নির্বাচনে বিএনপিকে আনতে সংলাপ হতেই পারে ॥ সংলাপের দরজা খোলা- কৃষিমন্ত্রী

41

মাসুদ আব্দুল্লাহ ॥
আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে আনতে সংলাপ হতেই পারে। সংলাপের মাধ্যমে আলাপ আলোচনা করে যে কোন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। পারিবারিক, গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আলোচনা করে আমরা অনেক কিছুর সমস্যার সমাধান করি। সংলাপ করতে কোন সমস্যা নাই, সেই দরজা আওয়ামী লীগ সব সময় খোলা রাখবে। তবে সংবিধানের আলোকে সববিছু হতে হবে। বিএনপি যদি দলীয়ভাবে নির্বাচনে না আসে তারপরও দেশে নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ি সুষ্ঠ, সুন্দরভাবে সময় মতো অবশ্যই হবে। কে আসলো, কে আসলো না, তাতে কিছুই যায় আসে না। আমরা শেষ মুর্হুত পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা করবো যাতে বিএনপি নির্বাচনে আসে। আমার দৃঢ় বিশ^াস, আপনারা অপেক্ষা করেন, এই জবাব তাদের কাছ থেকেই আপনারা পাবেন। বিএনপি বলছে নির্বাচনে আসবে না। এ রকম আন্দোলন করতে থাকবে, আন্দোলন করতে করতে ১৪ বছরে সফল হয় নাই। এবারও সফল হবে না। এখনো কিছু বলা যায় না, আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আপনারা অপেক্ষা করেন। তখন বোঝা যাবে তারা কি করবে। এই আন্দোলন ব্যর্থ হবে। নতুন আর একটা কর্মসুচী দেবে, ঈদের পর একটা কর্মসূচী দিবে, ১৫ আগস্টের পরে আরও একটা দিবে। এ রকম কর্মসূচী তারা দিতেই থাকবে।
শনিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী ও পুর্নমিলনী অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।




কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচন আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা অবশ্যই পাবে। তারা দেখবে পরিস্থতি কি, আমাদের আন্তরিকতাকেও তারা বিচার বিশ্লেষন করবে। এবং সে অনুযায়ি তারা সিদ্ধান্ত নেবে। বিগত ২০০৮ সালে একটি সুষ্ঠ, সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠণ করেছিলো। সেই নির্বাচনকেও বিএনপি সহজভাবে নেয়নি। কোনদিনই বলেনি যে নির্বাচনটি সুষ্ঠ, সুন্দরভাবে হয়েছিল। গত ১৪ বছর যাবৎ একই কথা, একই রেকর্ড তারা বারবার বাজাচ্ছে যে, বাংলাদেশে নিরপেক্ষ অথবা তত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোন নির্বাচন সুষ্ঠ, সুন্দর হবে না। পৃথিবীর কোন দেশে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় না। একমাত্র আমাদের দেখে শুরু করেছিল পাকিস্থান। যারা আজকে এই দাবি করছে, বিএনপি-জামায়াত এই পাকিস্থানিরা হচ্ছে তাদের প্রভু। সেই ধারায় সব সময় চলতে চায়, একই কথা তারা বারবার বলছে। আমি মনে করি বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ি নির্বাচন হবে। সংবিধানে সুস্পষ্ট লেখা আছে, যে সরকার ক্ষমতায় থাকবে সেই সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, আইনশৃংখলা বাহিনী, আইজিপি, চীফ অফ স্টাফ সকলের দায়িত্ব হবে নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ি তারা দায়িত্ব পালন করা। কাজেই এদেশে সুষ্ঠ, সুন্দর নির্বাচন হবে এর নিশ্চয়তা আমি আপনাদেরকে দিতে পারি।




আমাদের আইনশৃংখলা বাহিনী অনেক সুশৃংখল, অনেক সক্ষম। তাদের দায়িত্ব দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা। সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য সিভিল প্রশাসন তারা এটা মোকাবেলা করবে। এখানে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব হবে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা। আমরা সেটা রাজনৈতিকভাবে করবো। তবে আমি এই কথা জাতির কাছে বলতে চাই, আর ওই পুনরাবৃত্তি ২০১৫ সালের মতো ৯০ দিন একটানা হরতাল, অবরোধ, গাড়িতে আগুন দেয়া, মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা, রেললাইন তুলে ফেলা, বিদ্যুতের লাইন কেটে দেয়া। এগুলোর পুনরাবৃত্তি ইনশাল্লাহ আর হবে না। কঠোর হস্তে এগুলো মোকাবেলা করা হবে।




কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশ বর্তমানে উন্নয়নের যাত্রায় রয়েছে। এই উন্নয়নের ধারাকে আমরা অব্যাহত রাখতে চাই। উন্নয়নের মহাসড়কে আমরা রয়েছি। এটাকে আরো গতিময় করতে চাই, আরো বেগবান করতে চাই। আমরা দুই-আড়াই বছর হারিয়েছি করোনা মহামারির জন্য, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের জন্য। আর একটি দিনও নষ্ট করার কোন সুযোগ নেই। কোন হরতাল, অবরোধ করতে দেয়া হবে না, কঠোর হস্তে সব মোকাবেলা করা হবে।




টাঙ্গাইলের মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নুর রহমানের সভাপতিত্বে সুবর্ণ জয়ন্তী ও পুর্নমিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুদ্দিন, মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফি উদ্দিন মনি, পৌরসভার মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান, মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা ইয়াসমিন প্রমুখ।
এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।




ব্রেকিং নিউজঃ