নতুন বছরে টাঙ্গাইলের নিত্যপণ্যের বাজারে নেই কোন সুখবর

44

স্টাফ রিপোর্টার ॥
নতুন বছরে টাঙ্গাইলের বাজারে নেই কোন সুখবর। প্রতিটি মানুষের সংসারে যেসব খাদ্যপণ্য বেশী প্রয়োজন ঠিক সেই খাদ্যপন্যগুলোর দাম কিছুতেই কমছে না। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের সংসার চালাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে পা রেখেই নিত্যপণ্যের আগুন দামে অসহায় হয়ে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। শীতের এই সময়ে সবরকমের শাকসবজিতে ভরপুর বাজারগুলো। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় নতুন বছর সব ধরনের সবজির ফলনও হয়েছে ভালো। সরবরাহ বাড়ায় টাঙ্গাইলের বাজারগুলোতে কমতে শুরু করেছে টমেটো, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, নতুন আলু ও গাজরের দাম।




সবজির বাজারে স্বস্তির খবর থাকলেও কোনো সুখবর নেই মুদি পণ্যে। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনির দাম ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি। কমেনি মসুর ডাল ও আটা-ময়দার দাম। খুচরায় প্রতি কেজি মসুর ডাল এখনো ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি আটার দাম ৭০ টাকা, ময়দা ৭৫ টাকা। গত সপ্তাহে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি। ব্রয়লার মুরগি বেড়ে হয়েছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি।
খুচরা বাজারে আকার ভেদে লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি ২০ থেকে ২৫ টাকা, বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ঝিঙা ৩০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, পটোল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, আকার ভেদে বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শিম ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচামরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।




বাজারে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান, শীতের তরিতরকারির দাম তুলনামুলক কম থাকলেও মুদি পণ্যের দাম নতুন বছরে এখনও কমেনি। এতে করে ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছেন। শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, দফায় দফায় যে হারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে তাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে আসলে এখন পরিমাণে কম কিনতে হয়। সবজি, মাছ-মুরগি সব কিছুরই দাম বাড়তি। এই যে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেল। কোনো মানে হয়? বাজারের কোন জিনিসটার দাম বাড়েনি বলেন? যে যেভাবে পারছে দাম বাড়াচ্ছে। এগুলো দেখার কেউ নাই? যেখানে সরকারি হিসাবেই পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে তারপরও বাজারে বেড়েছে দাম। হুট করেই দাম বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। হিমাগারে আলুর কেজি ১০ টাকা হলেও খুচরা বাজারে কিনতে হচ্ছে ২০ টাকায়। খোলা চিনির সপ্তাহ দুয়েক আগের বাড়তি দাম এখনো নামেনি। চিনির দাম ৭৪ টাকা বেঁধে দেওয়া হলেও বিক্রি হচ্ছে ৭৮ থেকে ৮০ টাকা কেজি। আটা-ময়দার দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি এক-দুই টাকা। বিভিন্ন সময় দাম বেঁধে দেওয়া হলেও সেই দরে বিক্রি হচ্ছে কি না সেটার তদারকিও নেই বাজারে। মুদি দোকানদার আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতি কেজি আমদানি করা রসুন ১০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি ছোট দানার এলাচ ২০০ টাকা বেড়ে ৩৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, অনেক দিন লোকসানে থাকায় অনেক খামারি উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সামাজিক অনুষ্ঠান। ফলে হঠাৎ উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারের এমন অবস্থায় তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন। নতুন একটা মূল্য কমিশন গঠন করতে হবে। তার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তদারকি বাড়াতে হবে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ