পুলিশের গুলিতে ৪জনের মৃত্যুর আড়াই মাসেও তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ পায়নি

125

pageআব্দুল্লাহ আল মাসুদঃ
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশের নির্বিচারে গুলিতে ৪ জন নিরীহ মানুষ নিহতের ঘটনা তদন্ত ধামাচাপা পড়ে গেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঘটনা ঘটলেও দুই মাসেও এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসী চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় পুলিশ হেডকোয়ার্টারের গঠিত তদন্ত রিপোর্টও আলোর মুখ দেখেনি। তবে তদন্ত কমিটির একাধিক সূত্র জানায়, তারা তদন্ত শেষে উচ্চ পর্যায়ে তাদের রিপোর্ট পেশ করেছেন। এরপর রহস্যজনক কারনে তা ধামাচাপা পড়ে যায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার সাতুটিয়া গ্রামে নারী নির্যাতনের (মা ও ছেলে নির্যাতন) ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিছিল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল এলাকায় উত্তেজিত শতশত স্থানীয় জনগন কালিহাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পুলিশ মিছিল কারীদের বাধা দিলে তারা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর ইঠ-পাটকেল নিক্ষেপ করে। ওই সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অজুহাতে ১০ রাউন্ড টিয়ার শেল, ৫৭ রাউন্ড রাবার বুলেট, ৭ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও ১৪ রাউন্ড চাইনিজ রাইফেলের গুলি ছোড়ে। পুলিশের নির্বিচারে গুলির ঘটনায় ঘটনাস্থলে ও হাসপাতাল মিলে ৪ জন নিহত হয়। এতে আহত হয় আরও অনেকে। এ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও দোষী পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের শাস্তি দেয়ার কথা থাকলেও ঘটনার পর কয়েকজন পুলিশকে প্রত্যাহার করা হলেও পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে কয়েক দফা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে।
তদন্তে অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা আসামী পক্ষের যোগসাজশে প্রতিবাদী নিরীহ মানুষের উপর গুলি চালিয়েছে বলে তথ্য প্রমান পেয়েছে। এরপর রহস্যজনক কারনে তদন্ত রিপোর্টও আলোর মুখ দেখেনি। এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও কালিহাতি থানার অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা আসামীদের পক্ষ নিয়ে নিরীহ গ্রামবাসীর প্রতিবাদ মিছিলে গুলি করেছিল। সাধারণ মানুষের সাক্ষী ও তদন্তে পুলিশের নির্বিচারে গুলি করার বিষয় উঠে আসছে। আবার অনেক পুলিশ সদস্য হেডকোয়ার্টার্সের তদন্তেও তাদের বক্তব্য তুলে ধরে। এরপর রহস্যজনক কারনে তদন্ত ধামাচাপা পড়ে গেছে। কবে এই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হবে তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলে মা ও ছেলে নির্যাতন ও পরবর্তী ঘটনা নিয়ে ঘাটাইল ও কালিহাতি থানায় একাধিক অভিযোগ করা হয়েছে। আবার গ্রামবাসীকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ব্রেকিং নিউজঃ