প্রচন্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে টাঙ্গাইল শহরবাসী

86

হাসান সিকদার ॥
সোমবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে পৌর উদ্যান এলাকায় রাস্তার পাশে গাছের ছায়ায় রিকশার সামনের সিটে পা তুলে পেছনের সিটে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন আনুমানিক এক যুবক। রিকশার হ্যান্ডেলের সামনে ঝুলছিল একটি মাস্ক। পাশেই আরও দুজন রিকশাচালক বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। রাস্তায় দায়িত্বে থাকা ট্রাফিককেও একটু ছায়ায় বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে।
আলাপকালে হালিম মিয়া নামের ওই তরুণ রিকশাচালক টিনিউজকে বলেন, একটু আগে নতুন বাসস্ট্যান্ড থাইক্যা একটা ক্ষ্যাপ (যাত্রী) নিয়া আইছি, এত্ত গরম, পরানডা বুঝি ফাইট্যা যায়। যাত্রীকে নামিয়ে দিয়েই চোখমুখে অন্ধকার দেহি। তাই একটু লম্বা অইয়া শ্বাস লইতাছি। শুধু দরিদ্র রিকশাচালক কিংবা ট্রাফিক পুলিশরাই নন গত কয়েকদিনের গরমে হাঁসফাঁস করছে শহরবাসী। বাসাবাড়ি, অফিস কিংবা রাস্তাঘাট কোথাও শান্তি মিলছে না। গত বেশ কিছুদিন ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। প্রখর রোদে ঘর-বাইর সব জায়গা এখন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলসহ অন্যান্য স্থানের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তা অব্যাহত থেকে বিস্তার লাভ করতে পারে। সোমবার (২৬ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের তাপমাত্রা রেকড করা হয়েছে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সরেজমিন শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রচন্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ। রাস্তাঘাটে অনেকেই প্রখর রৌদ্রকিরণ থেকে রক্ষা পেতে ছাতা মাথায় বের হয়েছেন। শ্রমজীবী মানুষ বিশেষ করে রিকশাচালক ও ভ্যানগাড়িচালকরা গরমে ঘেমে অস্থির হচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর পর গামছা দিয়ে মুখ মুছছেন। তবুও গরম কাটছে না। শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা আমিনা খাতুন টিনিউজকে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে রোজা রেখে গরমে অস্থির হচ্ছি। একাধিকবার গোসল করে শান্তি পাবো তারও জো নেই। প্রচন্ড রোদে ছাদের ট্যাংক গরম হয়ে পাইপ দিয়ে গরম পানি বের হয়। রান্না ঘরে ইফতারির জোগাড় করতে গিয়ে রীতিমতো ঘেমে গোসল করতে হয়।

ব্রেকিং নিউজঃ