পরীমনির সাবেক বয়ফ্রেন্ড অমির বাড়ী বাসাইলের গুল্লায় চলছে ঝড়

538

হাসান সিকদার ॥
চিত্রনায়িকা পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলার অন্যতম আসামি তুহিন সিদ্দিকী অমি। পরীমণির অভিযোগ, এই অমিই পরিকল্পিতভাবে তাকে সাভারের বোট ক্লাবে নিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে আলোচিত এ ঘটনায় বারবারই ঘুরে ফিরে আসছে অমির নাম। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার গুল্ল্যাহ গ্রামে।
জানা যায়, ওই গ্রামে অমিদের বিলাসবহুল একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে। তবে বাড়িটিতে কেউ থাকেন না। মাঝেমধ্যে অমি এবং তার বাবা সেখানে যান। বাবা-ছেলে দু’জনই আদম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সরেজমিন টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার গুল্ল্যাহ গ্রামে দেখা যায়, বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়িটির চারদিকের দেয়াল বিভিন্ন নকশায় সাজানো। পাশের সাদা রঙের বাড়িটি তার চাচার, তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। এছাড়া ওই গ্রামেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে অমির নামে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। হাসপাতালের পেছনেই মসজিদ ও মাদরাসা নির্মাণ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীরা টিনিউজকে জানায়, অমির বাবা তোফাজ্জল হোসেন তোফা ১৯৯৫ সালে সিঙ্গাপুরে যান। সেখান থেকেই শুরু করেন আদম ব্যবসা। একপর্যায়ে অমিকেও সেই ব্যবসায় সম্পৃক্ত করেন। এরপর বাবা-ছেলে মিলে সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার, দুবাইসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানো শুরু করেন। ঢাকা ও আশুলিয়া এলাকায় দুটি ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে তাদের। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশেই বাসাইলের বয়ড়ার গুল্ল্যাহ এলাকায় ১৮৫ শতাংশ জমির ওপর অমির নামে একটি জেনারেল হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। পাশেই অমির ছেলে আয়াত ও মেয়ে জান্নাহের নামে সুপার মার্কেট ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। যা জান্নাহ গ্রুপ অব কোম্পানি নামে পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতালের পেছনে ২০১১ সালে মক্কা মদীনা হাজী আব্দুল মান্নান ময়মন নেছা কওমি মাদরাসা নামে একটি মাদরাসা, এতিমখানা ও মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। যিনি গ্রামে মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ করতে পারেন তিনি লোক হিসেবে খারাপ হতে পারেন না। অমি ও তার বাবা ভালো মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। কেউ হয়তো ষড়যন্ত্র করে ফাঁসিয়েছে অমিকে।
স্থানীয়রা টিনিউজকে জানান, অমির জন্ম ঢাকাতেই। এলাকায় বছরে একবার-দুইবার যেতেন। গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ নানা কাজে তিনি আর্থিকভাবে সহায়তা করতেন। গ্রামের মানুষ তাকে ভালো মানুষ হিসেবেই চেনেন। বাতেন মিয়া নামে আরেক এলাকাবাসী টিনিউজকে বলেন, তাদের বাড়িটি হাজী বাড়ি নামে পরিচিত। এই গ্রাম ছাড়াও অন্যান্য গ্রামের মানুষজনকেও আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াও অনেক মসজিদ মাদরাসায় দান করেছেন। অনেক অসহায় পরিবারের মেয়ের বিয়েতেও দান খয়রাত করেছেন। তবে অমি ছোট থেকেই ঢাকায় থাকত। উজ্জ্বল নামে এক ব্যক্তি টিনিউজকে বলেন, আমাদের গ্রামে অমি খুব সুনাম ধন্য ব্যক্তি তার নামে কোনো খারাপ রেকর্ড নেই। এমনকি অমি আমাদের গ্রামের ২১ জন মানুষকে বিদেশে পাঠিয়েছে। শুধুমাত্র টিকিটের টাকা বাদ দিয়ে সব খরচ অমি নিজেই দিয়েছে। অমি আমাদের পাশের গ্রামে দুইটা মসজিদ করে দিয়েছে। একটা হাসতাপাল করে দিয়েছে। সেখানে গরীর মানুষরা সপ্তাহে দুই বিনামূল্যে সেবা পাচ্ছে। আমাদের গ্রামে অমি একজন ভালো মানুষ। অমি কোনো খারাপ কাজ করেতে পারে না। আমাদের একটাই দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিথ্যা মামলা থেকে অমির মুক্তি চাই। রিনা বেগম টিনিউজকে বলেন, অমিরা তার বাবা-দাদার আমল থেকে ধনী। আমরা কোনো দিন অমিকে খারাপ দেখি নাই। অমি আমাদের গ্রামের সব মানুষের সাথে ভালো আচারণ করেছে। তাকে পরীমনি মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়েছে। আমরা অমির মুক্তি চাই।
খালেদা বেগম নামে আরেক ব্যক্তি টিনিউজকে বলেন, অমিকে আমি কোনো দিন খারাপ কাজ করতে দেখি নাই। এ গ্রামে আমার বিয়ে হয়েছে ২০ বছর আগে তখন থেকে অমিকে চিনি সেসব সময় গরীবদের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করেছে। অমি আমাদের অনেক উপকার করেছে। অমিকে ষড়যন্ত্র মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আমারা পরীমনির কঠিন বিচাই। এর সাথে অমির মুক্তি চাই। তা নাহলে আমরা কঠিন আন্দোলন করবো। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই চাওয়া অমির নিঃস্বার্থ মুক্তি চাই। কাশেম মিয়া টিনিউজকে বলেন, তোফাজ্জল হোসেন ও তুহিন সিদ্দিকী অমি অনেক ভালো লোক তারা বাবা-দাদার আমল থেকে ধনী লোক। তারা সব সময় গরীবদের পাশে থেকে সহযোগিতা করে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষকে অমি সাহায্য সহযোগিতা করেছে। যে কেউ অমির কাছে গেলে অমি তাকে সাহায্য করে। অমিকে মিথ্যা-ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা অমির মুক্তি চাই। অমিকে মুক্তি না দিলে আমরা গ্রামবাসী কঠোর আন্দোলন করবো। অতি দ্রুত অমির মুক্তি চাই।

 

ব্রেকিং নিউজঃ