নাগরপুরে ৫০ বছরেও হয়নি সেতু ॥ দুর্ভোগে ৩৫ হাজার মানুষ

86

বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী ॥
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে অন্তত ১৫ গ্রামের ৩০-৩৫ হাজার মানুষ। স্বাধীনতার পর ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের বাড়ী গ্রাম বড় ঘাটপাড়ে সেতু হয়নি। এ কারণে এলাকায় কোন উন্নয়নের ছোয়াও লাগেনি। ফলে এ অঞ্চলে হাজারও মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট আর সীমাহীন দুর্ভোগে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে বাঁশের সাঁকো নির্মান করে যুগ যুগ ধরে এখানকার মানুষ ঝুকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। ডিজিটাল যুগে বাড়ী গ্রামের বড় ঘাটপাড়ে পাকা সেতু না হওয়ায় ১৫ গ্রামের প্রায় ৩০-৩৫ হাজার মানুষের এখন একমাত্র ভরসা ওই বাঁশের সাঁকোটি।
স্থানীয় জনগনরা টিনিউজকে জানায়, স্বাধীনতার পর থেকে ৫০ বছরে বহু আবেদন-নিবেদন করা হলেও এখানে সেতু নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি কেউ। বরং প্রতিবার নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও ভোটে উত্তীর্ণ হয়েই সব বেমালুম ভুলে যান। মামুদনগর ইউনিয়নের বাড়ী গ্রামের খালটিতে সারা বছরই কমবেশী পানি থাকে। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে দুর্ভোগের সীমা থাকে না এলাকাবাসীর। কখনও ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া জরুরি রোগী হাসপাতালে নেয়া তো স্বপ্নসাধ্য বিষয়। সাঁকো পারাপারে বিপাকে পড়ে বৃদ্ধ নারী-পুরুষ। স্কুলগামী শিশু-শিক্ষার্থীদের নিয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় থাকে পরিবার। কৃষি নির্ভর এলাকা হলেও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে নিতে পারে না। ফলে তারা (কৃষক) ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়।
বাড়ী গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুদ্দিন (৭৫) টিনিউজকে বলেন, খালের উত্তরপাড় এলাকায় অবস্থিত জয়ভোগ, পারকোল, কুলকুষ্টিয়া, চামটা, শুনশী ও মির্জাপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। শত বছর ধরে বিচ্ছিন্ন থাকায় উপজেলা সদর, বিভিন্ন হাটবাজার ও জরুরী প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা জনগণের জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নিদারুণ কষ্ট করে এই নড়বরে বাঁশের সাঁকো দিয়েই পার হতে হচ্ছে। সেতু নির্মাণের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে সময় অসময়ে ধর্না দিয়েও এ পর্যন্ত কোন সুফল মেলেনি। পাল্টায়নি বাড়ি গ্রামসহ আশপাশের এলাকার দৃশ্যপট। আমি প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই সেতু নির্মাণের জোর আবেদন জানাই। বাড়ী গ্রাম স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আলমাছ উদ্দিন টিনিউজকে বলেন, বাড়ী গ্রামে দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অপরটি স্কুল এন্ড কলেজ। দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন এই বাঁশের সাকো দিয়ে প্রায় ৫-৬ শত ছেলে মেয়ে পারাপার হয়। শিক্ষার্থীরা অনেক সময় সাকো থেকে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকে। আমরা এই দুর্ভোগের অবসান চাই।
মামুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন টিনিউজকে বলেন, বাড়ী গ্রাম বড় ঘাট খালের উত্তর পাড় এলাকার প্রায় ১০-১৫ হাজার মানুষ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে। এখানে একটি সেতু হওয়া খুবই দরকার।
নাগরপুর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নাগরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ দুলাল টিনিউজকে বলেন, বর্তমান সরকারের গ্রাম হবে শহর, ‘এই শ্লোগান বাস্তবায়নে কাজ করছি। বাড়ী গ্রাম খালের বড় ঘাট জায়গাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর উপর সেতু নির্মাণ করা হলে নাগরপুর উপজেলার সাথে যোগাযোগ সম্পর্ক উন্নীত হবে। আশা করি খুব দ্রুতই বাড়ী গ্রাম খালের উপর সেতু নির্মাণ এবং ওই এলাকার মানুষের দুর্দশার লাঘব হবে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ