ধনবাড়ীতে আ.লীগের গলার কাটা বিদ্রোহী ॥ বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্ব

126

Tangail_Dhanbari-Pourosava_Pic-(2)-_03-12-15আব্দুল্লাহ আবু এহসান, ধনবাড়ীঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর স্মৃতি ধন্য টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে শেষ মুহুর্তের প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। প্রার্থীদের নিত্য নতুুন কৌশলে প্রাচার-প্রচারনায় এখন সরগরম হয়ে উঠেছে এ পৌরসভা। হাট-বাজার, দোকান-পাট, হোটেল-রেস্তোরা সর্বত্র এখন একটাই আলোচনা বিজয়ের মালা কার গলায় পড়বে।
পৌরসভার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর গলার কাটা এখন বিদ্রোহী স্বত্রন্ত্র প্রার্থী জহুরুল হক বকল হেলাল (নারিকেল গাছ) আর বিএনপি প্রার্থীর সমস্যা অন্তর্দ্বন্দ্ব ও অনৈক্য। ধনবাড়ী বাজারের ফল ব্যবসায়ী আব্দুল কদ্দুছ ও মনিরুজ্জান জানান, বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ প্রার্থী খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন যে পরিমান উন্নয়ন করেছেন, মাদক দুর করেছেন এবং চাঁদাবাজ মুক্ত ব্যবসার পরিবেশ তৈরী করেছেন তাতে বিপুল ভোটে নৌকা পার হওয়ার কথা। কিন্তু সমস্যা হলো বিদ্রোহী প্রার্থী জহুরুল হক বকল হেলাল (নারিকেল গাছ)। তিনি কিছুটা হলেও ক্ষতি করবেন। তাছাড়া দলীয় মার্কাও সমস্যার আরেক কারণ। বিএনপি সমর্থিত এ দুই ব্যবসায়ী আরো জানান, অনেক বিএনপিই তপন ভাইকে ভোট দেয়। কিন্তু ধানের শীষ মার্কা দেখেই তো মাথা ঠিক থাকবে না। তবে আমরা উন্নয়নের স্বার্থে দল নয় ব্যক্তিকে ভোট দিব। গৃহিনী আনোয়ারা বেগম জানান, কারেন্ট দিছে তপন ভাই ভোট দিমু নৌকায়। ভ্যান চালক আবুল হোসেন ও আক্কাস আলী জানান, যে যাই বলুক স্যার টক্কর লাগবো নৌকা আর ধানের শীষের সাথেই। তাদের মতে নৌকা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কেননা মেয়র সাব অনেক উন্নয়ন করেছে এবং বাড়ী বাড়ী কারেন্ট (বিদ্যুৎ) দিছে।
দ্বিতীয় শ্রেণির এ পৌরসভায় মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলো- আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন (নৌকা), বিএনপি মনোনীত পৌর বিএনপির আহবায়ক এসএমএ ছোবহান (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি (এরশাদ) মনোনীত অধ্যক্ষ ফেরদৌস আহম্মেদ পিন্টু (লাঙ্গল) এবং আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল হক বকল হেলাল (নারিকেল গাছ)। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন সাবেক খাদ্রমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি‘র নিকটাত্মীয়, নিজ ব্যক্তি ইমেজ এবং মেয়র থাকাবস্থায় বিগত সময়ে ধনবাড়ী পৌরসভাকে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার পাশাপাশি যথেষ্ট উন্নয়ন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছেন। তাই নির্বাচনে তিনি জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী।
প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী এসএমএ ছোবহান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ধনবাড়ীকে মডেল পৌরসভায় উন্নীত করণের পাশাপশি সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনিও জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানান। তবে দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব থাকার কারণে কিছুটা হোচট খাবেন বলে কেউ কেউ জানান। এ অন্তর্দ্বন্ধের এক র্পযায়ে এ উপজলায় ও পৌর সভায় মূল কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে চুপিসারে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে দলের মধ্যে ক্ষোভ আরো বেড়ে যায়। কমিটি ঘোষানার পর বঞ্চিতরা বিপরীতে অবস্থান নেয়ায় দলের অবস্থান জটিল হয়েছে। এ আহবায়ক কমিটিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ পর্যন্ত হয়েছে। এ ঘটনায় তৎকালীন সময়ে (৪ জানুয়ারী) ধনবাড়ী থানায় উভয় পক্ষ পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেন। এতে ৯ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে যেতে হয় এবং দেড় শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামী হতে হয়। এ নির্বাচনে ওই ঘটনার প্রভাব পড়বে বলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ধারণা।
এদিকে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্তকে নেতাকর্মীরা স্বাগত জানালেও দলের কোন পদে না থাকলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বর্তমান কউন্সিলর স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল হক বকল হেলাল (নারিকেল গাছ) সমঝোতায় না আসায় দলীয় প্রার্থীর গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মীর ফারুক আহমাদ ফরিদ জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী কোন ফ্যাক্টর না। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছে। কাজেই আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত ইনশাল্লাহ।
তবে ভোটাররা ভোটের মাধ্যমে উপযুক্ত, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই পৌর পিতা নির্বাচিত করার অপেক্ষায় আছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ