নাগরপুরে ইউপি নির্বাচনে প্রকাশ্যে বিদ্রোহীদের পক্ষে আ’লীগের নেতাকর্মীরা

185

জাহিদ হাসান ॥
তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। দলীয় প্রার্থীদের হারানোর জন্য বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী গোপনে কাজ করছেন। আবার কোনো কোনো ইউনিয়নে অনেক নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছেন বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের। দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এতটাই প্রকট হয়েছে যে, প্রায়ই দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা-মামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। দলীয় নির্দেশনা তোয়াক্কা করছেন না কেউ। বিএনপির স্বতন্ত্র এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
এদিকে স্বতন্ত্র পরিচয়ে বিএনপির প্রার্থীরা মাঠ দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তারা আওয়ামী লীগের কোন্দলের সুযোগ নিয়ে চেষ্টা করছেন ভোটারদের আকৃষ্ট করার। প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছেন। আওয়ামী লীগের নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে ভোটাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নাগরপুরে বিগত নির্বাচনে বিএনপির পাঁচ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। দু’জন বিদ্রোহী এবং চারজন দলীয় প্রার্থী জয়ী হন। এবারও আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ প্রার্থীর ভরাডুবির আশঙ্কা করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন- অজনপ্রিয়, বিভিন্ন মামলার আসামি, দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন অনেকেই মনোনয়ন পেয়েছেন। দলের ভেতর প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে নৌকার টিকিট নিয়ে এসেছেন। ওইসব ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ তাদের ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এসবের প্রতিফলন ঘটবে বলে মনে করছেন তারা।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হবিবুর রহমান হবি টিনিউজকে বলেন, প্রতীক দেওয়া না হলেও স্বতন্ত্র হিসেবে বিএনপি মাঠে রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির অন্তত ছয়জন প্রার্থী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন। তবে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছেন।
নাগরপুর সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুদরত আলী। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিজ উদ্দিন। সহবতপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আনিসুর রহমান আনিস আর বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ। বেকড়া ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেন ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান কিসলু।
ধুবড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়ার রহমান, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী শফিকুর রহমান শাকিল ও বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী আশিকুর রহমান নিশাত। এই ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুর রহমান শাকিলের মিছিলে নৌকার প্রার্থী মতিয়ার রহমানের ছেলের নেতৃত্বে হামলা হয়। এতে শফিকুর রহমানের কয়েকজন সমর্থক আহত হন। সলিমাবাদ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীদুল ইসলাম খান অপু, বিদ্রোহী আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন ও জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদ হোসেন। গয়হাটা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সামছুল হক, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান আশকর ও বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মনির হোসেন। সম্প্রতি একটি মারামারির ঘটনায় এ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী আশকর ও তার ৩৫ জন সমর্থকের বিরুদ্ধে মামলা করেন নৌকার প্রার্থী শামছুল হক।
মামুদনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সদস্য শেখ জজ কামাল, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ও বিএনপির নিজাম উদ্দিন। ভাদ্রা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আওয়ামী লীগের সভাপতি হামিদুর রহমান লালন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সাবেক চেয়ারম্যান শওকত হোসেন ও বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব। দপ্তিয়র ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসেম মিয়া ও বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপির এম ফিরোজ সিদ্দিকী। পাকুটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামিম খান, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নজরুল ইসলাম, ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুন্নাহার কাকলী ও বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপির সিদ্দিকুর রহমান। মোকনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী খন্দকার সাজ্জাদ হোসেন আপেল ও বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপির আতোয়ার রহমান কোকা।
নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম টিনিউজকে বলেন, দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে যারা বিদ্রোহী র্প্রার্থী হয়েছেন তাদের দলীয় পদ থেকে বহিস্কার করা হবে।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ