ধনবাড়ীতে সবজি শেষে বোরো ধানের জমি তৈরীতে ব্যস্ত কৃষকরা

57

ধনবাড়ী প্রতিনিধি ॥
শীতের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার মধ্যেই ভোর বেলায় কোদাল আর কাস্তে হাতে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। আমন ধান কাটার পর বিভিন্ন স্বল্প আয়ূকালের সবজি আবাদ শেষে চলতি বোরো ধানের জমি তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকে আবার ধানের চারা ইতিমধ্যে জমিতে রোপন শুরু করেছেন। আমন মৌসুমে বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ করে লাভবান হওয়ায় টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার কৃষকদের ধান চাষে আগ্রহ বেড়েছে।
ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ধান চাষে লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর। কৃষকরা বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের বীজসহ স্থানীয় জাতের বীজতলা তৈরী করেছেন ৫১০ হেক্টর। ধান চাষে উপজেলার কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে সরকারীভাবে প্রণোদনার মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান বীজ ও সার সহযোগিতা করা হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা তাদের জমির আইল ছাটা, আগাছা বাছা, জৈব সার প্রয়োগ ও সেচের ড্রেন নির্মাণ করছেন। আবার অনেকে জমি তৈরি করে পানি সেচ দিয়ে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করে চারা রোপন করছেন। এছাড়াও ধান রোপনের জন্য বীজতলা থেকে তোলা হচ্ছে চারা। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে বোরো আবাদে ধুম পড়েছে। উপজেলার কৃষক যদুনাপুরের কৃষক আব্দুল আলিম মিয়া টিনিউজকে বলেন, চলতি মৌসুমে এবার আমি ৩ বিঘা জমিতে বোরা ধানের চারা রোপন করবো। এজন্য জমি তৈরীর প্রস্তুতি নিচ্ছি। কয়ড়া গ্রামের কৃষক করির হোসেন টিনিউজকে বলেন, আমি আমন ধান চাষ করে জমিতে ২৫ শতাংশ সজবি চাষ করে ছিলাম। শীতকালীন সবজি বিক্রি করে ভালো লাভাবান হয়েছি। বোরা ধানের চারা রোপনের জন্য জমি তৈরী শুরু করেছি। এছাড়াও কৃষি অফিস থেকে আমাকে প্রণোদনার মাধ্যমে বীজ-সার সহযোগিতা করেছে। পাইস্কা ইউনিয়নের দরিচন্দ্রবাড়ী গ্রামের লিখন মিয়া টিনিউজকে বলেন, জমি তৈরী করে বিভিন্ন উন্নত জাতের ধানের চারা লাইনে ৪০ শতাংশ জমিতে রোপন করেছি। আমন মৌসুমে ধান চাষ করে লাভবান হয়েছি। আশা করছি যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে এবারও লাভবান হতে পারবো।
ধনবাড়ী উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসেন টিনিউজকে বলেন, বীজতলা তৈরিতে আমরা মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করেছি। কৃষকরা যাতে করে উন্নত প্রযুক্তিতে সঠিকবভাবে চাষাবাদ করে সে ব্যাপারে তাদেরকে বলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাজেদুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, ধান চাষ করে কৃষকরা যেন লাভবান হতে পারেন। এজন্য বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ করতে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। কৃষকদের সরকারীভাবে প্রণোদনার মাধ্যমে সহযোগিতা করা হচ্ছে। ঘন কুয়াশায় বীজতালার কোন ক্ষতি না হয়। এজন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ