দেলদুয়ারে ডাকাত-এলাকাবাসী সংঘর্ষ ॥ ককটেল বিস্ফোরণে আহত ৪ জন

198

ডাকাতি-ছবিস্টাফ রিপোর্টারঃ
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার নাল্লাপাড়া গ্রামে সোমবার গভীর রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। বাড়ীর লোকজনের ডাকচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তাদের সাথে ডাকাতদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ডাকাতরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণে এক ডাকাত সহ চারজন আহত হন। আহতদের টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত ১০-১২ জনের একদল ডাকাত দেলদুয়ার উপজেলার নাল্লাপাড়া গ্রামের মোকাম ব্যাপারির বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতের আগমন টের পেয়ে বাড়ির লোকজন ডাক-চিৎকার শুরু করে। এতে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাতদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ডাকাতরা ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় এবং রাম-দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে থাকে। সংঘর্ষে ডাকাত দলের সদস্য ঢাকার কেরাণীগঞ্জের সবুজ মিয়া (২৮) আহত অবস্থায় এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকার হয়। সংঘর্ষে বাড়ির মালিক মোকাম ব্যাপারির ছেলে রফিকুল ইসলাম(২৬), একই গ্রামের মৃত আবেদ আলীর ছেলে শাহিন মিয়া(২৫) ও মৃত কাশেম আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম(৪০) গুরুতর আহত হয়। আহত ডাকাত সদস্য সহ অন্যদের টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বাড়ির মালিক মোকাম ব্যাপারীর স্ত্রী রূপবানু জানান, বাড়ির দেয়াল টপকে এক ডাকাত ভিতরে প্রবেশ করে ফটক খুলে দেয় পরে ডাকাতদের ৪-৫ জন ঘরের দরজা ভেঙ্গে অস্ত্রের মুখে বাড়ির সবাইকে জিম্মি করে ছয় ভরি স্বর্ণালঙ্কার সহ নগদ দেড় লাখ টাকা লুট করে। তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে ডাকাতদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যকক্ষদর্শীরা জানায়, ডাকাতদের সাথে সংঘর্ষের সময় ডাকাতরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ও এলোপাতারি কোপাতে থাকে। সংঘর্ষে গ্রামবাসীদের ৩ জন ও ডাকাতদলের এক সদস্য আহত হয়। এলাকাবাসীর প্রতিরোধে অন্য ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, আহত অবস্থায় ডাকাত দলের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ডাকাতির ঘটনায় সংঘর্ষের কথা স্বীকার করলেও ককটেল বিস্ফোরণের কথা অস্বীকার করেন তিনি।

ব্রেকিং নিউজঃ