ফারুক হত্যা মামলার বিচার ৯ বছরেও হয়নি ॥ মৃত্যুবার্ষিকীতে হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি

87

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার বিচার নয় বছরেও শেষ হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত ফারুক আহমেদের পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা। টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও ’৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের মৃত্যুবার্ষিকীতে বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া মৃত্যুবার্ষিকীতে কবর জিয়ারত, কোরআনখানী, দোয়া মাহফিল ও দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ ও পরিবারের পক্ষ থেকে জনপ্রিয় প্রয়াত নেতা ফারুক আহমদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তার নিজ বাসা শহরের কলেজ পাড়ায় কোরআনখানী, দোয়া মাহফিল ও দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।




বুধবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে শহরে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। এর আগে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, নিহত ফারুক আহমদের স্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহার আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন ও সুভাষ চন্দ্র সাহা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক প্রমুখ। এ সময় আওয়ামী লীগ ছাড়াও ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলাটি টাঙ্গাইল প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালত সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ২৬ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী (২ ফেব্রুয়ারি) স্বাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ রয়েছে।




মামলা সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০১৩ সালের (১৮ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির কাছ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করা হয়। বিগত ২০১৪ সালে এই মামলায় জড়িত থাকা সন্দেহে আনিসুল ইসলাম ওরফে রাজা এবং মোহাম্মদ আলী নামক দুই জনকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাদের আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিতে এই হত্যার সাথে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তার অপর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ বিগত ২০১৬ সালের (৩ ফেব্রুয়ারি) আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার চার ভাইসহ ১৪ জনকে আসামী করা হয়।




এই মামলার আসামী আমানুর রহমান খান রানা আত্মসর্মপনের পর তিন বছর হাজতে থাকার পর বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন। তার অপর ভাই সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি দুই বছর আগে আদালতে আত্মসমর্পনের পর এখন পর্যন্ত কারাগারে রয়েছেন। আরও কারাগারে রয়েছেন আলমগীর হোসেন চানে। আমানুর রহমান খান রানার অপর দুই ভাই জাহিদুর রহমান খান কাকন ও সানিয়াত খান বাপ্পাসহ মো. কবির এবং ছানোয়ার হোসেন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। অন্য আসামীদের মধ্যে আনিসুর রহমান রাজা ও মো. সমীর কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন। আরও জামিনে রয়েছেন মোহাম্মদ আলী, মাসুদুর রহমান, নাসির উদ্দিন নুরু, ফরিদ আহমেদ ও মো. বাবু।
মামলার বাদি নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ টিনিউজকে বলেন, আসামীরা প্রভাবশালী। তারা নানাভাবে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যার বিচার পেতে আর কত অপেক্ষা করতে হবে। তিনি দ্রুত হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান।




এই হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইল অতিরিক্ত সরকারি কৌশুলী মনিরুল ইসলাম খান টিনিউজকে জানান, বাদি, চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেটসহ এই মামলার গুরত্বপূর্ণ স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের জেরাও শেষ হয়েছে। এখন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ দুই, একজনের স্বাক্ষ্য হলেই মামলাটি যুক্তিতর্কে যাবে। তারপর রায় হবে।
ফারুক আহমেদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার পরিবারের পক্ষ থেকে কলেজ পাড়ার বাসায় কোরআনখানী ও দরিদ্রদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণের কর্মসূচি নেয়া হয়। টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া টিনিউজকে জানান, দলের পক্ষ থেকে বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে দলীয় কার্যালয়ে কোরআনখানী, শোকযাত্রাসহ কবরে পুষ্পস্তবক অর্পন এবং হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে শহীদ মিনারে সমাবেশ করা হয়। পরে গণভোজের আয়োজন করা হয়।




 

ব্রেকিং নিউজঃ