পরকীয়ায় বাধা, স্বামীকে হত্যা করে লাশ ঘাটাইলে নিয়ে আসেন স্ত্রী!

361

স্টাফ রিপোর্টার ॥
প্রায় দু বছর আগে লেবু মিয়ার মেয়ে লিজা আক্তারের (১৬) বিয়ে হয় একই এলাকার প্রতীক হাসানের (৩১) সাথে। স্বামী প্রতীক হাসান টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কাজলা গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে। প্রতীক হাসান মিতালী টেক্সটাইল নামের একটি গার্মেন্টসে কাজ করতো। আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় দাদা মার্কেটের ভুট্টু মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকতো তারা দুইজন। সেখানে লিজার সাথে পরিচয় হয় আরেক ভাড়াটিয়া শাহীন মিয়ার সাথে। লিজা এবং শাহীনের মধ্যে গড়ে উঠে পরকীয়ার সম্পর্ক।
জানা যায়, সেই পরকীয়ার জেরে প্রায়ই ঝগড়া হতো লিজার স্বামীর সাথে। ঝগড়ার রেশ ধরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত (২১ নভেম্বর) রাতে লিজা এবং প্রেমিক শাহীন স্বামী প্রতিক হাসানকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। পরের দিন (২২ নভেম্বর) সকালে স্বামীর মৃতদেহ নিয়ে স্বামীর বাড়িতে এসে হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারকে জানায়। কিন্তু পরিবারের সন্দেহ হওয়ায় থানা পুলিশকে জানালে পুলিশের জিজ্ঞেসাবাদে সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্বামীর হত্যাকান্ডের ঘটনাটি হার্ট অ্যাটাক বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল স্ত্রী লিজা আক্তার। পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হওয়ায় তারা থানা পুলিশকে খবর দেয়। লিজাকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের রহস্যজট খুলতে থাকে।
সাগড়দিঘী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মনিরুজ্জামান টিনিউজকে জানান, লিজার বক্তব্য অনুযায়ী লিজা এবং পরকীয়া প্রেমিক শাহীন শ্বাসরোধ করে তার স্বামী প্রতিক হাসানকে হত্যা করেছে। ঘটনাটি আশুলিয়া এলাকায় ঘটেছে। তাই আমরা আটক লিজাসহ আরো দুইজনকে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) সকালে প্রতীক হাসানের বাবা বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক কায়সার হামিদ টিনিউজকে জানান, ঘাতক লিজাসহ আরো ৩ জনের নামে মামলা হয়েছে। লিজা, লিজার মা ফাতেমা ও দাদি লাকিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আসামী প্রেমিক শাহীন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ব্রেকিং নিউজঃ