দেশীয় বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে দেলদুয়ারের শাল চাদর

131

555দেলদুয়ার সংবাদদাতাঃ
টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ীর পর এবার চাহিদা বাড়ছে দেলদুয়ারের শাল চাদরের। বুনন শৈলী এবং মান ভাল থাকার কারণে দেশীয় বাজারে এর জনপ্রিয়তাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে শীতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শাল চাদও তৈরীর শ্রমিকরা। ইতোমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নরসিংদী, সিলেট ও কক্সবাজারসহ দেশের অধিকাংশ এলাকাতেই পৌঁছে গেছে এ অঞ্চলের শাল চাদর। নিপুন কারুকার্য আর বাহারী ডিজাইনের আর্কষণীয় এ চাদর প্রায় সব বয়সের নারী-পুরুষের পছন্দ। সাশ্রয়ী দাম আর মানের কারণে সহজেই সব শ্রেণীর ক্রেতাদের মনে স্থান করে নিয়েছে এ শাল চাঁদর।
দুই থেকে আড়াই হাত প্রস্থ এবং চার থেকে পাঁচ হাত দৈর্ঘ্যরে এ চাদর বিভিন্ন রঙের সুতা আর তাঁত কলের আর্কষণীয় ডিজাইনে তৈরি করা হয়। যুগোপযোগী  করে এ শাল চাদও তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান কারিগররা। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শাল চাদর তৈরী হলেও আবাদপুর ও এলাসিন গ্রামে সবচেয়ে বেশি এ চাদর তৈরি হচ্ছে বলে জানা যায়। বর্তমানে এ অঞ্চলের প্রায় তিন শতাধিক পরিবার শাল তৈরি করে তাদের জীবিকা র্নিবাহ করছে।
সরেজমিন ঘুরে তাঁত মালিক ও শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সারা বছরের তুলনায় শীত মৌসুমে ক্রেতাদের মাঝে চাহিদা বেশী থাকায় দ্বিগুন পরিশ্রম করতে হচ্ছে শ্রমিকদের। এসব তাঁতে দু’সুতি, পাইর, কিরকিরি, নয়নতারা ও বহুরুপী সহ নানা ডিজাইনের চাদর তৈরি হচ্ছে। আবাদপুর গ্রামের তাঁত মালিক আবুল কাশেম ও আরিফ মিয়া জানান, প্রতিদিন একটা তাঁতে গড়ে ৫ থেকে ৭টি শাল চাদর তৈরি করা যায়। তারা আরো শাড়ী ও শাল চাঁদর তৈরির প্রক্রিয়া প্রায় একই রকম। সুতা ও ডিজাইন দেন মহাজনরা। তাদের ডিজাইনের ভিত্তিতে তৈরী করা প্রতিটি চাদর মহাজনদের কাছ থেকে একজন তাঁত মালিক ৮০ থেকে ১২০ টাকা পান। আর তাঁত মালিকের কাছ থেকে শ্রমিকরা মুজুরি পান ৪০ থেকে ৫০ টাকা।  ডিজাইনের ভিত্তিতে প্রতিটি চাদরের পাইকারী দাম ধরা হয় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। বছরে প্রতি তাঁতে শাল তৈরি হয় প্রায় ১৫০০/২৫০০টি। শাল তৈরিতে পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও চকরার সুতা ছিটায় ওঠানোর কাজ করে থাকে। তাঁত শ্রমিক কাশেম ও লুৎফর রহমান জানান, মহাজনদের ডিজাইনের ভিত্তিতে শাল তৈরি করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আবুল কাশেম ও আরিফ মিয়ার তাঁতকল সহ আবাদপুর গ্রামে প্রায় ৩ শতাধিক তাঁতকলে এ সকল চাদর তৈরি করা হচ্ছে। ইকবাল হোসেন নামের একজন মহাজন জানান, ক্রেতাদের শালের প্রতি দৃষ্টি আর্কষণ করতে কারুকাজ সম্বলিত বাহারী রঙের সুতা শাল তৈরির জন্য আগেই তাঁত মালিকদের কাছে সরবরাহ করা হয়। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর শালের চাহিদা বেশি বলেও তিনি জানান। সরকারী কিংবা বেসরকারীভাবে অনুদান পেলে নিজেদের অর্থনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাত থেকে বিশাল অবদান রাখা যাবে বলে মালিক এবং পাইকারদের সাথে কথা বলে জানা যায়।

ব্রেকিং নিউজঃ