পুনর্মিলনীতে মুখরিত ভারতেশ্বরী হোমস চত্বর

191

স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুরঃ
দেশের ্ঐতিহ্যবাহি নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ভারতেশ্বরী হোমসের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারন, র‌্যালি, আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে তৃতীয় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) এই পূনর্মিলনীকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় মির্জাপুরের লৌহজং নদীর তীরে অবস্থিত হোমসের সবুজ চত্বর।

সকাল ৮টায় হোমসের মাঠে জাতীয় সংগীত শেষে বেলুন উড়িয়ে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার পরিচালক (শিক্ষা) প্রতিভা মুৎসুদ্দি ও পরিচালক শ্রীমতি সাহা।

উদ্বোধনের পর সকাল ১০টায় শিক্ষক, অভিভাবক, কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভারতেশ্বরী হোমসের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের যৌথ অংশগ্রহণে শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি কুমুদিনী কমপ্লেক্স চত্বরের রাস্তা গুলো প্রদক্ষিণ করে অনুষ্ঠান স্থলে এসে শেষ হয়।

হোমসের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে মঞ্চের সামনে ডাকলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় স্মৃতিচারণ ও গান। এতে ব্যাচ অনুযায়ী অনেকেই বক্তব্য দেন।

ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমসের প্রায় দেড় হাজার ছাত্রী এবং আড়াই হাজার অভিভাবক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রেজিস্ট্রেশন করেন বলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নৃত্য পরিবেশন করে উপস্থিত সকলকেই উৎসাহিত করে ৯৯ ব্যাচের ছাত্রী আফরিয়া রিয়া।
৯৬ ব্যাচের ছাত্রী রাবেয়া আক্তার শিমু বলেন, তিনি ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা অর্জন করে ভাওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ৬৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী লিলি এ্যান জিনাত বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের আগে যে ভারতেশ্বরী হোমস দেখেছি আর আজকের যে হোমস দেখছি এর মধ্যে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। ৬৬ সালে ঢাকায় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীদের প্যারেড দেখে এয়ার ফোর্স খুশি হয়ে তাদের উৎসাহিত করেন।
ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনে চাকরি নেন। স্বাধীনতার পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ বিমানের সহকারী ম্যানেজার (ট্রাফিক) পদে চাকরি করেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহ শহরে।

৭৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী বিনাতুন নেছা ও যাইসিন গাজী বলেন, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার জন্ম না হলে ভারতেশ্বরী হোমস প্রতিষ্ঠা হতো না। ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন প্রাক্তন ছাত্রী হিসেবে গর্বিত আমরা।

৮৪ ব্যাচের ছাত্রী ইন্দিরা ঘোষ বলেন, আমি আমেরিকা প্রবাসী। ভালোবাসার টানে চলে এসেছি দেশে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষক প্রতিভা মুৎসুদ্দি ও মিস নেছার ভালোবাসায় আজ আমি এ পর্যন্ত এসেছি। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে তিনি ২৮ ডিসেম্বর মেয়ে ফিয়োনা ঘোষকে সাথে নিয়ে দেশে এসেছি। আমার বাড়ি টাঙ্গাইল শহরে।

৮৩ ব্যাচের ছাত্রী ও ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম এইচএসসি ব্যাচের ছাত্রী মির্জাপুরের সরিষাদাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মুক্তি সাহা বলেন, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ভারতেশ্বরী হোমস থেকে শিক্ষা নিয়ে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার আদর্শ বুকে ধারণ করে শিক্ষকতা করছি।

একই ব্যাচের ছাত্রী কাজী নাছিমা আক্তার, ইয়াছমিন বেগম, জিয়াসমিন বেগম, লিলি লুমা, চিত্রা, খালিদ, রিনা বেগম তাদের ভাগ্য অনেক ভালো উল্লেখ করে বলেন, ঐতিহ্যবাহী ভারতেশ্বরী হোমস মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান। আমাদের হৃদয়ে রয়েছে ভারতেশ্বরী হোমস। দীর্ঘদিন পর শিক্ষক, বন্ধু ও শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা করতে পেরে আমরা উল্লাসিত। অনেক বেশি খুশি।

২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রী সায়মা আক্তার ও উর্মি আলমগীর বলেন, আমরা প্রতিষ্ঠানটিতে পঞ্চম শ্রেণি হতে লেখাপড়া করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যায়নরত অবস্থায় যা দেখেছি, যা শিখেছি তারচেয়ে বেশি শিখেছি আজকের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে।

কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার পরিচালক (শিক্ষা) প্রতিভা মুৎসুদ্দি বলেন, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা নেই। কিন্তু তিনি যেখানেই রয়েছেন সেখান থেকে নিশ্চয়ই দেখছেন তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্রীরা দেশ ও বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। এ নিয়ে আমরা সবাই আনন্দিত।

পরিচালক শ্রীমতি সাহা বলেন, ১৯৪৫ সাল থেকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে আমাদের এই ভারতেশ্বরী হোমস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রাখছে। আদর্শ নারী গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে। এখানকার শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন শেষ করে দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে নিয়োজিত রয়েছে। এর চেয়ে আনন্দের কথা আর কী হতে পারে!

ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা বলেন, শিক্ষার্থীরা সুন্দরভাবে অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে।

ব্রেকিং নিউজঃ