্রাল পার্ট বিশেষ করে টাঙ্গাইলে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় না থাকায় বাতাসে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাব বাড়ছে। ফলে এসব এলাকায় বর্ষার শুরু থেকেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অনেক কম। এর বদলে প্রচন্ড রোদ আর ভ্যাপসা গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। টাঙ্গাইলে এরই ধারাবাহিকতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া দেশের মধ্যে মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় থাকলেও সারাদেশে এক সঙ্গে সক্রিয় হচ্ছে না। ফলে দেশের কোথাও ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবার কোথাও বৃষ্টিপাত কম হচ্ছে। টাঙ্গাইলেও বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। মৌসুমি বায়ু কম সক্রিয় থাকার কারণে পশ্চিমা লঘুচাপের আধিক্য বেড়ে যাচ্ছে উল্লেখ করেন।
আবহাওয়াবিদরা টিনিউজকে আরও জানান, এই সময়ে বাতাসে জলীয় কণার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। ফলে কাঙ্খিত মাত্রায় বৃষ্টিপাত না হলে এই জলীয় কণা আরও অধিক গরম হয়ে ভ্যাপসা পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এছাড়া এই সময়ে দিনের ভাগের পরিধি প্রায় ১৪ ঘণ্টা। এ কারণে গরমের মাত্রাটা আরও বেড়ে যাচ্ছে। আষাঢ়ে নিয়মিত বৃষ্টিপাত হলে এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না। আষাঢ়ে কাঙ্খিত বৃষ্টি না হলে গরমের মাত্রা এমনিতেই বেড়ে যায়। আষাঢ় মাস বৃষ্টির সময়। সারাদিন রিমঝিম বৃষ্টি হলো আষাঢ়ের বৈশিষ্ট্য। কোন কারণে আষাঢ়ে বৃষ্টিপাত না হলে গরমের মাত্রাটা এমনিতেই বেড়ে যায়। তার সঙ্গে জলীয় কণা গরম হয়ে এই মাত্রা অসহনীয় করে তোলে। দিনের পরিধি সবচেয়ে বেশি থাকায় বৃষ্টি না থাকলে সূর্যের কিরণ খাড়াভাবে এসে লাগে।

ব্রেকিং নিউজঃ