নাগরপুরে স্কুলের দপ্তরী করোনার বন্ধে স্কুলকে সাজিয়েছেন নতুন রুপে

66

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বারাপুষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী করোনার বন্ধে বসে না থেকে পেশাগত কাজের বাইরে নিজের ভালোবাসা থেকে বিদ্যালয়কে সাজিয়ে তুলেছেন আপন মহিমায়। বিদ্যালয় সেজেছে নতুন রুপে। স্কুল বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে, করছে খেলাধুলা। এতে করে তাদের বিদ্যালয়ের প্রতি বেড়েছে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। একইসাথে আগ্রহ বাড়ছে পড়ালেখার প্রতি।
হারুন অর রশিদ, পেশায় টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বারাপুষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী। তাঁর পেশাগত কাজ বিদ্যালয়ের টুকিটাকি কাজ করা ও রাতে বিদ্যালয় পাহারা দেওয়া। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্কুল বন্ধ। হাতে কাজও অনেক কম। কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে নেই হারুন অর রশিদ। তিনি নিজের চিন্তা-ভাবনা থেকে নিজের কর্মস্থল বিদ্যালয়টিকে দিয়েছেন নতুনরুপ। তার নেই কোন হাতে কলমে শিল্পকর্মের প্রশিক্ষিত শিক্ষা, নেই কোন চিত্রকর্ম কারুকাজের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ। তারপরেও তার হাতের রং তুলিতে অপূর্ব সব অঙ্কন একেঁ বিদ্যালয়ের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের বাহিরের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধের ছবি। ভেতরের পরিবেশ আরো চমৎকার। নিজ হাতে তিনি তৈরি করেছেন বিদ্যালয়ে একটি চমৎকার বাগান। বিদ্যালয়ের প্লে কর্ণারের সাজসজ্জাটিও তিনি নিজ হাতে করেছেন। বাংলাদেশের অপূর্ব একটি মানচিত্র, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ সজ্জিতকরণ, জাতীয় সংসদ ভবন, শহীদ মিনার, স্মৃতি সৌধের আকৃতি তৈরি করেছেন তার নিজের হাতের সুনিপুন ছোঁয়ায়। বিদ্যালয়টির ছাঁদে রয়েছে একটি ছাঁদ বাগান।
নাগরপুর বারাপুষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী হারুন অর রশিদ টিনিউজকে বলেন, তিনি স্বপ্ন দেখেন তার বিদ্যালয়টি একদিন পড়ালেখা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয় হিসেবে দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠে পরিনত হবে। স্কুল বন্ধ থাকলেও নতুন রুপে সজ্জিত স্কুল দেখতে আসছে শিক্ষার্থীরা। তারা স্কুল ড্রেস পরে স্কুলে এসে খেলাধুলা করছে, হৈইহুল্লর করে ছুটে বেড়াচ্ছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলের নতুন পরিবেশ দেখে অভিভুত।
স্কুলের অভিভাবকরা টিনিউজকে জানান, দপ্তরী হারুন স্কুলের সু-সজ্জিত করায় স্কুল ও পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ অনেক বেড়ে গেছে তাদের সন্তানদের। উপজেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরীরা এ বিদ্যালয়টি ঘুরে হারুনের কাজ দেখে উচ্ছস্বিত। তারা হারুনকে বাহবা দেওয়ার পাশাপাশি এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলো সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে যাচ্ছেন।
হারুনের এ ধরনের সৃজনশীল কাজ সম্পর্কে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জিএম ফুয়াদ মিয়া টিনিউজকে বলেন, বিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে কেউ মনের মাধুরী মিশিয়ে এমন কাজ করতে পারে না। তার হাতের স্পর্শে যে কাজগুলো দৃশ্যমান হয়েছে তার প্রতিটি পরতে পরতে রয়েছে বিদ্যালয়ের প্রতি হারুনের সুগভীর প্রেম মমত্ববোধ। সে সবার জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ব্রেকিং নিউজঃ