বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশেই হচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চল ॥ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

109

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে জেগে ওঠা চরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে শুধু ভূঞাপুর তথা টাঙ্গাইল নয়, সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার শিল্প-বাণিজ্যের সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। কর্মসংস্থান হবে হাজার হাজার বেকারত্ব মানুষের। যমুনা নদীতে নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু ও সদ্য নির্মিত হতে যাওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতুর পূর্ব পাশে উপজেলায় ৫০২.০২ একর খাস জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চলের জোন প্রতিষ্ঠার জন্য জোর তৎপরতা শুরু করেছে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
দেশে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য এ উপজেলার পলশিয়া মৌজায় ৯৬.৩৪ একর, দোভায়া মৌজায় ৪৫.৪৫ একর, কোনাবাড়ী মৌজায় ৯৭.১৩ একর, পাটিতাপাড়া মৌজায় ৩২.৪০ একর, নাগরগাতী মৌজায় ৮৭.৩৮ একর, ভালকুটিয়া মৌজায় ৯৬.৩৬ একর, কষ্টাপাড়া মৌজায় ৬.৯৬ একর এবং খানুরবাড়ী মৌজায় ৪০ একরসহ সর্বমোট ৫০২.০২ একর ভূমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত স্থানটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভূঞাপুরের যমুনার তীরে অবস্থিত হওয়ায় নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। এছাড়া এটি বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশনের নিকটবর্তী হওয়ায় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থারও প্রসার ঘটবে। ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হওয়ায় সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ। এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে সর্বোপরি টাঙ্গাইলসহ পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হবে। ফলে যমুনার ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে সেতু পূর্বপাড়ের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটা। সুযোগ সৃষ্টি হবে পর্যটন শিল্পেরও।
এরইমধ্যে গত বছর কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করে গেছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, ছানোয়ার হোসেন এমপি। এরআগে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল মহাব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী ভূঞাপুরে প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেছেন। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পরিদর্শন করেছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার নিকরাইল ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নের যমুনা নদীর অংশে ৫০২.০২ একর জমিতে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের নির্ধারিত এলাকা পরিদর্শন করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশরাত জাহান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসলাম হোসাইন, নিকরাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার প্রমুখ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি জেলায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক উপজেলার নিকরাইল ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৮টি মৌজার ৫০২.০২ একর খাস জমিতে অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানো হয়। সে মোতাবেক এতোপূর্বের ন্যায় জেলা প্রশাসক প্রস্তাবিত ওই স্থান পরিদর্শন করেন।

ব্রেকিং নিউজঃ