প্রথম পর্ব : একটি অপমৃত্যু ও কিছু কথা : কাজী মোহাম্মদ খোরশেদ আলম

256

মায়ের সাথে মেয়ের মধূর সর্ম্পক বিরাজমান। মা মেয়েকে আগলে রাখে আবার মেয়ে মাকে আগলে রাখে। বাবা প্রবাসী বিধায় মা-মেয়ে মিলে-মিশে সংসারের সকল কাজ সম্পূর্ণ করে এবং অন্যান্য ভাই-বোনদেরকে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করছে। সকলকে নিয়ে তাদের একটি সুখের সংসার। বড় বোন সাফিয়া আক্তার আর মেঝ বোন সখিনা আক্তার-যেন জোড়া কবুতর। দুই বোনই একই স্কুলে পড়া-লেখা করে। বড় বোনটি এক কাশ উপরে আর ছোট বোনটি এক কাশ নিচে। বয়সও কাছাকাছি- দু’এক বছর আগ-পাছ। তা ছাড়া তাদের তাসপিয়া নামের আরোও একটি বোন রয়েছে এবং সফিক নামের একটি বোবা ভাই রয়েছে। তিন মেয়ে এবং একমাত্র বাকপ্রতিবন্ধী ছেলেটি কে নিয়ে মা পারভিন বেগম সুন্দর ভবিষ্যৎতের কথা ভাবছে- কিভাবে মেয়েদেরকে ভাল বিয়ে দেওয়া যায়; ভাল পাত্রস্থ করা যায়। ছেলেটি বাকপ্রতিবন্ধী থাকায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে মা অন্ধকারে হাবু-ডুবু খাচ্ছে। তবুও হাল ছাড়েনি। একমাত্র প্রবাসী স্বামীর কষ্টের উপার্জনের উপর ভর করে চলছে তাদের সাঁজানো-গোছানো সংসারটি। প্রবাসী স্বামী বহু কষ্ট করে টাকা পাটাচ্ছে অপর দিকে স্ত্রী তার ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎতের স্বপ্ন বুনছে। তাদের স্বপ্ন যখন পূরিপূণ হয়ে দু-পাখা মেলে আকাশের পানে উড়তে যাবে তখনই তাদের জীবনে নেমে এল কাল বৈশাখী ঝড় হাওয়া। কালের নজর পড়েছে তাদের সংসারের উপর। চারদিক থেকে ঘূর্ণিঝড়ের মতো বেষ্টিত করে কোথায় যেন নিয়ে চলছে। এর গন্তব্যস্থল কোথায় কেউ জানে না; সবাই সেটা কোন মজার খেলা মনে করে হাত তালি দিয়ে মজা লুটছে। হ্যাঁ তাদের কাছে এটি একটি খেলায়ই যতক্ষণ না নিজের জীবনে বয়ে আসে। কারো ব্যাথা কেউ কখনো বুঝে না- যদি না সে ব্যাথা নিজে কখনো উপলব্ধি করে বা এই যন্ত্রণাটা তার নিজের জীবনে বয়ে আসে। এটা আজকের সমাজ ব্যবস্থা। সুখের সময় আছি বন্ধু, দুখের সময় নাই। কেউ কারো নয়, কেউ কারো নয়- এই কথাই সত্যি রয়। জগত সংসার বড়ই কঠিন। আগে শুনতে পেতাম শহরের মানুষ গুলো ইট-কাঠের পরিবেশে বসবাস করে তাদের মনটাও ইট-কাঠ-পাথরে পরিণত হয়ে যায় কিন্ত এখন দেখি গ্রাম-গঞ্জও তার ব্যতিক্রম নয়। বিপদে পড়লে কেউ এগিয়ে না আসে; না জানি বিপদ কখন তার ঘাড়ে চড়ে বসে। এভাবেই চলছে, বর্তমান সভ্য পৃথিবীর মানুষগুলো যা প্রায়ই দেখতে পাচ্ছি। বিপদগ্রস্থ, অভাবগ্রস্থ মানুষের হা-হাকার; তাদের আর্তনাথে আমাদের হৃদয়ে কখনো দাগ কাটে না বরং তাদের বিপদে ফেলে রেখে ফায়দা লুটে নেওয়ার চেষ্টা করা এবং ফঁন্দি করাই যেন মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন প্রায় প্রত্যেকটি সমাজ ব্যবস্থা ফঁন্দিবাজরা নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইবলিশ সয়তান মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে তাদেরকে মানুষ সয়তানে পরিণত করে ফেলেছে; তাই নিত্যদিন কত চিত্র দেখতে হচ্ছে বা কত ঘটনা ঘটছে। বড় মেয়ে সাফিয়া আক্তার এর জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে। মা চিন্তা করে তার মেয়ে কখনো ভারী কোন কাজ-কাম করে নি। তাকে যেন-তেন জায়গায় বিয়ে দিবে না। সরকারী চাকুরীজিবী পাত্র দেখে বিয়ে দিবে। যত টাকাই খরচ হোক; এতে কখনো পিছ পা হবে না। মেয়ের সুখ দেখে যেন আত্মতৃপ্তি হয়। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় মেয়ে মায়েদের কাছে সরকারী চাকুরীজিবী ছেলেরা যেন সোনার হরিণ। তাকে পেতে তারা আট-ঘাট বেঁধে নেমে পড়ে। আর অপর দিকে চাকুরীজিবী ছেলেদের বাবা-মা ও অভিভাবকরা মোগল সম্রাট সেঁজে উচ্চ আসনে বসে থাকে। তাদের গলায় মুক্তোর মালা পড়িয়ে এবং দুধ দিয়ে পা ধুয়ে ও নাগবীণ বাঁজিয়ে উচ্চ আসন থেকে কর্ণিশ করে নামিয়ে আনতে হয়। ছেলেটি যে রকমই হোক না কেন। তার ভিটে-বাড়ী থাকুক আর নাই বা থাকুক; তাতে কিছুই আসে যায় না। সাফিয় আক্তারের পরিবারের নিকট এমনই এক পাত্রের পক্ষ থেকে বিয়ে প্রস্তাব আসল। ছেলে বিজিবিতে চাকুরী করে। মেয়ের মা তো আকাশে উড়ছে আর পড়ছে। এমন পাত্রের সন্ধানইতো তারা দীর্ঘদিন ধরে করছে। তা ছাড়া আরো মজার বিষয় হলো: ছেলের মা-বাবা, ভাই-বোন কেউ নেই; একেবারে একা। জায়-ঝামেলা বলতে কিছুই নেই। পাত্রের নাম সাইফুল ইসলাম রিপন। বাবা মারা যাওয়ার পর মাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দেওয়ায় সে মামার বাড়িতে বড় হয়েছে। আবার এটাও জানা যায়, দাদা তাকে রিক্সা চালিয়ে লেখা-পড়া করিয়েছে। তবে কোনটা সত্য একমাত্র বিধিই জানেন আর জানেন তার অভিভাবকরা। বাপ-মায় নেই; তার অভিভাবক কে? খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায় তার বড় মামাই বর্তমানে তার অভিভাবক। তাছাড়া সাফিয়া আক্তারের পাশের বাড়ীতে ছেলের এক খালার বিয়ে হয়েছে। তাই খালা-খালুও বিয়ের জন্য অগ্রসর হয়েছে। বিয়ে কথা-বার্তা চলছে। মোটা অংকের লেনদেন হতে হবে। অন্যথায় বিয়ে হবে না। ছেলে সরকারী চাকুরীজিবী;- হ্যাঁ। দেখতে যাই হোক,সোনার টুকরো কিন্ত। যেন তেন দামে তাকে বিক্রয় করা হবে না। গরুর হাটে যেমন দরকষাকষি শুরু হয়, তেমন দরকষাকষি চলছে। সাফিয়ার বাবা সুজত এবং মা পারভিন বেগম সাত-পাঁচ না ভেবে ভালভাবে কোন খোঁজ-খবর না নিয়ে ছেলে ক্রয় করার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ল। পাড়া-প্রতিবেশি ও ভাই-বোনদের কথা এবং আত্মীয়-স্বজনদের কথা উপেক্ষা করে; এমনকি মেয়ের মতামত না নিয়ে- বিয়ের আয়োজন শুরু করে দিল। তারই মধ্যে শুনতে পাওয়া গেল – ছেলে এই হালকা-পাতলা ধোঁয়া টানে; সিদ্ধি বলে যার পরিচিতি রয়েছে। মেয়ের বাবা-মা এখন কারো কথা শুনতে রাজি নয়; তারা হালের বলদ পেয়ে গেছে। টাকা-পয়সা যতই লাগুল তাকে ঘরে এনে বশিভূত করতে হবে। যেহেতু তার কেউ নেই আর নিজের ছেলেটাই যখন বাকপ্রতিবন্ধী তাকেই ছেলে করে ঘরে নিয়ে আসবে; ধরুন ঘরজামাই যাকে বলে আর কি। সব কথা-বার্তা শেষ; এখন বলদের দাম পাকাপোক্ত করা হবে। এই চাকুরীজিবী বলদ কত টাকায় বিক্রয় হবে। উভয় পক্ষের লোকজন বসে কথা বলছে ঠিক কিন্ত বলদের দাম কত হবে; তা গোপনে ঠিক করা হয়েছে। সমাজের সবার সামনে দাম-দর কেমন উদ্ভুট লাগবে। সামাজিক লোকজনের অগোচরে বলদের দাম ঠিক করা হলো ৪ লক্ষ টাকা। সামাজিক ভাবে বিয়ের দিন-তারিখ ধার্য্য করে সমাজপতিরা চলে যায়। তবে এই টাকা কখন দেওয়া হবে এবং সেই টাকা কার নিকট আমানত থাকবে; সেই নিয়ে উভয় পক্ষের লোকদের মধ্যে কিছু কথা কাটা-কাটি হয়। ছেলে মামার দাবি সে তাকে ছোট থেকে কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছে, তাই এই টাকার দাবীদার সে; এই কিছু হালুয়া-মাখন খাবে কয়েক দিন। তারপর ভাগিনা যখন চাইবে তখন দিয়ে দিবে অথবা লালন-পালন করার খরচ বাবদ কিছু রেখে দিবে-এই যা তা চিন্তা উদয় হয়েছে মেয়ের পক্ষের মনে। কিন্ত মেয়ের মা অনড়। যেহেতু সে এখন থেকে আমার ছেলে, সেহেতু তার ভাল-মন্দ দেখার দায়-দায়িত্ব আমার। এই টাকা আমি কারো হাতে দেব না। ছেলে নিতে চাইলে একমাত্র তার হাতে দেব; অন্যাথায় আমি নিজেই এই টাকা বৃদ্ধি করে প্রয়োজনে আমার থেকে আরোও কিছু টাকা লাগলেও তা দিয়ে বাড়ি জায়গা কিনে দেব। যেন আমার মেয়ের সুখ-শান্তি হয়। এতে ছেলের মামা খুব রাগ করেন। তিনি কোন মতে বিয়ের কাজটা সম্পূর্ণ করে চলে যায়। আর কোন দিন ভাগিনা ও ভাগনি বউয়ের খোঁজ-খবর নেয়নি। ছেলে ভিটে-বাড়ী না থাকায় মেয়েকে বাধ্য হয়েই তার পিত্রালয়ে থাকতে হলো। মেয়ের জামাই চাকুরী থেকে ছুটিতে আসে যায়। মা-মেয়ে সংসারে হাল ধরে আছে। বাবা প্রবাসী। তার কানে কত কথা যায়। তার স্ত্রী ব্যাভিচার করে, পরকীয়ায় মত্ত থাকে; হাট-বাজারে ঘুরে বেড়ায় ইত্যাদি ইত্যাদি আরো কত কি কথা। প্রবাসী স্বামী সব শুনেও নিশ্চুপ থাকতে হয়, এছাড়া তার কোন কিছুই করার থাকে না। কারণ সে চাইলেও বাড়ীতে আসতে পারে না; কথা গুলোর সত্যতা কতটুকু তাও সে জানে না। এদিকে জামাইয়ের সাথে মেয়ের বনি-বনা হচ্ছে না। ছুটিতে আসলে প্রায়ই ঝগড়া-ঝাটি হয়। মেয়েকে মারধর করে। মা, সব দেখে-শুনে কিছুই বলে না। সোনার টুকরো জামাই; লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছে। আদর যতœ করে দেখি সে পরিবর্তন হয় কি-না; মা, ভাবেন। হঠাৎ করে মেয়ে ও জামাইয়ের মধ্যে দন্ধের মূল কারণ উদঘাট করতে শুরু করলেন। মেয়ের সুখের জন্য চার চারটি লাখ টাকা নগদ এবং অন্যান্য খরচ তো আছেই। এত টাকা খরচ করে কি মেয়ের সুখ হবে না। মায়ের কপালে চিন্তার রেখার দেখা দিল। অপর দিকে স্বামীকে কে যেন ভুল বুঝায়। তার স্বামীও কেমন যেন পরিবর্তন হয়ে গেছে। তাদের স্বপ্ন ধূলিশাৎ হতে চলছে। এরই মধ্যে পারভিন বেগমের দ্বিতীয় মেয়ে সখিনা আক্তারের বিয়ে নিয়ে কথা-বার্তা বলছে। তিনি এখন আর একা সিদ্ধান্ত নিতে চান না। আত্মীয়-স্বজন এবং সমাজবাসী নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে চায়। তাই সমাজের সবাই মিলেমিশে একটি ভাল ঘরে ভিটে-বাড়ী দেখে তাকে বিয়ে দেয়। দ্বিতীয় মেয়ে বিয়ে দেওয়ার পর প্রথম মেয়ের জামাই রিপন আরো বেঁেক বসে। যা-তা ব্যবহার করে এবং মেয়ের উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। নেশা করে ঘরে ফেরে মেয়েকে মারধর করে। মেয়ে, মায়ের কাছে বিচার দেয় কেমন ছেলে দেখে আমাকে বিয়ে দিয়েছ। তোমরা আমার জীবনটা ধ্বংস করে দিয়েছ। বাবার কাছে বিচার দেয়; কিন্ত কারো কাছে শান্তণা পাওয়ার মতো কোন কথা শুনে না। এদিকে পারভিন বেগমের এক ভাসুর মুরশেদ এবং দেবর রহিম; তার এই সুখের সংসারকে ধ্বংস করার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে। তারা তার সুখ সহ্য করতে পারে না। তাই প্রথম মেয়ের জামাইকে তার ভাসুর নিজের ঘরে নিয়ে ভুল বুঝাতে লাগল। অপর দিকে প্রবাসী ভাইয়ের কানে ফোনে ফোনে বিষ ঢালতে শুরু করে । প্রবাস থেকে একবার মেয়ের দুঃখ কষ্ট শুনে আবার স্ত্রীর খারাপ চত্রিতের কথা শুনে রাগে ফুলতে থাকে স্বামী। কিন্তু তার কিছুই করার থাকে না। এদিকে তার ভাসুর মুরশেদ তার প্রতি ষড়যন্ত্র কেন শুরু করেছে; তার উত্তর খোঁজতে হলে কয়েক বছর পূর্বে ফিরে যেতে হবে। কয়েক বছর পূর্বে মুহাম্মদ আলী ছুটিতে দেশে আসে এবং বিভিন্ন লোক মুখে স্ত্রীর নামে কিছু খারাপ কথা শুনে তাকে মারধর করে। এই নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি হয়। তখন তাদের মেয়েরা ছোট। একদিন উভয় খুব মারামারি করে এতে পারভিন বেগম খুব আহত হয় এবং মোহাম্মদ আলী হাতে ছুটি থাকতে পালিয়ে বাড়ি থেকে সৌদি চলে যায়।পারভিন বেগম হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন থাকে। এই সময় তার ভাসুর দেবর কেউ তার খোঁজ-খবর না নেওয়ায় সে থানা একটি নারী নির্যাতনের মালমা দাখিল করে তার ভাসুর মুরশেদ এবং মোহাম্মদ হোসেনকে আটক করে থানা হাজতে নেয়। পরবর্তীতে তার সৎ দেবররাসহ ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তিনশত টাকার স্ট্যাম্পে মুসলেকা প্রদান করে আপন দুই ভাসুরকে ছাড়িয়ে নেয়। এতে ভাসুর মুরশেদ ছোট ভাইয়ের বউ পারভিন বেগম এবং তার মেয়ে সাফিয়া আক্তারের ও তার সৎ দেবরদের শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। থানা থেকে ছাড়া পেয়ে মুরশেদ তার সৎ ভাইদের নামে মামলা উদ্দ্যোগ গ্রহন করে। কিন্তু সমাজের কারো নিকট সমর্থন না পাওয়া এবং তার স্ত্রী নিলুফা বেগম তাকে মামলা করা থেকে বিরত রাখে। এই থেকে ঐ পরিবারের মধ্যে ত্রিমুখি শত্রুতা শুরু হয়। তখন থেকে মুরশেদ হয়ে যায় ঐ পরিবারের ইবলিশ শয়তান, যখন যার সাথে ইচ্ছা হয় ভাল সর্ম্পক ঘরে তুলে তার দুর্বল স্থানগুলো চিহ্নিত করে ক্ষতি করা শুরু করে। কখনো আপন ভাইয়ের সাথে আবার কখনো সৎ ভাইদের সাথে এবং কখনো ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পারভিন বেগমের সাথে। প্রতিনিয়তই ঝগড়া-ঝাটির হাট বসায়। এভাবে তার শয়তানির সূত্র চলতে থাকে। এরই মধ্যে তার বড় ভাই মোহাম্মদ হোসেন দুঃখে, শ্লোকে,কেশে স্ট্রোক করে মারা যায়। তার সাথেও মুরশেদের নেতৃত্বে দীর্ঘ শত্রুতা চলে এবং কয়েক দফা ঝগড়া-ঝাটি হয়। থানা হাজত খাটার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য একের পর এক বিভিন্ন ইস্যূ তৈরী করতে থাকে। বার বার ব্যর্থ হয়। তারপর তার শয়তানির সর্বোচ্চ সূত্র প্রয়োগ করে। একদিকে প্রবাসী ভাইকে হাতে নেয় অপর দিকে মেয়ের জামাইকে হাতে নিয়ে বিভিন্ন কটু কৌশল অবলম্বন করে। মা-মেয়ের মধ্যে সর্ম্পকের অবনতি ঘটায়। প্রতিনিয়তই মা-মেয়ের মধ্যে ঝগড়া বাঁধায়। তাদের সর্ম্পক এত অবনতি হয় যে, মা; মেয়েকে দেখতে পারে না। মেয়ে মাকে দেখতে পারে না। বাবা মাকে দেখতে পারে না অপর দিকে জামাই মেয়েকে দেখতে পারে না। চৌমুখি দ্ধদ্ধ সৃষ্টি করে মুরশেদ শয়তানি ফরমূলা হাতে নিয়ে বাড়ির মাতাব্বর হয়ে তাদের বিচার করে; কৃত্রিম মিল করার চেষ্টা করে আর ফঁন্দি খোঁজে কিভাবে ধ্বংসের ধার প্রান্তে নিয়ে যাওয়া যায়। এরই মধ্যে তাদের সৎ ভাই রফিককে মুরশেদ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। নিজের ভাইদের সাথে সর্ম্পকের অবনতি করে রফিক মুরশেদের অনুচর বানায়। রফিক সৎ ভাই মুরশেদ কথা শুনে আপন ভাইদের সাথে সর্ম্পক খারাপ করে সৎ ভাইদের সাথে মেলামেশা শুরু করে এবং আপন ভাইদের ক্ষতি করার ফঁন্দি আকঁতে থাকে। কিন্তু রফিক কখনো ভাবতে পারে নি; সে যে নিজের ক্ষতির দিকে ধাঁপিত হচ্ছে। সৎ ভাইয়ের পরার্মশে আপন ভাইদের সাথে সর্ম্পকের অবনতি সৃষ্টি করে নিজের পায়ের নিচের মাটিকে ক্রমান্নয়ে দূরে ঠেলে দিতে লাগল। মনের অজান্তে নিজের পায়ে কুড়াল মারতে শুরু করে। মুরশেদসহ গ্রামের আরোও কিছু কু-চক্রীমহল সূ-কৌশলে তাদের সৎ ভাইদেরকে ভিটে-বাড়ী ছাড়া করার কলা-কৌলন নিয়ে ঠান্ডা মাথায় অগ্রসর হতে থাকে। সৎ ছোট ভাইদের কে কিভাবে হেয়-পতিপন্ন করায় যা এবং কিভাবে তাদের ক্ষতি করা যায়, তা নিয়ে মুরশেদ চব্বিশ ঘন্টা মশগুল থাকে। তার শক্তি বৃদ্ধি করার নিমিত্তে সমাজের কিছু চিহ্নিত সুদখোরকে সাথে নিয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে। কিন্ত তারা বার বার ব্যর্থ হয়; তাদের কোন পরিকল্পনা সার্থক হয় না। অবশেষে তাদের কুটু কলা-কৌশল বাস্থবায়ন করার সুযোগ হাতের মঠোয় চলে আসে। পারভিন বেগমের সাথে তার মেয়ে সাফিয়া আক্তার ঝগড়া-ঝাটি শুরু করে। পারভিন বেগম তার বড় ভাসুরের নিকট প্রায়ই বিচার প্রার্থী হয় কিন্ত ভাসুর মুরশেদ বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজে চক্রান্তের জাল বিস্তার করতে থাকে। সাফিয়া আক্তারের স্বামী সাইফুল ইসলাম রিপনকে ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে শ্বাশুড়ী ও স্ত্রীর প্রতি বিষাদগাঢ় করে তুলে। এতে সাফিয়া তার স্বামীর প্রতি ক্ষুন্ন হয়ে মায়ের সাথে অভিমান করে রাতের আধাঁরে সকলের অগোচরে পিত্রালয়ে ওড়না পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সাফিয়া আক্তার আত্মহত্যা করার পর দীর্ঘ থেকে ওতপেতে থাকা শত্রুরা বিরাট সুযোগ পেয়ে গেল। এই সুযোগে সৎ ভাই রফিক এবং পারভিন বেগমকে ফাসিয়ে দিল। সকাল মুরশেদ ও রহিস দোকান পাটে গিয়ে বয়ান দিতে শুরু করল যে, আমার ছোট সৎ ভাই রফিকের সাথে পারভিন বেগমের পরকিয়া চলছিল তা ভাজতি সাফিয়া আক্তার দেখতে পাওয়ায় তাকে হত্যা করে ঘরের তীরের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। মূর্হুতের মধ্যে খবরটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মায়ের পরিকীয়ায় বলি হল মেয়ে। ষড়যন্ত্রকারীরা সূ-কৌশলে প্রকৃত ঘটনাটিকে আড়াল করে কুৎসা রটিয়ে দিয়ে একটা হৈ-চৈ ফেলে দিল। এই কুৎসা রটনার ঘটনাকে আরো ভালো ভাবে প্রচারের জন্য ভাসুর মুরশেদ কতিপয় অসাধু ও ভন্ড প্রকৃতির এবং হলুদ সাংবাদিকের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা প্রদান করে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করায়। এতে সারা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে পারভিন বেগম একজন খারাপ মহিলা। তার উপযুক্ত বিচার হতে হবে। তাকে স্বামীর ঘর ছাড়া করতে হবে এবং সৎ ভাই রফিক পেলে হত্যা করবে। মেয়ের মৃত্যূর খরব পেয়ে সুজত দেশে ফিরে আসে এবং প্রকৃত ঘটনা উলব্ধি না করে, ষড়যন্ত্রকারীদের কান কথা শুনে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। সুজত আপন ভাইদের সাথে সংবদ্ধ হয়ে সৎ ভাইদের উপর বিভিন্ন ভবে চড়াও হতে থাকে। রফিক তার ভয়ে দেশান্তর হয়ে আজ কোথায় আছে তা কেউ বলতে পারবে না। অপর দিকে রফিকের অন্য ভাইদেরকে কখনো হত্যা করবে, কখন ভিটে-বাড়ী ছাড়া করবে, কখনো মামলা দিবে বলে হুমকি-দমকি প্রদান করে। মাঝে মধ্যে দল-বল নিয়ে বাড়ী-ঘরে হামলার চেষ্টা চালায়, বিশেষ করে মুরশেদ ও তার ছেলেরা কথায় কথায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমন করে। সমাজের সাহেব সর্দারদের নিকট বিচার প্রার্থী হলে তার সৎ ভাইদেরকে চুপচাপ থাকতে বলে। এভাবে প্রতিনিয়ত মানষিক অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পথে ঐ পরিবারটি। অপর দিকে পারভিন বেগম মামলার আসামী হয়ে ঘুরছে এবং তার সৎ দেবর রফিক কোথায় আছে কেউ বলতে পারবে না। মুরশেদ ও তার সহযোগী কূ-চক্রিমহল পরিপূর্ণভাবে পতিশোধ নিতে পেরে মহা খুশি। আত্মতৃপ্ত হয়ে রাত্রিযাপন করে। তার দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়ন হয়েছে। সৎ ভাইদের কোমড় ভেঙ্গে দিয়েছে অপর দিকে পারভিন বেগমকে স্বামীর ভিটি থেকে তাড়িয়ে মামলার আসামী করেছে। নিজেকে থানা হাজতে নেওয়ার পতিশোধের আগুণ নিভিয়ে শান্ত হয়েছে। কিন্ত সৎ ভাইদেরকে ভিটে-বাড়ী ছাড়া করার আগ পর্যন্ত তার হৃদয়ে শাান্তি যেন আসতে চায় না। প্রকৃত পক্ষে সাফিয়া আক্তার আত্মহত্যার পরোচনায় আসল দোষী হল মুরশেদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। বিধির এই কি বিধান জন্মদাত্রী মাতা এখন মেয়ের আত্মহত্যার পরোচনাকারী হিসেবে মামলার আসামী হয়ে মানবতের জীবন-যাপন করছে। অপর দিকে ভাজতির আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে সৎ চাচা মামলার ফেরারী আসামী হয়ে দেশান্তর হয়েছে। পৃথিবীতে কোন বাবা যেন, দুই বিয়ে না করে। আর যদিও করে থাকে তবে যেন, সন্তান ও স্ত্রীদের জন্য আলাদা আলাদা বসবাসের জায়গা করে দেন। তারা যেন এই রকম হানা-হানি থেকে মুক্ত থাকতে পারে এবং সুখে-শান্তিতে জীবন যাপন করতে পারে। ডাল দিয়ে দু’মটো ভাত খেয়ে শান্তিতে রাত্রি যাপন করতে পারে। বি:দ্র: সম্পূর্ণ গল্পটিতে সকল চরিত্রের ছন্দ নাম ব্যবহার করা হয়েছে। লেখক কাজী মোহাম্মদ খোরশেদ আলম মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক

See more at: 

ব্রেকিং নিউজঃ