পাঁচ আনী-ছয় আনী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন জমে উঠেছে

105

pageস্টাফ রিপোর্টারঃ

টাঙ্গাইল শহরের পাঁচ আনী-ছয় আনী বাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২৫ নভেম্বর। নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীরা শেষ মুর্হুতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে প্রার্থীরা। এরই মধ্যে নির্বাচন ব্যাপকভাবে জমে উঠেছে। ২৫ সদস্যের এ কমিটিতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন দুই প্যানেলে বিভিন্ন পদে ৫০জন প্রার্থী। নির্বাচনে ৭৯৩জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করবেন। এজন্য তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।
জানা যায়, পাঁচ আনী-ছয় আনী বাজার সাধারণ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে দু’টি প্যানেল অংশগ্রহন করছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক প্যানেল প্রচারনা চালালেও অন্য প্যানেল উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। টাঙ্গাইল জেলার অর্থনীতিতে অবদান রাখা এ ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দু’টি প্যানেলে বিভক্ত হয়ে ব্যবসায়ী নেতারা নির্বাচনে অংশ নিলেও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সকলেই এক বলে জানিয়েছেন দুই প্যানেলের প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীরা। তবে এ নির্বাচন সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ন বলেও দাবি করেছেন তারা।
জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে এ সংগঠনের এক ঘেয়েমি কার্যক্রম থেকে বের হয়ে এসে সাধারণ ব্যবসায়ীদের উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন কাইয়ুম-সাঈদ-আছু পরিষদ। তবে রঞ্জু-আলম পরিষদ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিতেই নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে উভয় প্যানেলের প্রার্থীরা একক ও যৌথভাবে প্যানেলের প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে পাঁচ আনী ও ছয় আনী বাজারের সকল রাস্তায় বিভিন্ন রং-বেরংয়ের পোষ্টার ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। সেই সাথে চলছে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভোট চাওয়ারও কাজ। সেই সাথে সাধারণ ব্যবসায়ীদের দাঁড়ে দাঁড়ে ভোট প্রার্থনা করছে উভয় প্যানেলের প্রার্থীরা। তবে এ নির্বাচনে কোন প্যানেল বিজয়ী হবে তা নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ী ভোটারদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ সংগঠনের নানা সময়ের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে পরিবর্তনের অঙ্গীকারে নির্বাচনে আসা কাইয়ুম-সাইদ-আছু পরিষদের পক্ষে থাকার অভিব্যক্তিও প্রকাশ করেছেন। তবে অনেকেই পূর্বের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে রঞ্জু-আলম পরিষদকেই সমর্থন দিচ্ছেন।
প্রকাশ্যে সাধারণ ব্যবসায়ীদেও কোন প্যানেলের পক্ষেই দেখা না গেলেও নির্বাচনী হিসেব নিকেশ অনেকটাই পাল্টে যাবে এবার। গুরুত্বপূর্ন এ ব্যবসায়ী সংগঠনের দায়িত্ব কাদের হাতে যাবে তাও নির্ভর করবে সাধারণ ব্যবসায়ীদের হিসেব নিকেশের উপর। ভোটারদের মন জয় করতে ব্যস্ত থাকা প্রার্থীরা নানা কৌশল অবলম্বন করলেও নির্বাচনী হিসেবে অনেক ক্ষেত্রেই সংগঠনের পূর্বের কার্যক্রমের উপরও হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছে সাধারণ ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ দিনের এ সংগঠন জেলার অন্যান্য সংগঠনের দিক থেকে অনেক  ক্ষেত্রেই পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করে অনেক ব্যবসায়ী। তারা সময়ের সাথে সাথে সংগঠনের কার্যক্রমে পরিবর্তনেরও দাবি জানিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কাদের হাতে এই সংগঠনের দায়িত্ব অর্পন করা হবে তা বুঝা যাবে নির্বাচনী ফলাফলের পরই।
তবে উভয় প্যানেল তাদের পক্ষে ভোটারদের টানতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। কেউ কেউ নিজেদের প্রচারনার পাশাপাশি ভোটারদের সমর্থন পেতে নিজের বন্ধু-বান্ধব থেকে শুরু করে পরিচিতদেরও সহযোগিতা নিচ্ছেন। তাই এই মুহুর্তে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে ভাবা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে উভয় প্যানেলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে পরিবর্তনের অঙ্গীকারে নির্বাচনে আসা প্যানেলে গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রার্থীরা স্থানীয় হওয়ায় নির্বাচনী হিসেবে নিকেশ হবে নানা দিক দিয়ে। তাই এবারের নির্বাচনী ফলাফলের দিকে নজর জেলার ব্যবসায়ী মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও।

ব্রেকিং নিউজঃ