দেলদুয়ারে ব্রীজের এ্যাপ্রোচ ভেঙে গেছে ॥ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

75

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের এলেংজানী নদীর উপর ব্রীজের অ্যাপ্রোচ পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে গেছে। এছাড়া ব্রীজের নিকটেই অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করা হয়। অ্যাপ্রোচ ভেঙে জেলা ও উপজেলা শহরের সাথে এ এলাকার ৩০-৩৫ গ্রামের মানুষের সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৌকাযোগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন অসংখ্য মানুষ। হচ্ছে চরম ভোগান্তি। শুক্রবার (২২ জুলাই) বিকেলে সেতুর এক পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়।

জানা যায়, সম্প্রতি বন্যার শুরুতেই ব্রীজের আশপাশে নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়। সে সময় ব্রীজের অ্যাপ্রোচ অংশে ভাঙন দেখা দিলেও মানুষের চলাচলে তেমন কোন সমস্যা হয়নি। ইতোমধ্যে নদ-নদীর পানি কমে যাওয়ায় নতুন করে আবার নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে এলেংজানী নদীর উপর নির্মিত ব্রীজের অ্যাপ্রোচ অংশ ভেঙে পড়ে। এতে করে মূল রাস্তা থেকে ব্রীজটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
দেওলী ইউনিয়নের স্থলবর্ষা গ্রামের আব্দুল জলিল মিয়া টিনিউজকে বলেন, টাঙ্গাইল ও দেলদুয়ারে যাতায়াতের এক মাত্র সড়ক এটি। সেতুর অ্যাপ্রোচ ধ্বংসে যাওয়ার কারণে যানবাহনে প্রায় ৫-৬ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সময় ও ভাড়া বেশি লাগছে। অতি দ্রুত সেতুটির সংযোগ সড়ক মেরামত করার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। দেওলী গ্রামের তারেক মিয়া টিনিউজকে বলেন, নদীতে পানি বাড়ার সময় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেতুর সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ইউনিয়নের টেউরিয়া গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, সেতুর অ্যাপ্রোচ ভাঙার কারণে আমাদের কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে যেতে চরম কষ্ট হচ্ছে।

 

উপজেলার দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান তাহমিনা টিনিউজকে জানান, সেতুর অ্যাপ্রোচ ভেঙে যাওয়ার কারনে গ্রামের চলাচলকারী হাজারো মানুষের ভয়াবহ কষ্ট হচ্ছে। এটি আমাদের প্রধান সড়কের ব্রীজ। এছাড়া তিনি আরো বলেন ব্রীজের নিকটেই অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন করা হয়। ফলে মাটি সরে গিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

দেলদুয়ার উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল বাছেদ টিনিউজকে জানান, মানুষের ভোগান্তিতো হচ্ছেই। তারা অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরে কিংবা নৌকায় পার হচ্ছেন। ঢাকা থেকে মিস্ত্রি এনে সোমবার (২৫ জুলাই) থেকে ব্রিজের মেরামতের কাজ শুরু করার কথা রয়েছে। কাজ শেষ হতে কমপক্ষে ৩ দিন সময় লাগবে। পরে চলাচলের ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ