দেলদুয়ার মৌশাকাঠালিয়া সরকারি স্কুলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাঠদান

81

school2দেলদুয়ার সংবাদদাতাঃ
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার মৌশাকাঠালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন জরাজীর্ণ ও পরিত্যাক্ত হওয়ায় নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। দু’পাশে গুদাম ঘরের মতো দু’টি ক্লাসরুম। চলাচলের পথও অনেক সরু। গাদাগাদি করে বসা শিক্ষার্থীদেও কোলাহল চেচামেচি লেগেই থাকে। ভাঙ্গাচোরা তিনটি শৌচাগার একটিও ব্যবহার উপযোগী নয়। আশপাশের বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের শৌচাগারের কাজ সারতে হয়। ভাঙ্গাচোরা একটি শৌচাগার ব্যবহার করে শিক্ষকরা। মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবন, বেঞ্চ ও শ্রেণী কক্ষ সংকটে বারান্দায় গাদাগাদি করে বসিয়ে পাঠদান করা হয়। এ অবস্থায় চরম স্বাস্থ্যযুকিতে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৫ সালে পুরাতন ভবনটি নির্মান করা হয়েছিল। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ প্রায় ২ বছর আগে পুরাতন ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেন। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দুই কক্ষবিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মান করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৫৯ জন। শিক্ষক আছেন পাঁচজন। বিদ্যালয়ের প্রবেশ ফটকে বারান্দার দুু’পাশে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। দু’পাশে গুদাম ঘরের মতো দু’টি ক্লাসরুম আছে। সেখানেও একই অবস্থা। এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন ভবনের বারান্দার মেঝেতে চট বিছিয়ে প্রাক-প্রাথমিকের অবুঝ শিশুদের পাঠদান করানো হচ্ছে। তিনটি শৌচাগারও ব্যবহার অনুপযোগী। বিদ্যালয়ের মাঠও নতুন ভবনের চেয়ে অনেক নিচু। একটু বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামলী দেব জানান, এভাবে ক্লাস করানো অনেক কষ্টকর। গরমে বিদ্যুত চলে গেলেও ক্লাশ করানো বেশি কষ্টকর হয়ে পড়ে। শৌচাগারের অভাবে আশে পাশের বাড়িতে গিয়ে বাচ্চারা শৌচাগার করে। শিক্ষকরা একটি পরিত্যাক্ত শৌচাগার ব্যবহার করছে বলেও জানান তিনি।
দেলদুয়ার উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ৫টি নতুন ভবন নির্মান এবং ২০টি ভবন জরুরী ভিত্তিতে মেরামত করার জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বেশিরভাগ বিদ্যালয় ভবনই   আশি বা নব্বই এর দশকে নির্মান করা হয়েছে। সে কারনে প্রায় বেশিরভাগ ভবনই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে পর্যায়ক্রমে সব বিদ্যালয় ভবনেরই কাজ করা হবে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয় ভবনের এ অবস্থা লিখিত আকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে যেসব বিদ্যালয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে সেগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ