দেলদুয়ারে হত্যা মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে, পুলিশের দাবি আত্মগোপণে

186

1207স্টাফ রিপোর্টারঃ

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাছ এলাসিন গ্রামের কৃষক মজনু হত্যা মামলার কোন অগ্রগতি নেই। দীর্ঘ আড়াই মাস পরও আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও রয়েছে অধরা। আসামীদের সাথে সখ্যতার কারণে পুলিশ সম্পূরক এজাহার নিচ্ছে না বলে বাদীর অভিযোগ। এমনকি আসামীদের বাড়িঘর ক্রোক করার বিষয়েও পুলিশ আদালতে কোন আবেদন করেনি।
জানা গেছে, দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের পাছ এলাসিন গ্রামের মজনু মিয়ার(৫০) সাথে বাড়ির সীমানা নিয়ে প্রতিবেশি সাগর মিয়ার বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে গত ১৮ জুলাই প্রতিবেশি সাগর মিয়া(৬০), এরশাদ(২৮), রাসেদ(২৬) ও মনিরুল ইসলাম(২২) পূর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী বাড়িতে গিয়ে মজনু মিয়া ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগমকে মারপিট করে। তারা লোহার রড ও লাঠির আঘাতে মজনু মিয়াকে আহত করেন। স্ত্রী খাদিজার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আক্রমনকারীরা পালিয়ে যায়। মজনুকে প্রথমে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নেয়া হয়। শরীরের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা নেয়ার পথে মজনু মিয়ার শারিরীক অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ১০ দিন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে গত ২৮ জুলাই মজনুর মৃত্যু হয়। সাভার মডেল থানার এসআই এমদাদুল হক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল লাশের ময়না তদন্ত করা হয়। ঘটনার পরদিন গত ১৯ জুলাই নিহত মজনুর স্ত্রী খাদিজা বেগম বাদি হয়ে দেলদুয়ার থানায় মামলা (নং ০৭, তাং-১৯/০৭/২০১৫ইং, ধারা-৪৪৭/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৫০৬ দ.বি.) দায়ের করেন। গত ২৯ জুলাই ময়না তদন্ত শেষে রিপোর্ট দেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।
মামলার বাদি খাদিজা বেগম দাবি করেন, পুলিশ মামলার এজাহার তাদের ইচ্ছেমত লিখে তার স্বাক্ষর নিয়ে এফআইআর করেছে। তার বর্ণনা মতে এজাহার লেখা হয়নি। তিনি সম্পূরক এজাহার দিতে চান। কিন্তু আসামীদের সাথে সখ্যতা থাকার কারণে পুলিশ তা নিচ্ছে না। বাদি ময়না তদন্তের রিপোর্টের একটি কপি দেলদুয়ার থানা পুলিশকে এনে দিলেও তারা ক্রোকি পরোওয়ানা চাচ্ছেন না বলে জানান তিনি। এদিকে, সম্পূরক এজাহার না নিলেও মামলার কোন তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে না। আসামীরা এলাকায়ই ঘোরাফেরা করলেও দীর্ঘ আড়াই মাসে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ মোশারফ হোসেন জানান, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে ঢাকা, সাভার, গাজীপুরসহ সন্দেহজনক স্থানে কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু আসামীরা আতœগোপণে থাকায় এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। খোঁজ পাওয়া মাত্রই তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। ক্রোকী পরোয়ানার জন্য ময়না তদন্ত রিপোর্ট প্রয়োজন, সেটা আসেনি বলে জানান ওসি। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ নিয়মানুযায়ী ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাঠাবে তা করা হয়নি।
অপরদিকে, মজনু হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে একাট্টা এলাকাবাসী। তারা মজনু হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান।

ব্রেকিং নিউজঃ