মঙ্গলবার, আগস্ট 4, 2020
Home টাঙ্গাইল দেলদুয়ার দেলদুয়ারে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস পালন

দেলদুয়ারে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস পালন

দেলদুয়ার প্রতিনিধি: দেলদুয়ার উপজেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বীজ বিস্তার ফাউনডেশানের আয়োজনে শুক্রবার (১৫মার্চ) বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস পালিত হলো দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে। দিবসটি ’র প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ”নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য”। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে র‌্যালী এবং আলোচনা সভা করা হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলপোল্ট্রি এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ শওকত আলী মোল্লা। প্রধান অতিথি ছিলেন দেলদুয়ারের সহকারী কশিশনার (ভুমি) সুফল চন্দ্র গোলদার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ইউসুফ হোসেন। এছাড়াও অংশগ্রহণ করেন দেলদুয়ার বীজবিস্তার ফাউনডেশান ফিল্ড অফিসার ফাহিমা খাতুন লিজা। এছাড়াও ভোক্তা কমিটির প্রতিনিধি, দেলদুয়ার আঃ জব্বার সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রবৃন্দ, দেলদুয়ার উপজেলার ৯টি গ্রামের খামারী, ডিলার ভোক্তাসহ অনেকে অংশগ্রহণ করেন।
প্রথমে একটি র‌্যালী উপজেলা পরিষদ হয়ে দেলদুয়ার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের মাঠে এসে শেষ হয়। আলোচনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বীজ বিস্তার ফাউনডেশান দেলদুয়ার উপজেলার ফিল্ড অফিসার কাম একাউন্টস অফিসার যোয়াকিম মাংসাং।
আলোচনার শুরুতে ফাহিমা খাতুন লিজা বলেন, আজ ১৫ মার্চ বিশ^ ভোক্তা অধিকার দিবস। দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় “নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য”। ১৯৮৩ সালে প্রথম ভোক্তা অধিকার দিবস উদযাপিত হয়। ইউএস প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি প্রথম বিশে^ নেতা হিসেবে আমেরিকান ভোক্তাদের ৪টি অধিকারের কথা বলেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী ভোক্তা মানসম্মত পণ্যের সেবা পাবেন। বীজবিস্তার ফাউনডেশান ডিলার, খামারীদের সাথে কাজ করছে। ভোক্তা কমিটি, বাজার কমিটির মাধ্যমে জয়েন্ট মনিটরিং এ ভাল ফলাফল দেখতে পাচ্ছি। খামারীরা বায়োসিকিউরিটি মেনটেন করে এন্টিবায়োটিক ছাড়া মুরগী পালন করে ভাল নিরাপদ মানসম্পন্ন মাংস ভোক্তাদের পৌঁছে দিচ্ছেন।
ভোক্তা কমিটির সদস্য আক্কাছ আলী মিয়া বলেন, সবাই যেহেতু ভোক্তা আগে নিজে নিরাপদ হবো। নিরাপদ মানসম্মত মাংস যেন আমরা খেতে পারি সেই লক্ষ্যে ভোক্তা কমিটি প্রচার প্রচারণা এবং মনিটরিং করছি। এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। সকলে সচেতন হলে গরীবের মাংস নিরাপদ হতে সময় লাগবে না।
খামারী ঝর্ণা বেগম বলেন, আমার যে মুরগীর খামার আছে। মুরগীর অসুখ হলে পশু ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ দেই। নিরাপদভাবে খামার পরিচালনা করি। বর্জ্য নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলি। দেলদুয়ারবাসী যেন নিরাপদ মুরগীর মাংস খেতে পারে তার উদ্দেশ্যে কাজ করছি ।
ইউসুফ হোসেন বলেন, আজকের প্রতিপাদ্য বিষয় ”নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য”। যারা পণ্য ক্রয় করে, ব্যবসায়ী সবাই ভোক্তা। আজকে প্রায় সব পণ্য ভেজাল হিসেবে আখ্যায়িত হচ্ছে। ২০০৯ সালের আইন জানতে হবে এবং প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে।
সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, আজ বিশ^ ভোক্তা অধিকার দিবস উদযাপিত হচ্ছে। যে কোন সেবা বা পণ্য ক্রয় করলে তার মান জানার অধিকার আছে। এই বিষযে সরকার আইন প্রণয়ন করেছেন। আমরা উন্নত বিশে^র দিকে যাচ্ছি। কোন পণ্যের মান বা মেয়াদউত্তীর্ণ কোন পণ্যের অভিযোগ থাকলে লিখিত আকারে আমাদের জানাবেন। আমরা প্রতিকারের ব্যবস্থা করব। বীজবিস্তার ফাউনডেশান খামারীদের নিয়ে খুব ভাল কাজ করছেন। আগামী প্রজন্মের জন্য সুস্থ সমাজ রেখে যাব। সেউ লক্ষ্যে আমরা সকলে মিলে কাজ করব।
মোঃ শওকত আলী মোল্লা বলেন, নিজেরা ভোক্তা হিসেবে সচেতন হতে হবে। খাদ্যের গুণগতমান ঠিক আছে কিনা পণ্য ক্রয়ের সময় দেখতে হবে। নিরাপদ খাদ্য খেলে আমাদের মধ্যে অনেক মেধা তৈরী হবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বীজবিস্তার ফাউনডেশান আমাদের ভাল রাখার জন্য কাজ করছে। নিরাপদ মাংস উৎপাদনে খামারীদের পরামর্শ দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে খামারীরা ভাল ফলাফল দেখতে পারছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

ব্রেকিং নিউজঃ