পৌরসভার মেয়র মিরণ সদর আসনে প্রার্থীতা ঘোষনা করলেন

185

খালেক শিপন ॥
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন চাইবেন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরণ। রোববার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান। জামিলুর রহমান মিরণ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দলীয় নেতাদের নির্দেশে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য দিনরাত চষে বেড়িয়েছি। সে সময় সর্বস্তরের জনগনের সাথে একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। টাঙ্গাইল সদরের বড় একটি অংশ যমুনা ও ধলেশ্বরী চরাঞ্চল। এই এলাকার মানুষের দুর্দশা আমাকে আন্দোলিত করেছে। পৌরসভর গন্ডি পেড়িয়ে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ করা আমার নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দল মনোনয়ন দিলে তিনি নিশ্চিত বিজয়ী হবেন। আর দল যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয় তার পক্ষেই কাজ করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এম এ রকিব শামীম ও আনিসুর রহমান (দাদু ভাই), সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ সাহা, সাইফুজ্জামান খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক আলমগীর হোসেন তালুকদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক এলেন মল্লিক, মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক আব্দুর রৌফ রোকন, স্বাস্থ্য সম্পাদক আফম বজলুল করিম রিপন, কৃষি সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিন্জু, শ্রম সম্পাদক এহসানুল ইসলাম আজাদ (সরদার আজাদ), মহিলা সম্পাদক জেবুন্নেছা চায়না, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ, যুবলীগের সহসভাপতি খান আহমেদ শুভ, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মানিক, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মির্জা আনোয়ার হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মাতিনুজ্জামান খান সুখন, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিনু আনাহলি, কৃষক লীগের যুগ্ম সম্পাদক আরিফ খান ইউসুফ জাইসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও জানান, তিনবার টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। প্রথমবার ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগ দেন। বিগত ২০০৪ সালে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন। বিগত ২০১১ সালে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। বিগত ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের হত্যার বিচারের দাবিতে নাহার আহমেদের নেতৃত্বে গড়ে উঠা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। বিগত ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন। ওই বছর অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান।
টাঙ্গাইল-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন। তিনিও আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। এছাড়া এ আসনে নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহার আহমেদ মনোনয়ন চাইবেন।
এছাড়া শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল পৌরসভা মিলায়তনে পৌর এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডের তৃনমূল নেতা, পৌরসভার কাউন্সিলর ও সুধী সমাজের নেতৃবৃন্দর সাথে নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় জামিলুর রহমান মিরণ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের প্রার্থীতা ঘোষনা দেন। পৌরসভার মেয়র এবং সংসদ সদস্য প্রার্থী জামিলুর রহমান মিরণের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুজ্জামান খান সোহেল, মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, শহর আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ খান পিয়ারা ও আরিফ খান ইউসুফজাইসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গন্যমান্য ব্যক্তি ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরণ আগামীতে টাঙ্গাইল সদরের জনসাধারণের খেদমত করার সুযোগ এবং উন্নয়নমূলক কাজ করবেন বলে উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচিত হবেন বলে জানান।

ব্রেকিং নিউজঃ