প্রচন্ড গরম আশ্বিনে অশান্তি ॥ রাতের শিশির গিলে খাচ্ছে দিনের সূর্য

91

এম কবির ॥
গরম এত বিচ্ছিরি ও প্রচন্ড হয়! হয়ও যদি, ভাদ্রে হোক। আশ্বিনে কেন? অনেকেই ভেবে পাচ্ছেন না। শরতের অপার সৌন্দর্য। মুগ্ধ হওয়ার মতো রং রূপ। কিন্তু সব যেন ভুলিয়ে দিচ্ছে গায়ের জামা ভেজানো ভ্যাপসা গরম। কী কা-!
এর আগে টাঙ্গাইলে শরতের প্রথম মাস ভাদ্র যথারীতি ভুগিয়েছে। পুরোটা সময় গরমে হাঁসফাঁস করেছে মানুষ। এর পর বিদায়। মাস বিদায় নিলেও ভাদ্রের সেই যে তালপাকা গরম, কী আশ্চর্য, রয়েই গেছে। অথচ আশ্বিনও পুরনো এখন। অর্ধেকটা সময় ইতোমধ্যে গত হয়েছে। আর মাত্র কিছুদিন পর হেমন্ত। কার্তিক অগ্রহায়ণ এ দুই মাস হেমন্তের কাল। আর হেমন্ত মানেই দারুণ মিষ্টি একটা আবহাওয়া। শীতের আগে শীত শীত অনুভূতি। ক্রমে এ অনুভূতি তীব্র হতে থাকে। এক পর্যায়ে শুরু হয় শীতের কাল। এ কারণে হেমন্তকে শীতের বাহন বলা হয়ে থাকে। বাহনটি এবার ঠিক ঠিক কাজ করবে তো? আশ্বিনে ভাদ্রের গরম দেখে কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।
বর্তমানে দিনের শুরুটা মোটামুটি ভালই হচ্ছে। শিশির ঝরছে গাছের পাতায়। ঘাসে। সকালে যারা ঘুম থেকে ওঠেন তারা নিশ্চয়ই এরই মাঝে হিমশীতল স্পর্শ পেয়েছেন। খালি পায়ে ঘাসের ডগা স্পর্শ করতেই অদ্ভুত এক শিহরণ। কিন্তু সূর্য উঁকি দিতে না দিতেই বদলে যায় ছবিটা। বদলে যেতে থাকে। রাতের শিশির মুহূর্তেই গিলে খায় সকালের সূর্য। তার পর থেকে তাপ শুধু বাড়তে থাকে। বিশেষ করে যখন কাজে যাওয়ার সময় তখন গরমটা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বিরক্তির ভাব, খিটখিটে মেজাজ নিয়ে অফিসে ঢুকছেন অনেকে। কোন কোন ক্ষেত্রে কাজেও এর প্রভাব পড়ছে। এছাড়া একই সময় টাঙ্গাইল শহরে যানজট বেড়ে কয়েকগুণ হয়ে গেছে। গাড়ি যেন চলতেই চাইছে না। সামান্য পথ পাড়ি দিতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। যাত্রীদের জন্য এ সময়টা চরম দুর্ভোগের। আর খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টের কথা তো বলে শেষ করা যাবে না। রিক্সা চালকরা ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে যাত্রী পরিবহন করছেন। তারও বেশি কষ্ট ভ্যান চালকদের। নির্মাণ শ্রমিক বা কারখানার শ্রমিকরাও স্বস্তিতে নেই। আশ্বিনের এই অশান্তি তারা মেনে নিতে পারছে না কিছুতেই।
অবশ্য বৃষ্টিও হচ্ছে মাঝে মধ্যে। কখনও একপশলা বৃষ্টি। কখনও টানা বর্ষণ। এর পর তো একটা ঠা-া হবে প্রকৃতি। আশা করাই যায়। বাস্তবে তা হচ্ছে না। বরং ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হচ্ছে জনজীবন।
কেন এ অবস্থা? কতদিন এভাবে কাটাতে হবে? উত্তরে আবহাওয়া অফিস বলছে, তাপমাত্রা খুব বেশি নয়। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেছে। এ কারণেই গা খুব ঘামছে। গা ঘামার কারণে গরমটাও বিচ্ছিরি ঠেকছে। এ অবস্থায় আর কিছুদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, হেমন্তের মিষ্টি আবহাওয়া এই কষ্ট ভুলিয়ে দেবে।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ